শক্তিশালী মেয়ে হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার উপায় ( Ways to build up yourself as a strong girl )

স্বাভাবিকভাবে একজন মেয়ে একজন পুরুষের তুলনায় কম শক্তিশালী হয়ে থাকে । এর অন্যতম কারণ হলো শারীরিক গঠন ও সামাজিকতা । তবে একজন পুরুষের তুলনায় একজন মেয়েকে হওয়াটা বেশি জরুরী । শক্তিশালী হওয়া মানে এই নয় যে একজন মেয়ে সেভাবে আপনাকে সারাক্ষণ মারপিট করতে হবে । আপনাকে বডি বিল্ডার হতে হবে । শক্তিশালী বলতে খানেতেই বোঝানো হয়েছে যে একজন মেয়ে হিসেবে শারীরিকভাবে সুস্থ এবং সক্ষমতাকে । আমাদের সমাজে একজন পুরুষের তুলনায় একজন মেয়ের ঝক্কি ঝামেলা তথা বিপদে পরিমাণ অনেকাংশে বেশি । আমাদের সমাজে একজন মেয়েকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । অনেক সময় এসব সমস্যা একটি মেয়ের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম । তাই একজন মেয়েকে এক শক্তিশালী হওয়া টা অত্যন্ত জরুরি । একজন মেয়ে হিসেবে আপনি যদি শক্তিশালী করে নিজেকে গড়ে তুলতে না পারেন তাহলে আপনি সমাজে অনেকখানি পিছিয়ে পড়বে । আরে সমাজ কখনো আপনাকে ওপরে উঠতেতে দেবেনা । আপনাকে পুরুষ শাসিত সমাজে সে পুরুষের পায়ের নিচে থাকতে হবে । তাই আপনাকে অবশ্যই নিজেকে শক্তিশালী করে করে ধরতে হবে । আর এজন্য আপনাকে শারীরিক মানসিক অর্থনৈতিক সামাজিকদিক সহ অন্যান্য সকল দিকে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে । যখন আপনি শক্তিশালী হয় নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন তখনই আপনার সমাজে নিজের জায়গা আছে বলে মনে । তখন আপনি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন । আগের ভিতর চলাফেরা করতে পারবে । আমাদের আজকের এই ব্লগপোস্ট থেকে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব যে কিভাবে একজন মেয়ে হিসেবে নিজেকে শক্তিশালী ভাবে নিজেকে গড়ে তুলবেন । চলুন তাহলে দেরি না করে শুরু যাক ।

 

নিজেকে কিভাবে শক্তিশালী মেয়ে হিসেবে

গড়ে তোলা যায়

 

✅শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করুন – শারীরিক ক্ষমতার দিক থেকে একজন মেয়ে পুরুষের তুলনায় অনেক পিছিয়ে । আপনি একটু লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন যে একজন পুরুষ যে কাজগুলো করতে পারে সে কাজগুলো একজন মেয়ে নির্বিঘ্নে করতে পারে না । একজন মেয়ে অল্পতেই নিজের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে । ধরুন একজন পুরুষ মাটি কাটছেন । আবার একই মাটি কি একজন মহিলা ঠিক পুরুষের মতো কাটতে পারবেন । না কখনোই তা পারবেন না । এর অন্যতম কারণ হলো শারীরিক সক্ষমতার অভাব । এখন হয়তো আপনি বলতে পারেন বর্তমান যুগে গ্রামেগঞ্জে অনেক জায়গায় দেখা যায় নারী-পুরুষ উভয়ই মাটি কাটছেন । তার মানে কি উভয়ের শারীরিক সক্ষমতা একই ? আমি বলবো না কখনোই না । যেসব জায়গায় নারী পুরুষ উভয় মাটিকাটার কাজ করছেন তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক নারী অবদান বিদ্যমান । আর এ বিষয়টি আপনি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন । এবার আসা যাক আপনি কিভাবে নিজের শারীরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবেন । শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই একজন নারীকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে । আমাদের দেশে পুরুষ আছে তো সমাজে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক কম পুষ্টিকর খাবার খেয়ে থাকেন । মূলত নারীরা না খেয়ে পুরুষদের খাইয়ে থাকেন । আর এর ফলে নারীদের পুষ্টি ঘাটতি দেখা দেয় । তাই শক্তিশালী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে অবশ্যই আপনাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেমন ধরুন দুধ ডিম মাংস সবুজ শাকসবজি ফলমূল ইত্যাদি ।

 

✅পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমশরীর সুস্থ রাখার জন্য ঘুমের বিকল্প নেই । আর আপনি যদি চান নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে তাহলে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমোতে হবে । না হলে আপনি কখনোই শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারবে । আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের সারাদিন সংসারের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন । সারাদিন এতটাই পরিশ্রম করেন যে বিশ্রাম এর কথা একেবারে ভুলে যান । কিন্তু নারী হিসেবে আপনাকে শক্তিশালী করতে ঘুমকে প্রাধান্য দিতে হবে । নারী কিংবা পুরুষ উভয়েরই ন্যূনতম সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন । আর আপনি যদি নিজেদের শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই রাতে অন্তত আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে । না হলে আপনি নানাদিক থেকে অসুস্থ হয়ে পড়বেন । আপনার এখন মনে হতে পারে আপনার তো ঘুমালে মোটা হয়ে যেতে পারেন । তাহলে আপনাকে বলব সারা পৃথিবীর মানুষ তাহলে মোটা হয়ে যেত , চিকন মানুষ আর থাকত না । তবে হ্যাঁ অতিরিক্ত ঘুম শরীরের ক্ষতির কারণ হতে পারে । তাই বলে আট ঘণ্টা ঘুম কখনোই আপনার শরীরের জন্য অতিরিক্ত নয় । আপনার মনে হতে পারে নারী হয় এত আরাম করা মানায় না । সেই আপনার জন্যই বলছি সমাজের কথা না চিন্তা করে নিজের শরীর কথা একটু চিন্তা করুন ।

 

✅একটানা কম্পিউটার মোবাইল ব্যবহার করবেন না – বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার অথবা মোবাইল যেন মানুষের সাথে ছড়িয়ে রয়েছে । মানুষ এক মুহূর্ত যেন কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ছাড়া থাকতে পারে না । এ যেন এক মধুর মিলন বন্ধন । কিন্তু এই মিলবন্ধন আপনার শরীরের ক্ষতি কারণ হতে পারে । অতিরিক্ত মোবাইল কিংবা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে আপনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে । সুখে যদি আপনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে কখনোই আপনি নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন না । আমাদের মধ্যে এমন মহিলা অনেকেই আছেন যারা চাকরি করছেন । আর চাকরির কারণে হয়তো আপনাকে সারাক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে । তাই হয়তো আপনি কম্পিউটার থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারছেন না । আপনার জন্য বলছি আপনাকে একেবারে কম্পিউটার চালানো বারণ করা হয়নি । কম্পিউটার চালানোর ফাঁকে ফাঁকে প্রতি দুই-তিন ঘণ্টা পরপর চারপাচ মিনিটে একটা ব্রেক নিন । এবং সেই ব্রেকে আপনি এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন । এতে করে আপনার ক্লান্তি ভাবটা কমে যাবে । এবং আমি শারীরিক ভাবে নিজেকে সতেজ মনে করবেন । তাই একটানা মোবাইল কিংবা কম্পিউটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন ।

 

✅ব্যায়াম করার জায়গা নির্বাচন করুন – আমাদের সমাজে নারীদের ব্যায়াম করা কে তেমনভাবে সম্মতি দেয়া হয় না । এমনকি আমাদের সমাজের মেয়েরাও ব্যায়াম করতে লজ্জাবোধ করে । অথচ ব্যায়াম অতি সাধারণ একটি বিষয় । এতে লজ্জা বা খারাপ লাগার কিছু নেই । একজন মানুষ হিসেবে ছেলে মেয়ে উভয়েই পারে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে । আর নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ব্যায়াম করতে হবে । ব্যায়াম করার জন্য আপনাকে শুধু ফিটনেস সেন্টারে যেতে হবে এমন কোন কথা নেই । আপনি বাসায় ব্যায়াম করতে পারেন । অনলাইনে অনেক ধরনের টিউটোরিয়াল রয়েছে যা দেখে আপনি বাসায় ওয়াকআউট করতে পারেন । আর যাদের ফিটনেস সেন্টারে গিয়ে ব্যায়াম করতে বাধা নেই তারা চাইলে ফিটনেস সেন্টারে কি ব্যায়াম করতে পারেন । এছাড়াও আপনি বিভিন্ন পার্কে গিয়ে সকাল-বিকাল হাঁটতে পারে । প্রতিদিন 30 থেকে 40 মিনিট হাঁটা তাও এক ধরনের ব্যায়াম । আপনি যেহেতু নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে চান আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি ঠিক কি করতে চান । আপনাকে আপনার ব্যায়াম অনুশীলণ আরে জায়গাটা নির্বাচন করতে হবে আপনার পছন্দমত এবং সুবিধামতো ।

 

✅অতিরিক্ত চাপ নেবেন না – আমাদের এই সমাজে নারীরা সারাক্ষন কোন না কোন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন । তারা প্রতিনিয়ত এই কিছু না কিছু করছেন । তাই এটা বুঝতে পারো না যে অতিরিক্ত চাপ নেয়াটা নিজের শরীর জন্য কতটা ক্ষতিকর । একজন নারী হিসেবে জন্ম নিয়ে আপনাকে যে শরীর খারাপ কোন কাজ করে যেতেই হবে এরকম কিছু নেই । এমন কোন কাজ করবে না যা তার অতিরিক্ত চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । ততটুকুই কাজ করো যতটুকু আপনার শরীর নিতে পারবে । এমন অনেক নারী আছেন যারা শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও পরিবারের লোকজনের সেবা করছেন । তারা সাংসারিক কাজ থাকে নিজের একটা চাকরির হিসেবে গ্রহণ করে ফেলেছেন । না বিষয়টা বুঝতে পারে না যে ছোট ছোট শারীরিক অসুস্থতা থেকে একদিন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে । তাই আপনাকে বলছি নিজেকে যদি শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চান তাহলে অবশ্যই অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করাটা বন্ধ করে দিন ।

 

✅দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন – আপনি জীবনে আপনার যা কিছুর পরিবর্তন করেন না কেন, শুরুতেই আপনাকে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে । সমাস কী ভাবছে সমাজ কি বলবে ধরনের মন মানষিকতা নিয়ে আপনি কখনোই নিজেকে বদলাতে পারবেন । আপনাকে অবশ্যই মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে । আপনাকে মানসিকভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে আপনি অবশ্যই যে কাজটি করতে যাচ্ছেন তা করতে পারবেন । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে । আপনি নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গেলে নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি আসবে । সেই বাধা-বিপত্তি গুলো উপেক্ষা করে আপনাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা অর্জন করতে হবে । আর আপনি যদি মনে করেন সে সব বাধা-বিপত্তি আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না তাহলে শুরুতেই আপনি হেরে গেলেন । তাই শুরুতেই আপনাকে আপনার নিজের মন মানসিকতা পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি ।

 

✅নিজেকে সময় দিন – সর্বোপরি নিজে নিজেকে সময় দিন । সারাক্ষণ কাজ করব নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখবেন না । নিজেকে খানিকটা সময় দেওয়ার চেষ্টা করো । অবশ্যই আপনি যা করতে যাচ্ছেন সে সম্পর্কে ভাবাটা জরুরি । আর তাই কোন কিছু চিন্তা করার জন্য অবশ্যই নিজেকে সময় দিতে হবে । নিজেকে সময় দেয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করুন । আপনার অনুভূতি গুলো সম্পর্কে যখন অস্পষ্ট ধারণা পাবেন তখন আপনার সব ধরনের সমস্যা আপনি করতে পারবেন । তাই নিজেকে যথাসম্ভব সময় দিন ।

 

✅ভালো সময় কাটানোর চেষ্টা করুন – আমাদের জীবনে ভালো সময় কাটানোটা কতদূর জরুরী । অবশ্য এই ভালো সময় কাটানোটা অনেকের জন্য দুঃসহ হয়ে পড়ে । এমন অনেকের কাছে শুনতে পাওয়া যায় যে তারা জীবনে কখনো ভালো সময় কাটাননি । যা সত্যিই দুঃখের একটি বিষয় । আপনি নিজেকে সাবলীল করে গড়ে তুলতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভালো সময় কাটাতে হবে । ভালো সময় কাটানোর নানা উপায় রয়েছে । যেমন ধরুন কেউ বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে ভালো সময় কাটিয়ে থাকে । আবার কেউ সিনেমা দেখে , আবার কেউ পছন্দের মানুষটির সাথে সময় কাটিয়ে । আপনার যেখানে ভালো লাগে যেখানে আপনি ভালো থাকেন যেখানে থাকলে আপনার সময়টা ভালো কাটে সেখানে থাকার চেষ্টা করুন । এতে করে আপনার মানসিকতা পরিপূর্ণ বিকাশ কর এবং আপনি মানসিক শান্তি অনুভব করবেন ।

 

✅অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করুন – একজন মেয়ে হিসেবে আপনি পুরুষের থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম একটি কারণ হলো আপনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না । পুরুষশাসিত সমাজে মেয়েরা সাংসারিক কাজে নিজেকে বিরত রাখে । আরে সাংসারিক কাজ করার ফলে সে কোন পারিশ্রমিক পায় না কিংবা আশা করে না । এর ফলে সেই মহিলাটি পুরুষের থেকে অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে । অথচ মেয়েদের নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে স্বাবলম্বী হওয়া অত্যন্ত জরুরি । তাই আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি যারা নিজেকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায় তারা অবশ্যই অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে সাবলম্বী করে গড়ে তুলুন ।

 

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রত্যেকটি মেয়েকে স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করা জরুরী । কেননা যে সমাজে নারীরা অর্ধেক সে সময় যদি নারীরা পিছিয়ে থাকে তাহলে সেই সমাজের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয় । তাই সমাজ বা বিশ্ব ব্যবস্থায় নিজেদের অবদান রাখতে প্রত্যেকটি নারীকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলাটা অথচ । যারা নিজেকে স্বাবলম্বী কিংবা শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চান তাহলে তাহলে উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী । আজকের পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *