খুশি থাকার পূর্ব শর্ত ( How to be happy in your life )

জীবনে খুশি থাকাটা আমাদের প্রত্যেকের অন্যতম লক্ষ্য । যদিও বা এ লক্ষ্যে আমরা সকলেই পৌঁছতে পারি্ন । অল্পতেই যেন সব সুখ নষ্ট হয়ে যায় । তাই আপনার সুখ ধরে রাখার জন্য আপনাকে চারটি বিশেষ শর্ত মেনে চলতে হবে । আর আমাদের আজকের এই ব্লগপোস্ট থেকে আপনাদের সেই চারটি খুশি থাকার বিশেষ অর্থ জানানোর চেষ্টা করব । চলুন তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক ।

 

খুশি থাকার সহজ কিছু শর্ত

 

✅কখনোই খারাপ কথা বলবেন না – ধরুন কোনো একদিন সকালে আপনাকে তাড়াতাড়ি অফিস যেতে হতে পারে । আর সেদিন আপনার স্ত্রী আপনাকে সকলের নাস্তা দিতে একটু দেরী করে ফেলল । যার ফলে আপনার অনেকখানি সময় নষ্ট হয়ে গেল । এমনকি এ কারণে আপনার ট্রেন বাস বা গাড়ি মিস হয়ে যেতে পারে । এরকম মুহূর্তে আপনার দু ধরনের কাজ করার থাকতে পারে । প্রথমত আপনি হয়তো আপনার স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করতে পারেন , এটা জানা সত্ত্বেও যে আপনার স্ত্রী আপনি ঘুম থেকে ওঠার 2-1 ঘণ্টা আগে উঠে আপনার জন্য কষ্ট করে সকালের নাস্তা তৈরি করেছেন । দ্বিতীয়তঃ আপনি আপনার নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করেন এত কাজের মধ্য দিয়েও আপনার সকালের নাস্তা টা সঠিক সময়ের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতে পারেন । যদি আপনি খুশি থাকতে চান তাহলে আপনার মতে কোন দিকটি আপনার জন্য সঠিক বলে মনে হয় তা অবশ্যই আমাদের জানাতে ভুলবেন না । এবার দেখে নেয়া যাক যদি আপনি প্রথম অপশনটাকে বেছে নেন – আপনি যদি প্রথম অপশনটি বেছে নেন তাহলে আপনার সময় তো নষ্ট হয়ে গেছে এমনকি আপনার হয়তো ট্রেনটাও মিস হয়ে যাবে অর্থাৎ ট্রেন বাস চলে গেছে । তাই অযথাই আপনার স্ত্রীকে বকাবকি করলে তো আর আপনার ট্রেন থেমে থাকবেন না । বরং এতে করে আপনার স্ত্রী ও আপনার দুজনেরই মন খারাপ হয়ে যাবে । এক্ষেত্রে আপনি যদি দ্বিতীয় অপশনটি বেছে নেন তাহলে উপরে কোন ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না । আপনি যদি দুই নম্বর অপশনটি বেছে নেন তাহলে অবশ্যই আপনি খুশি থাকবেন । কেননা আমরা যখন অন্যের সাথে রাগারাগি করি তখন আমাদের মুড খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক । কোন দিকে আমরা যখন কারোর প্রশংসা করি তখন আমাদের নিজের ভেতর থেকে একরকম আনন্দের সঞ্চার হয় । তাই জীবনে যদি খুশি থাকে চান তাহলে অবশ্যই এ শর্তটি মেনে চলবেন যে, কখনোই খারাপ কথা বলবেন না ।

 

✅কখনোই খারাপ কথায় কান দেয়া চলবে না – ধরুন আপনার ইচ্ছে হতে পারে সালমান খানের মতো একজন সুপারস্টার হওয়ার । আর আপনি এজন্যই পুরো আত্মবিশ্বাসের সাথে বিমানের টিকিট কেটে মুম্বাই চলে গেলেন । আপনার আত্মবিশ্বাস এতটাই বেশি যে আপনারা তো ধরে নিয়েছেন যে আপনিও সালমান খানের মতো সুপারস্টার অনায়াসে হতে পারবেন । কিন্তু মুম্বাই পৌঁছে আপনি সেখানে দেখতে পেলেন যে আপনার মত ঠিক একই রকম স্বপ্ন নিয়ে বহু বছর আগে থেকে কিছু মানুষ এক জায়গায় অবস্থান করছেন । তারা প্রতিনিয়ত ও তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য ধাক্কা খেয়ে যাচ্ছেন । তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন যদিও বা তারা সফলতার দেখা আজও পায় নি । আর এদের মধ্য থেকেই কয়েকজন আপনাকে তাদের ব্যর্থতার গল্প শোনাতে পারে । আর সেই মুহূর্তেই আপনি তাদের ব্যর্থতার গল্প সাথে নিজেকে মেলানো চেষ্টা করছেন । আপনি মনে মনে ধরে নিলেন যে , এদের মধ্যে যেহেতু কেউ তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি তারমানে আপনি ও পারবেন না । আর এই ধরনের নেগেটিভ ধারণা আপনাকে আপনার স্বপ্ন পূরণ থেকে বহুদূর পিছিয়ে নিয়ে যাবে । আর এ কারণে আপনার সফলতার হার দিনে দিনে কমতে শুরু করবে । যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপনার খুশিকে গলা টিপে মেরে ফেলবে । আর আপনি যদি চান আপনার সাথে এরকম কিছু না ঘটে তাহলে আপনাকে খুশি থাকার জন্য আরেকটি শর্ত মেনে চলতে হবে আর তা হল কখনোই খারাপ কথায় কান দেয়া চলবে না ।

 

✅খারাপ কিছু দেখা বা খোঁজা যাবে না – এবার আপনাকে দু’ধরনের আলাদা আলাদা অবস্থানের কথা চিন্তা করুন । একদিকে আপনারা এক বন্ধু আপনাকে এক ধরনের গালি দিল । আবার অন্যদিকে ঠিক একই রকম গালি অপরিচিত একটা মানুষ আপনাকে দিবে । আপনাকে যদি বলা হয় এই দুই ধরনের অবস্থানে কি আপনার রিয়াকশন টা একই রকম থাকবে । আমি হলফ করে বলতে পারি কখনোই আপনার রিয়াকশন টা একই রকম রাখতে আপনি পারবেন না । কেননা আপনার যখন বন্ধু আপনাকে গালি দিবে তখন মজা করার ছলে আপনি তা উড়িয়ে দিবেন । অপরদিকে অপরিচিত মানুষটি যখন আপনাকে গালি দেবে তখন আপনি ভয়ংকর ভাবে রেগে যাবেন । আপনার হয়তো মনে হতে পারে এরকম কেন হয় । কেননা অপরিচিত মানুষ যখন আপনাকে গালি দেবে তখন তো আপনি ব্যক্তিগত আক্রমণ ভাবে ধরে নেবে । আপনি সেই গালির মধ্যে ভালো কিছু খোঁজার বদলে খারাপ কিছু খোঁজার চেষ্টা করবেন । যা আপনাকেই দুঃখী করে তুলবে । তাই জীবনে খুশি থাকার জন্য আপনাকে অবশ্যই আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো খারাপ কিছু দেখা বা খোঁজা যাবে না ।

 

✅শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করুন – এবার ভাবুন আপনি সারা মাস বছর পড়াশুনা না করে সারাদিনরাত গেম খেললেন কিংবা ফেসবুক ব্যবহার করেছেন । আর তারপর আপনি যখন পরীক্ষা দিতে গেলেন তখন আপনার পরীক্ষার ফলাফলে আপনি ফেল হয়ে গেলেন । তখন আপনার কেমন লাগতে পারে ? আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি আপনার তো এখন প্রচন্ড রকম ভাবে মন খারাপ হয়ে যাবে । আর আপনি সেই মুহূর্তে ভাবতে থাকবেন ইস আর একটু মনোযোগ দিয়ে যদি পরতাম তাহলে হয়তো আমার অন্যান্য বন্ধুদের মত আমিও পাস করে যেতাম । কিন্তু এবার ভাবুন আপনি হয়তো খুব ভালো করে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়েছেন। তারপরও যদি আপনি পরীক্ষায় ফেল করতেন তাহলে কি কখনোই আপনার ভিতরে একরকম আফসোসের দেখা দিত । না কখনোই তা নয় । কারণ আপনি খুব ভাল করেই জানেন যে আপনি পুরোপুরি আপনার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। আর এ কারণেই আফসোস তোর মতো কোনো জায়গায় আর থাকবে না। তার মানে এটাই যে আপনি যদি কোন কাজে আপনার শতভাগ দিয়ে সে কাজে ব্যর্থ হয়ে যান তাহলে আপনি ততটা ও দুঃখী হন না , যতটা দুঃখী আপনি যখন আপনার শতভাগ কোন কাজে দিতে পারেন না তখন হন । তাই সব সময় খুশি থাকার জন্য আপনাকে আরেকটি শর্ত মেনে চলতে হবে আর তা হল সব সময় আপনার শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করুন ।

 

আপনার-আমার প্রত্যেকের লাইফের একটাই লক্ষ্য জীবনের সফলতার সাথে খুশি থাকা । আর খুশি থাকাটা তখনই সম্ভব যখন আপনার মন শান্ত থাকবে । আর এই খুশি থাকার জন্য অবশ্যই আপনাকে উপরের উল্লেখিত চারটি বিষয়ের উপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে । আশা করি আপনার জীবন সুখের এবং আনন্দময় হোক । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *