কিভাবে পরিবারকে সুখী করা যায়

মানুষের সাথে পরিবারের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য । মানুষ সামাজিক জীব জীবন ধারনের জন্য যেমন তাকে সমাজে বাস করতে হয় । ঠিক তেমনি সমাজে ভালোভাবে চলতে গেলে পরিবার থাকাটা অতীব জরুরী । হোক সেটা ছোট পরিবার কিংবা বড় পরিবার । একটা পরিবার নানা কিছু সমন্বয়ে গঠিত হয় । যেমন ধরুন পিতা-মাতা ভাই-বোন দাদা-দাদি নানা-নানি খালা-খালু চাচা চাচি কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যরা । পরিবারের যে শুধু বড় হলে যে সুখের হবে এটা আবার কোন প্রয়োজন নেই । এমন অনেক পরিবারই দেখা যায় যে পরিবারগুলো বড় হওয়া সত্ত্বেও সে পরিবারগুলোতে অশান্তি লেগেই থাকে । তাই বলে যে ছোট পরিবারে অশান্তি নেই এরকমটা নয় । আপনি আপনার পরিবারকে কিভাবে সুখী রাখবেন আজকের পোস্টে আমরা তা নিয়ে আলোচনা করব ।

 

পরিবারকে সুখী রাখার উপায়

 

✅ পরিবারের সাথে সময় কাটান – পরিবারকে খুশি করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবারের সাথে বেশি বেশি সময় কাটানো । আপনি যখন পরিবারের মানুষগুলোর সাথে যত বেশি সময় কাটাবেন তাদের কাছাকাছি যাওয়া আপনার জন্য ততটা সহজ হবে । যখন আপনি আপনার পরিবার থেকে দূরে চলে যাবে তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবেন না। তখন লক্ষ্য করবেন যে আপনার পরিবার আপনার থেকে দূরে চলে গেছে । আপনাদের মধ্যে খানিকটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছে । আপনি যখন আপনার পরিবারের মানুষগুলোর সাথে সব সময় থাকবেন আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাবেন । তখন আপনি এবং আপনার পরিবার সকলেই সুখে থাকবেন ভালো থাকবেন । আপনার এটা মনে হতে পারে সারাক্ষণ পরিবারের সাথে সময় কাটানো আপনার পক্ষে সম্ভব নয় । কিন্তু তাই বলে একেবারে যে পরিবারের সময় থাকেন না এরকম কি কখনো জানো না । আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ততটা সময় দেবে পরিবারও যত বেশি সময় দিতে পারবেন ততো পরিবার বেশি খুশি হবে ।

✅ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ – একটি পরিবার গঠন কিংবা পরিবারের ঐতিহ্য বজায় জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি । যেখানেই শ্রদ্ধাবোধ থাকবে না সেখানে ভালোবাসা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক । আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের একজন কর্তাব্যক্তি থাকেন । আর যাই হোক সেই ব্যক্তিটিকে অবশ্যই সম্মান করবেন ‌ । আপনি যখন সে কর্তা ব্যক্তি কে সম্মান করবেন পরিবারের অন্য সদস্যরা তা দেখে অনুপ্রাণিত হবেন এবং তাকে সম্মান করবে । আর আপনার প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা প্রদর্শন করবেন । আর কারো প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা খারাপ কিছু নয় বরং এটি ব্যক্তিদের জন্য ভালো থাকুন । পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা অত্যন্ত জরুরী । হোক সে সদস্য ছোট কিংবা বড় । আপনি ভাবতে পারেন ছোটদের খাবার শ্রদ্ধাবোধের কি আছে ? না আপনি একদমই ভুল ভাবছেন । ছোট থেকে বড় সকলেই শ্রদ্ধা বিষয়টি প্রাপ্য । তাই পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং ভালোবাসা রেখে পরিবারকে খুশি রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন । তাহলে আপনি নিজেও খুশি থাকবেন তারাও খুশি থাকবে ।

✅ বিপদে পাশে থাকুন – আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কোনো না কোনো সময়ে বিপদ চলে আসে । এমন কেউ পৃথিবীতে নেই যে তার জীবনে কখনো বিপদ বা সমস্যা আসে নি । কিন্তু তাই বলে কারো সমস্যা হলে তার থেকে দূরে চলে যেতে হবে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে এরকমটা নয় । আপনার সমস্যা সমাধান না করতে পারলে নাই কিন্তু তার পাশে থাকলে সেই ব্যক্তিটি অনেক শক্তি পাবে । আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের নানা ধরনের বিপদ আসে । আর পরিবারের বিপদ আসাটা অস্বাভাবিক কিছু না এটা স্বাভাবিক একটি ঘটনা । পরিবারের কোন বিপদে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে এগিয়ে চলো মোকাবেলা করুন । তাহলে দেখবেন সমস্যা অনেকখানি হালকা হয়ে গেছে । এতে করে আপনার পরিবারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে । তারা খুশি হবে এই ভেবে যে তাদের পরিবারে আপনি একজন সক্রিয় ব্যক্তি । আপনি ভাবুন তো আপনি কোন একদিন একটা বিপদে পড়েছেন আপনার পরিচিত কেউ এসে আপনার পাশে দাঁড়ালো । আপনার কি রকম লাগবে । আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনার ভেতর থেকে অনেক শান্তি এবং সাহস অনুভূত হবে । যা যেকোনো ব্যক্তির জন্য অনেক আনন্দে । তাই পরিবারকে খুশি করতে হবে পরিবারের যে কোন সমস্যা বা বিপদে পরিবারের পাশে থাকুন ।

 খোঁজখবর নিন – পরিবারের প্রতিটি সদস্যের খোঁজখবর নেয়া আপনার দায়িত্ব । আপনি কখনো এটা ভাববেন না যে আপনি আপনি দয়া করেন আপনার পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন । আপনি যে খোঁজখবর নিচ্ছেন পরিবারে এই বিষয়টি পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রাপ্য । একই বাসায় আছেন অথচ আপনার বাবা-মা কে বলছেন না বাবা আজকে তোমার শরীরটা কেমন আছে, মা তূমি ভালো আছো তো । মা চলতো তোমাকে ডাক্তার দেখাই । তোমার কি কিছু লাগবে । এই ছোটখাটো বিষয় গুলো বলতে তেমন কোন সময় লাগে না অথচ আমরা বলি না । আমার মতে এই ছোট ছোট কথাগুলি যদি কাউকে খুশি করে তাহলে কেন বলবেন না অবশ্যই বলবেন । আর আপনার অবশ্যই বলা উচিত । আপনার বাবা প্রতিদিন বাজার করে । তাকে মাসে অন্তত দুবার বলুন না আমি বাজার করি আসো তুমি বাসায় বসে রেস্ট করো । বাসার অন্যান্য কাজে সহায়তা করুন নিজের ঘর নিজে পরিস্কার করুন । বাসায় ছোট ভাই বোন থাকলে তাদের হোমওয়ার্ক কিংবা অন্য দিকে খেয়াল রাখুন । তাহলেই দেখবেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য গুলো অনেক অনেক খুশি হয়েছেন । আর তখন আপনি নিজেও আত্মতৃপ্তি পাবেন ।

✅ সারপ্রাইজ দিন – আপনি ভাবতে পারেন পরিবারের সদস্যদের আবার সারপ্রাইজ দেয়ার কি আছে । তাহলে বলতেই হয় সারপ্রাইজ কি শুধু আপনার গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড কিংবা স্বামী স্ত্রীর জন্য । বাবা মার জন্য নয় ছোট ভাই বোনের জন্য নয় চাচা-চাচী খালা-খালু দাদা-দাদী এদের জন্য নয় । আপনার বাবা-মা বয়স হয়ে গেছে । তাদেরকে হয়তো কেউ আগের মত সময় দেয় না । এমনকি তারা আগের মত শারীরিকভাবে ফিট নয় । তাইতো দায়িত্ব এখন আপনার তাদেরকে খুশি করা তাদেরকে আনন্দে রাখা । আপনার বাবা-মা চশমা পরেন ? আপনি একদিন হঠাৎ করে নতুন একটি চশমা এনে তাকে সারপ্রাইজ দিন । দেখবেন আপনার বাবা-মা কত খুশি হবেন, যা আপনি কল্পনাও করতে পারবে না । হঠাৎ কোন একদিন আপনার বাবা-মার পছন্দের কোনো খাবার বাজার করে আনন্দ । আপনার ছোট ভাই বোনদের জন্য হঠাৎ কিছু কিনে এনে তাদেরকে উপহার দিন । দেখবেন বাচ্চারা সেগুলোতে পুরো পরিবার মাতিয়ে তুলবে । আর একটা পরিবারে একটা বাচ্চা যদি আনন্দে থাকে তাহলে সেই বাচ্চাটা পুরো পরিবারকে আনন্দ দিতে সক্ষম । তাই বাচ্চাদের প্রতি এক্সট্রা কেয়ার নেবেন ।

✅ বাহিরে ঘুরতে যান – আমাদের মধ্যে এরকমটা লক্ষ করা যায় যে আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব বেশি বাহিরে বের হইনা । যা সত্যি খারাপ একটি বিষয় । আমাদের উচিত আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে মাসে অন্তত একবারের জন্য বাহিরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া । আপনি চিন্তা করে দেখুনতো কবে শেষ আপনি আপনার পরিবারের সঙ্গে বাহিরে বের হয়েছিলেন । আমি নিশ্চিত আপনি মনে করতে পারবেন না যে কবে শেষ আপনি তাদের সাথে বের হয়েছিলেন । তাই বলছি পরিবারের সাথে বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার কথাটা একেবারেই ফেলে দিবেন না । পরিবারকে খুশি করার অন্যতম একটি মাধ্যম এটি । আপনি যেমন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বাহিরে গেলে যতটা খুশি হন । ঠিক তেমনি পরিবারের সদস্যরা আপনার সাথে যখন বাহিরে যাবে তারাও খুশি হবেন ।তাই কষ্ট করে হলেও সময় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাহিরে বের হওয়ার চেষ্টা করুন এতে খুশি খানিকটা বৃদ্ধি পাবে ।

✅ কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন – আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যে পরিবারের কেউ কথা বললে তা মনোযোগ দিয়ে শুনি না । যা সত্যি খারাপ একটু অভ্যাস । পরিবারের যে কেউ যখন আপনাকে কিছু বলবে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন । যেন যে ব্যক্তিটি আপনার সাথে কথা বলছে তিনি যেন মনে না করেন যে আপনি তাকে খেয়াল করেন না । বা আপনি তাকে মানেন না । তখন তিনি ভাবছেন তার প্রতি আপনার ভালোবাসা কমে গেছে । আপনি আর তাকে শ্রদ্ধা করেন না । একবার চিন্তা করুন তো আপনি কারো সাথে কথা বলছেন কিন্তু সেই ব্যক্তিটি আপনাকে পাত্তাই দিচ্ছে না । কেমন লাগবে আপনার তখন । আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনার অনেক রাগ হবে, অনেক কষ্ট পাবেন আপনি । আপনার যদি এরকমটা লাগে তাহলে মাথায় রাখুন আপনার পরিবারের সদস্যদেরও ঠিক একই রকম লাগবে । তাই পরিবারের সদস্যরা যখন আপনাকে কিছু বলবে তা মনোযোগ সহকারে শোনার চেষ্টা করুন । এবং আপনি পারতপক্ষে তাদের সাথে সহমত পোষন করার চেষ্টা করুন ।

✅ অর্থনৈতিক বিষয়টি বিবেচনা করুন – আপনি বড় হয়ে গেছেন কিন্তু পরিবারে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সাপোর্ট করছেন না । পুরো পরিবার আপনার বাবা মার উপর ছেড়ে দিয়েছেন । তারা অনেক কষ্ট করে পরিবার পরিচালনা করছেন । কিন্তু সেদিকে আপনার কোন খেয়ালই নেই । এরকমটা কখনোই হওয়া উচিত নয় । যতটা পারবেন আপনার পরিবারের অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করবেন । আর যদি কিছুই না করতে পারেন তাহলে অযৌক্তিক টাকা নেয়া বন্ধ করুন । তাহলে আপনার পরিবারের সদস্যরা মনে করবেন আপনি টাকা দিতে পারছেন না তো কি হয়েছে আপনি তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারছেন । আর তাই অযৌক্তিক টাকা আপনি আর নিচ্ছেন না । অর্থনৈতিক বিষয়টি পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ । কোন পরিবারে যদি অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা দেখা দেয় তাহলে সে পরিবারে অশান্তি বাসা বাঁধে । তাই পরিবারকে স্বচ্ছ রাখতে কিছু না কিছু করুন পরিবারে অর্থনীতি কন্ট্রিবিউট করুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *