শুধু পরিশ্রম করলেই ব্যবসায় সফল হওয়া যায় না ( Business cannot be successful just by working hard )

একটা ব্যবসায়ীর মধ্যে 90 টা ব্যবসায়ী ফেল হয় । এ কথাটা জানার পরও অসংখ্য মানুষ রোজ এই খেলায় মেতে উঠেন । তারা ভেবেই নেয় যে তাদের ব্যবসা টা হয়তো প্রতিষ্ঠা কোন এক ব্যবসায় পরিণত হবে । আর আপনি যদি তাদের মধ্যে একজন হন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ।

এবার আসা যাক মূল কথায় , অনেক রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে আপনার ভাল আইডিয়া আর পরিশ্রম শুধুমাত্র সফলতা এনে দিতে পারবে না আপনার ব্যবসার জন্য । পরিশ্রম আর ভালো আইডিয়া ছাড়াও অনেক কিছুই রয়েছে যা একটা ব্যবসার ব্যবসার জন্য বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে থাকে । যেমন ধরুন আপনার সমাজে আপনার অবস্থানটা কোথায় রয়েছে, আপনি কতখানি চালাক, আপনার ব্যক্তিত্ব কি রূপ ইত্যাদি । এগুলো কারণেই আপনার আইডি আছে সব সময় সফল হবে এটা ভাবার অবকাশ নেই ।

এবার আপনার জন্য একটি ভাল সুসংবাদের কথাবলি । আপনি যেরকম ব্যক্তিত্বের মানুষই হোক না কেন আপনার কাছেও রয়েছে এক ধরনের ইউনিক আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ । যা আপনাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করবে । একবার যদি আপনার সেই আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ চিহ্নিত করতে পারেন তাহলেই আপনি সফলতা বহু কাছাকাছি যেতে পারবেন , আর আপনাকে বাধা দেয়ার মতো কেউই । আর সেই আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ খুঁজে বের করার জন্য কিছুই স্মার্ট আইডিয়া আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব চলুন তাহলে শুরু করা যাক ।

শুরুতে যে স্মার্ট আইডিয়ি কথা বলব তা হল আপনি যেই হোন না কেন আপনার কাছে রয়েছে এক ধরনের আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ । কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অ্যাডভান্টেজ টা অনেক কমন বিষয় । যেমন ধরুন কোন ধরনের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা অথবা সুন্দর চেহারার অধিকারী হওয়া । এর একটা ভালো উদাহরণ হতে পারে স্ন্যাপচ্যাটের সহকারি ফাউন্ডার Evan Spiegel । এই ব্যক্তি মাত্র 25 বছর বয়সে একজন কোটিপতি হয়ে উঠেছিলেন । আর এই ব্যক্তি ধনী পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন । আর তাই তার শুরু থেকে নানা ধরনের সুবিধা ছিল । যেমন ধরুন টাকা পয়সা, সাকসেসফুল ব্যবসায়ীদের সাথে উঠাবসা করা , বিভিন্ন তাহলে বড় বড় ইনভেস্টরদের সাথে পরিচিতি ইত্যাদি । যদিও বা স্ন্যাপচ্যাট সত্যিই ভালো একটা ব্যবসায়িক আইডিয়া ছিল তারপরও তা এ ধরনের আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ এর কারণে খুব অল্প সময়ে স্ন্যাপ চ্যাট সফলতা পেয়েছে । এখন আপনি ভাবতে পারেন যে আপনার যদি বড়লোক কোন বন্ধু-বান্ধব কিংবা বড় পরিবারে জন্ম গ্রহণ না করেন তাহলে কি আপনি বড় কোনো ব্যবসায়ী হতে পারবেন না ? না এটা একদম না । শুধুমাত্র সুন্দর চেহারার অধিকারী কিংবা ধনী হওয়া ছাড়াও আরও বেশ কিছু আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ রয়েছে যা চোখের সামনে থাকে না ঠিকই আড়ালে থেকে যায় ।

এরপরে যে আইডিয়ার কথা বলব তা হল টাকাই সব কিছু না ঠিকই সাহায্য প্রচুর করে । আপনারও কি এরকম মনে হয় যে আপনার কাছে যদি প্রচুর টাকা থাকতো তাহলে আপনার জন্য ব্যবসা করাটা খুব সহজ হয়ে যেত । আপনার কি ধারণা পুরোপুরি ভুল না । ব্যবসার শুরুতে আপনার প্রতি যদি ভালো থাকে সেটা অনেক খানি আপনার ব্যবসার জন্য আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ দিয়ে থাকে । কেননা বেশিরভাগ ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার লাভ অনেকদিন পর থেকে দেয়া শুরু করে । আর ততদিন অব্দি ব্যবসা চালানোর জন্য আপনার ব্যবসা কাজে নিয়োজিত কর্মচারী বেতন , দোকান ভাড়া , ইলেকট্রিক বিল ইত্যাদি আরও সঙ্গে খরচ চালানো বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে । যদি না আপনার সে ধরনের পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকে । আর এগুলোর জন্য একজন ব্যবসায়ী শুরুতেই বেশকিছু অর্থ প্রয়োজন হয় আর এটা স্বাভাবিক । সাধারণত এটা ধরে নেয়া হয় যে কোন ব্যবসা চালানোর জন্য আপনাকে 6 থেকে 18 মাসের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে । আর তবেই একটি ব্যবসায় নামা উচিত । উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে , Jan Koum এর কথা । এই ব্যক্তি যখন হোয়াটসঅ্যাপ ডেভলপের কাজ শুরু করেন তখন তার কাছে শুরু থেকেই চার লাখ ডলারের পুঁজি জমা ছিল । যদিও বা এই ব্যক্তির মত আপনার কাছে অত টাকা না থাকে তাহলে তেমন কোন সমস্যা নেই । তবে এরকম কোন ব্যক্তির সঙ্গে আপনার অবশ্যই পরিচিত থাকা ভালো যার আপনার ব্যবসার কাজে অর্থ বরাদ্দ দেবেন । যেমন ধরুন মার্ক জুকারবার্গ । আর তিনি এই আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের থেকে টাকা সংগ্রহ করেন 50 হাজার ডলার । মোটা অর্থের পুঁজি যদি আপনার থাকে তাহলে যেমন ব্যবসার শুরুতে আপনাকে সাহায্য করে ঠিক তেমনিভাবে কোনোভাবে যদি আপনি ব্যবসায় টিকে না থাকতে পারেন সেক্ষেত্রেও আপনাকে যথেষ্ট রকমভাবে সাপোর্ট দেয় । আর যারা ভীষণ রকম ধনী ব্যক্তি তাদের যদি বড় রকমের অর্থের ক্ষতিও হয় তাহলেও তাদের লাইফস্টাইলে তেমন কোন প্রভাব পড়ে না । যে কারণে তারা অনেক সহজেই ঝুঁকি নিতে পারে ।এবার আপনি একথা ভেবে যদি মন খারাপ করে বসে থাকেন আর ভাবতে থাকেন ভাই আমার কাছে তো প্রচুর টাকাও নেই না আমার বড়লোক কোন বন্ধু বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্য হয়েছে যারা আমাকে টাকা ধার দিবেন । ব্যবসা করতে গেলে যে আপনাকে অনেক টাকা থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই । যাদের টাকা কম তারা এমন কোন ব্যবসা করবেন যেখানে শুরুতে পুঁজি কম লাগে ।

এরপরের যে আইডিতে কথা বলব তা হল EQ । EQ & IQ দুটোই আপনার ব্যবসাকে সফল করার জন্য শুরুতে ভীষণ রকম হবে সাহায্য করে থাকে । আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন অনেক বন্ধু-বান্ধব রয়েছে যারা খুব সহজেই সবকিছু বুঝে যেত । অর্থাৎ তারা অল্পতেই অনেক ধরনের জটিল সমীকরণ বুঝে ফেলত । আর কি ধরনের ব্যক্তিরা যদি বিজনেসের জন্য চেষ্টা করে তাহলে তাদের সফলতা হার অনেক বেশি। কেননা ব্যবসা শুরুর জন্য আপনাকে প্রতিদিন নতুন নতুন জিনিস শিখতে হবে । তাই যারা নতুন কিছু খুব তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করতে পারে তাদের জন্য ব্যবসা করাটা বেশ সহজ হবে । আর এই বিষয়টি একধরনের আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ । আর উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে Collision দুই ভাইয়ের কথা । আর তারা চালু করেছিল অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি যার নাম Stripe । 18 বছর হওয়ার আগেই এই দুই ভাই দু ধরনের ব্যবসা চালু করেছিল । যা অফিশিয়ালি কোটিপতিতে পরিণত হয়েছিল । Patrick Collision মাত্র 10 বছর বয়সেই প্রোগ্রামিং শিখে গিয়েছিলো । পরবর্তীতে মাত্র 16 বছরের মধ্যেই এক ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ডেভলপ করে ফেলেছিলেন । অন্যদিকে Jhon Collision তার স্কুল থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন । যদিও বা পরবর্তীতে তার সেই নাম্বার কাজে আসেনি কেননা পরীক্ষার ফলাফল বের হবার আগেই হারভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তার অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ করা হয়েছিল । তাই বলে একটা ব্যবসা সফলতার জন্য শুধুমাত্র higher IQ দরকার এরকম টা না সাথে সাথে higher EQ থাকাটাও জরুরি । আপনারও কি এরকম বন্ধু রয়েছেন যারা নিজের কথা দিয়ে খুব সহজেই অন্য মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে । এমনকি তাদেরকে কেউ খুব সহজেই বোকা বানাতে পারে না । আর যদি এমন কেউ থেকে থাকে তাহলে আপনার উচিত হবে তার কাছ থেকে কিছু শেখা । কেননা এই ধরনের স্কিল গুলো ব্যবসাক্ষেত্রে ভীষণ রকম ভাবে কাজে লাগে ।

এর পরবর্তীতে যে আইডিয়া কথা বলব তা হল ইউনিক আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ খুঁজে বের করার জন্য কাস্টমারে পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করতে হবে । আপনি যখন আপনার কাস্টমার এর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে চিন্তা করবেন তখন অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পাবেন । যেমন ধরুন will shu এর কথা । এই ব্যক্তি তার কর্মচারীদের নিজের বাইকে করে ঘুরতেন । এমনকি তার খাবার ডেলিভারি ব্যবসা শুরুতেই তিনি নয় মাসের মত নিজেই ডেলিভারি বয় কাজ করছিলেন । যেন তিনি তার প্রতিটা কাস্টমার থাকে সব ধরনের ফিডব্যাক পেতে পারেন । আর এভাবে তিনি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন যে একজন ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কি কি সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে ‌ । এমনকি কাস্টমারদের একই রূপ চাহিদা তাও তিনি বুঝতে পারতেন । তাই বলে আপনাকে এত বড় স্টেপ নিতে হবে এমনটাও বলছি না । আপনি যদি শুধুমাত্র আপনার কাস্টমারদের একটু নজর রাখেন তাহলেই চলবে । তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সমস্যার কথা জানান এবং যথাক্রমে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন । হয়তো এই বিষয়টাই আপনার প্রতিযোগীদের থেকে আপনাকে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে ।

এরপরে আইডিয়াটা হল আপনার ব্যবসার জন্য অবশ্যই ভালো লোকেশন এবং সময় নির্ধারণ করা । একটু লক্ষ করলেই হয়তো আপনি দেখতে পাবেন যে বড় বড় ব্যক্তিরা তাদের বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যে একথা বলে থাকেন যে তারা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলেন । হয়তো আপনার যে কথাটা শুনে খারাপ লাগতে পারে তবে কথাটা কিছুটা হলেও সত্যি । Silicon valley এর কথাই ধরুন । গুগোল ফেইসবুক ও অ্যাপেল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই তিনটি কোম্পানি এর স্থানে অবস্থিত । আর যারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কোম্পানির দাবিদার তাদেরও প্রত্যেকেই এই স্থানের । কেননা এই জায়গাটায় এরকম। এই জায়গার আশেপাশে এরকম অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার সাইন্টিস্ট ডাক্তার এমনকি বড় বড় রিসার্চ করতে পারেন এরকম ব্যক্তি তৈরি হচ্ছে । আর এ কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের কোম্পানির ভালোর জন্য সব থেকে ভালো ব্যক্তি খুব সহজে পেয়ে যান । এমনকি 1970 সালের পর থেকে বিভিন্ন ধরনের Venture capital firm গড়ে উঠেছে । এর ফলে খুব সহজেই ইনভেস্টর খুঁজে পাওয়া যায় । টাইমিং ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এর বড় উদাহরণ হতে পারে Dropbox । ড্রপবক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন পাঁচশত মিলিয়ন ছাড়িয়েছে । কিন্তু ড্রপবক্স প্রথম কোন ক্লাউড স্টোরেজ না যা প্রথমবারের মতো বাজারে এসেছিল । 1990 সালে ড্রপবক্সের মতো হুবহু আরেকটি ক্লাউড স্টোরেজ চালু করা হয়েছিল । কিন্তু সে সময় ওই ব্যবসাটা মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিল । কেননা সে সময়টা ইন্টারনেট স্পিড ততটা ফাস্ট ছিলনা । তাই ব্যবসার জন্য অবশ্যই টাইমিংটা খুবই জরুরী ।

মূলত আমরা আনফেয়ার অ্যাডভান্টেজ সম্পর্কে যা বুঝেছি তা হল এমন একটি জিনিস যা আপনাকে সব সময় অন্যদের থেকে এক কদম এগিয়ে রাখবে । আপনি যদি নতুন কোন ব্যবসায় নিয়ে যেত থাকেন কিংবা ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তাহলে অবশ্যই এ বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন । আপনি জীবনে সফল হওয়ার ব্যবসা করবেন এ কামনা করছি । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *