পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সহজ কিছু উপায় ( easy ways to prepare for the exam )

প্রত্যেকটি পরীক্ষার্থীর সাথে পরীক্ষা বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত । আর প্রত্যেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার নাম শুনলেই যেন ভয়ে কেঁপে ওঠে । পরীক্ষা বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে । পরীক্ষার নাম শুনলেই পরীক্ষার্থীদের হৃদস্পন্দন বহুগুণে বেড়ে যায় । আর একারণেই অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করে বসে । হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলেই তো আর পরীক্ষা থেকে বাঁচা যাবে না । প্রত্যেকটি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে । পরীক্ষা মূলত পরীক্ষার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এর অন্যতম একটি মাধ্যম । পুরো বছরে একটি পরীক্ষার তে পড়াশোনা করেছে তার প্রমাণ মেলে এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে । তাই এই পরীক্ষার হাট থেকে চাইলেও কোন পরীক্ষার্থী বাচতে পারবেনা । অবশ্যই প্রত্যেকটি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে । পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো পরীক্ষার্থী পরবর্তীতে পড়াশোনার জন্য সামনে এগুতে পারবে না । প্রত্যেকটি পরীক্ষার্থী চাই পরীক্ষায় নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য । কিন্তু এর পরও কিছু কিছু পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় খারাপ করে ফেলে । এর অন্যতম কারণ হলো পরীক্ষায় সঠিক প্রস্তুতির অভাব । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টে কাফির ও জানানোর চেষ্টা করব একজন পরীক্ষার্থী হিসেবে আপনি কিভাবে নিজের পরীক্ষা প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন খুব সহজে । চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক ।

 

সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় 

 

✅দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন – পরীক্ষার সাথে পরীক্ষার্থীদের একটি নেতিবাচক সম্পর্ক বজায় রয়েছে তা আমরা সকলেই জানি । পরীক্ষার সাথে পরীক্ষার্থী সম্পর্ক যেন দা কুমড়োর মত । মনে হয় যেন একজন আরেকজনের শত্রু । আর যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে একজন পরীক্ষার্থী কিভাবে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে বলুন । আমাদের মধ্যে এমন অনেকের বন্ধুবান্ধব রয়েছে যাতে পরীক্ষার আগের দিন রাতে জ্বর চলে । যা সত্যি হাস্যকর এবং একইসাথে কষ্টের । এর জন্য চাই প্রত্যেক পরীক্ষার্থী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। । প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা বিষয়টিকে সাধারণভাবে মেনে নিতে হবে । পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা বিষয়টিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করা যাবে না যেহেতু কোনো পরীক্ষাতেই এবিষয়টি এড়াতে পারবেন না । আর তাই প্রত্যেক পরীক্ষার্থী যত তাড়াতাড়ি এই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারবে ততো তাড়াতাড়ি সেই পরীক্ষার্থী জন্য ভালো । পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি পূর্ব শর্ত হলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা ।

 

✅বিরতি – প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বিরুদ্ধে অত্যন্ত জরুরি । আমাদের মধ্যে এমন অনেক পরিচিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন যারা পরীক্ষার আগের দিনে পড়াশুনায় ন্যূনতম কোনো বিরতি দেন না । যা সত্যিই খারাপ একটি বিষয় । প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বিরতি প্রদান করতে হবে । না হলে সে পরীক্ষার্থী যাই করুক না কেন সে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে কষ্ট হয়ে যাবে । এমন অনেক সময় দেখা যায় পরীক্ষার আগের দিন রাতে পরীক্ষার্থীরা পড়তে পড়তে অসুস্থ হয়ে পড়ে যা পরীক্ষার্থীর জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক একটি বিষয় । এতে করে সে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে । তাই প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে বলছি সারাদিন রাত না পড়ে ফাঁকে ফাঁকে একটু বিরতি দিন ।

 

✅গান শুনুন – গান শোনার বিষয়টি সামনে আসতেই আপনার হাস্যকর লাগতে পারে । কিন্তু আমি বলব এ বিষয়টি প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার জন্য ভালো একটি দিক । যখন কোন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পড়তে পড়তে খারাপ ফিল নিজের মধ্যে তৈরি হবে অর্থাৎ বোরিং চলে আসবে ঠিক তখনই গান সোনাটা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে । ঠান্ডা ধরনের মিউজিক কিংবা কান আমাদের মস্তিষ্ককে সুস্থ এবং সচল ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে । তাই প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে বলছি খুব বেশি স্ট্রেস হয়ে গেলে অল্প সময়ের জন্য গান শুনতে ভুলবেন না । এই গান আপনার মাইন্ডকে রিফ্রেশ করতে সহায়তা করবে ।

 

✅পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান – আমাদের জীবনে প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম অত্যন্ত জরুরী । আর পরীক্ষার্থীর জন্য এর কোন বিকল্প নেই । একজন পরীক্ষার্থী যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাবে তখন তার পড়াশোনায় আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং নিজের মন এবং শরীর চাঙ্গা হবে । এতে করে তার পরীক্ষা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে । এমন অনেক পরীক্ষার্থী আছেন যারা পরীক্ষার আগের রাতে সারারাত ধরে পড়াশোনা করে । যা পরবর্তীতে সেই পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট প্রদান করতে পারে । তাই বলছি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগের রাতে অবশ্যই অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর চেষ্টা করবেন ।

 

✅রুটিন তৈরি করা – ছাত্রজীবনে রুটিনের বিকল্প কিছু হতে পারে না । ছাত্র জীবন – রুটিন বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত । ছাত্রজীবনে রুটিন যেমন আপনাকে পড়াশোনায় সহায়তা করে ঠিক তেমনি আপনাকে নিয়মানুবর্তী করতে সাহায্য করে । এমন অনেক পরীক্ষার্থী রয়েছেন যারা সারা মাস বছর কোন পড়াশোনা করে না । সারা মাস বছরের পড়াশোনা পরীক্ষার একদিন আগে করে ফেলার চেষ্টা । এতে করে সে পরীক্ষার্থীর উপর অনেক চাপের সৃষ্টি হয় । ফলে সে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় । তাই প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে রুটিন তৈরি করে পড়াশোনা করতে হবে । এতে করে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার আগে চাপ কমে যাবে ।

 

✅পরীক্ষার পূর্বে নিজেকে যাচাই করুন – পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা ছাড়াও নিজেকে যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে । যেমন ধরুন একটি পরীক্ষার্থী চাইলেই বাসায় নিজেকে যাচাই করতে পারে । যেমন ধরুন নিজেকে হোম টেস্ট দেয়ার মাধ্যমে নিজেকে পরীক্ষার প্রস্তুত করে গড়ে তোলা যায় । এতে করে সেই পরীক্ষার্থী পরীক্ষার পূর্বে নিজেকে যাচাই করতে পারেন । নিজের খারাপ দিকগুলো বুঝতে পারবেন এবং সেগুলো শুধরে নিয়ে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারেন । তাই ভর্তি পরীক্ষার্থীর উচিত পরীক্ষার পূর্বে নিজের ভাষায় নিজেকে যাচাই করুন । এখন তো এমন অনেক কোচিং কিংবা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতে পরীক্ষার পূর্বে pre-test গ্রহণ করা হয় । জার জন পরীক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে ।

 

✅শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখুন – ছাত্র জীবনে যদি শুধু আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে এমন কিছু নাই । সঠিক ভাবে জীবন পরিচালনার জন্য সুস্বাস্থ্য এর কোন বিকল্প নেই । হোক সেটা ছাত্র জীবন বৈবাহিক জীবন কিংবা পারিবারিক জীবন । আর ছাত্র জীবন তো জীবনে সুস্বাস্থ্য গঠনের অন্যতম একটি সময় । আর পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখতে হবে । আমরা জানি স্বাস্থ্য সম্পদ আরে কথাটি ছাত্রদের জন্যও প্রযোজ্য । সুস্বাস্থ্য ব্যতীত একটি পরীক্ষার্থী কখনোই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে না । এখানে সুস্বাস্থ্য বলতে আপনাকে মোটা হতে হবে এমন কোন কথা বোঝানো হয়নি । সুস্বাস্থ্য বলতে আপনি শারীরিকভাবে ফিট থাকবেন এরকমটাই বোঝানো হয়েছে । আর একজন ছাত্র খুব ভালোভাবেই জানেন নিজেকে শারীরিক ভাবে কিভাবে ফিট রাখতে হয় ।

 

✅নিজের উপর আস্থা রাখুন – প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর হচ্ছে নিজের উপর আস্থা রাখা এমনকি প্রত্যেকটি মানুষই নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে । না হলে কেউই কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে না । হোক সে ছাত্র কিংবা অন্য কেউ । যে নিজের উপর আস্থা রাখতে পারে না সে আর যাই হোক ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে না আর এটাই স্বাভাবিক । ধরুন আপনি একজন পরীক্ষার্থী । আপনার পরীক্ষা খুবই সন্নিকটে । আর আপনি ভাবছেন এবার বোধহয় আপনার পরীক্ষা ভালো হবে না, আপনিই পারবেন না ভালো ফলাফল করতে । আর যদি আপনি নিজেই এরকমটি চিন্তা করেন তাহলে কি কখনো আপনি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারবেন ? আমার তো মনে হয় আপনার পক্ষে ভাল ফলাফল অর্জন করা সম্ভব নয় । ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে, কখনোই হতাশ হওয়া যাবে না । আপনাকে ভাবতে হবে ,আপনি অবশ্যই ভালো ভালো ফল অর্জনের যোগ্যতা রাখেন । তারপর ভালো ফলাফল অর্জনের বিপরীতে আপনাকে পরিশ্রম করে যেতে হবে ।

 

পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই পরীক্ষা কালীন সময়ে কোন ধরনের টেনশন কিংবা পেনিস নেয়া চলবে না । পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে । আত্মবিশ্বাসের সাথে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে এবং পরীক্ষায় সুন্দর ও সাবলীল ভাবে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে । আর তবে একজন পরীক্ষার্থী ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে । আর পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেক পরীক্ষার্থী উপরোল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরী । আশা করি আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টটি আপনাদের ভাল লেগেছে আমাদের ব্লগপোস্টে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ ‌।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *