কিভাবে জীবন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায়

কি আপনার জীবনে কাউকে আপনি খুঁজে পাচ্ছেন না ? কাউকে খুঁজে পাও আপনার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে । আপনি কি এমন একজনের সন্ধান করছেন যে আপনাকে সারাজীবন খুশি রাখবে । আর যদি তাই হয় তাহলে আজকের এই পোষ্ট টি আপনার জন্য । শান্ত হয়ে মনোযোগ সহকারে আমাদের এই পোস্টটি পড়ুন । জীবনসঙ্গী নির্বাচনে তাড়াহুড়া করবেন না । কানা জীবনসঙ্গী এমন একটি মানুষ যার সাথে আপনাকে সারা জীবন কাটাতে হবে । চলন জীবনসঙ্গী নির্বাচনের দুর্দান্ত কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক ।

 

জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার উপায়

 

সময় দিন – আপনি যত বেশি ডেটিং এবং সামাজিক করনের সময় ব্যয় করবেন আপনি ততটা নিজের পছন্দমত মানুষ খুঁজে পাবেন । যথাসম্ভব বন্ধু-বান্ধবদের সময় দেয়ার চেষ্টা । আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ততটা প্রোগ্রামে এটেন্ড করার চেষ্টা করুন । বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ইভেন্টগুলোতে অংশ নিন । হোক সেটা বার্থডে পার্টি বিয়ে কিংবা অন্য কোন সেমিনার । আপনি চাইলে বেশি বেশি ডেটিং সাইট অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্য নিতে পারেন । আপনার সঙ্গী নির্বাচনের জন্য সর্বাধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন উপায় হল পারস্পরিক বন্ধুত্বের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে । এজন্য আপনি আপনার বন্ধুর পর্যটকদের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করো আর এমন কোন মানুষের সাথে পরিচয় চেষ্টা করুন , যে মানুষগুলো আপনার পছন্দের সাথে মিলে যায় । আপনি যদি সারাদিন বাড়িতে থাকেন বাড়িতে কাজ করেন তাহলে আপনাকে বাসা থেকে বের হওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে । অন্য আশেপাশের মানুষের বাসায় ভিজিট করার চিন্তা করুন পারলে নতুন কোন সম্মেলনে যোগ দেন । আর আপনি যদি সারাদিন বাসায় বসে থাকেন তাহলে এই বিষয়টি আপনার জীবনকে আরও জটিল করে তুলতে পারে ।

 

সরাসরি বলুন – আপনি যদি সত্যি কাউকে ভালবাসেন ভাই এমন কাউকে চেনেন যাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে করতে চান তাহলে ব্যক্তিগত ভাবে নিজে গিয়ে তাকে সোজাসোজি জিজ্ঞাস করুন । এতে করে আপনার যেমন সময় নষ্ট হবে না ঠিক তেমনি সরাসরি তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন তার মতামত কি । সরাসরি কিছু বললে সরল প্রতিক্রিয়া জানাতে সহজ হয় । ধরুন কারো সাথে আপনি কথা বলছেন সেখান থেকে হাত আপনাকে চলে যেতে হতে পারে ঠিক যাওয়ার আগ মুহূর্তে তাকে বলুন এবং পরবর্তীতে আপনি তার সাথে কথা বলাতে আগ্রহী । এতে করে তার প্রতি আপনার আগ্রহ প্রকাশ পাবে । আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পান তাহলে আপনি অনেকখানি পিছিয়ে যেতে পারেন । তাই সরাসরি জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ তাহলে আপনি ফোন করে কিছু বলতে পারেন । যদিওবা এক্ষেত্রে সে মানুষটির নাম্বার পাওয়াটাও জরুরী । আবার আপনি চাইলে অনলাইনে কারোর ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করতে পারেন । এক্ষেত্রে আপনার বার্তার রিপ্লাই নাও আসতে পারে । তাই বলে হাল ছেড়ে বসে থাকলে চলবে না আপনি পুনরায় চেষ্টা করুন 2 থেকে 5 বার বার্তা পাঠান । আর তাতেও যদি কাজ না হয় তা হলেও কষ্ট পাবেন না । বরং লেগে থাকুন । এমনও হতে পারে সে ব্যক্তি টি আপনার বার্তার রিপ্লাই দিতে পারে । এবং পরবর্তীতে তিনি আবার তার পরিচিত অন্য কারো সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে দিতে পারে । হয়তো সেখানে আপনি আপনার জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে পারেন ।

 

তারিখ নির্বাচন করুন – জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ বিষয়টিও চলে আসে । আপনি যেমন বিভিন্ন ধরনের ইভেন্টগুলোতে জয়েন করার জন্য পরিকল্পনা করেন ঠিক তেমনি ভাবে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করুন । যদিও বা নির্দিষ্ট সময়ে কখনোই আপনার জীবন সঙ্গীর নাম খুঁজে পাবেন না । তারপরও তারিখ সময়ের প্রকাশ করুন । এবং সে তারিখ অনুযায়ী খোলামেলাভাবে তার সাথে কথা বলুন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং আপনার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখুন । আপনাকে যখন কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাস করা হবে তখন আপনি সত্য কথা বলুন। কখনোই প্রথম দেখায় আমি আপনাকে ভালোবাসি কথা বলবেন না কিংবা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ব্যাপারে তাকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না । কেননা যেখানে আপনার সম্পর্ক শুরু হয়নি সেখানে ভালোবাসা আসে কোথা থেকে কিংবা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতিও সেখানে ভিত্তিহীন ।

 

দায়িত্বশীল হওয়া – আপনি যদি জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে কোন ডেটিং অংশগ্রহণ করেন । আপনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি তার দায়িত্ব নিতে কখনোই পিছপা হবেন না । অর্থাৎ আপনি যে দায়িত্বশীল দায়িত্বশীল তা প্রকাশ করুন । প্রথম ডেটিংয়ে আপনি কখনোই অন্যের সমালোচনা কথা বলতে যাবেন না । এতে করে যার সাথে ডেটিং করতে যাচ্ছেন আপনি সে বিরক্ত হতে পারে আপনার প্রতি । প্রথম দেখা হওয়ার পর আপনি তাকে দ্বিতীয় দেখা কবে হবে তা জিজ্ঞেস করে নিন । এবং পরবর্তীতে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করার চেষ্টা করো । সে যেন বুঝতে পারে আপনি তার প্রতি কতটা আগ্রহী ।

 

অকেশন নির্বাচন করুন – এমন অকেশন নির্বাচন করুন যেখানে আপনি এবং সে দুজনেই খুব খুশি থাকবেন । হোক সেটা কার বার্থডে পার্টি বিয়ে ভালোবাসা দিবস অন্য কোন সময় । এসবল দিনগুলোতে যে কেউ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে । আর কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হলে আপনি নিজের কথাগুলো বলার সুযোগ পাবেন এবং তার কথাগুলো শুনতে পারবেন । এসকল ইভেন্টে আপনি চাইলে নম্বর সময় ধরে তার সাথে হাঁটতে পারেন, বা কফি পান করতে পারেন বা নিরিবিলি কোথাও বসে কথা বলতে পারেন । এমন কোন জায়গা নির্বাচন করুন যেখানে আপনি এবং সে দুজনই কম্ফোর্টেবল ফিল করবেন । সবচেয়ে ভালো হয় যদি ক্যান্ডেল লাইট দিনার এ দুজন বসে কথা বলতে পারেন । এমন যদি হয় আপনাকে নিজের থেকেই কেউ কোন ইভেন্টে আমন্ত্রণ করে তাহলে কখনোই না বলবেন না । বডরং তাকে এটা বোঝাতে চেষ্টা করেন যে , আপনি নিজেও চেয়েছিলেন যে তার সাথে কোন ইভেন্টে যোগদান করতে । এতে করে অপর ব্যক্তিটি খুশি হবেন ।

 

পড়াশোনা করুন – বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবনসঙ্গী নির্বাচন হয়ে থাকে স্কুল-কলেজ ইত্যাদি ক্ষেত্রে । এটি এমন এক জায়গা যেখানে সবাই নিজের মনের কথা অনায়াসেই প্রকাশ করতে পারে । যেখানে থাকে না কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব থাকেনা কোন লজ্জা থাকে না কোন ভয় । তাই বলে যাকে খুশি তাকে গিয়ে হুট করে কিছু বলে বসবেন না । আর তাছাড়া আপনি যখন পড়াশুনায় ভাল হবেন আপনার প্রতি তখন অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করবে । এক্ষেত্রে আপনার চাহিদার কথা তাকে বলতে পারবেন । আপনি যদি ভালোবেসে চলেন হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই , সবাই যেন আপনার পেছনে লাইন লাগিয়ে দেবে ।

 

নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন – আপনার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর খুব ভালো ভাবে খেয়াল রাখবে । কখনোই যেন নিজের স্বাস্থ্যের অযত্ন না হয় । এতে নিজের জীবন সঙ্গী খোঁজার তো কষ্ট হবেই অপরদিকে আপনার লাইফস্টাইলে ও এর প্রভাব বিস্তার করবে ।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *