করণা কালীন সময়ে পারিবারিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত (Family relationships during COVID-19)

বিশ্বের প্রতিটি দেশের ন্যায় আমাদের দেশে এখন করোনা কালীন সংকটময় পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে  । আর করোনা কালীন সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রত্যেকটি ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে জোরালোভাবে । ঘরের বাহিরে বের হলে যেমন করোনা সংক্রমণের ভয় থাকে ঠিক তেমনি করোনা ছড়ানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পায় । তাই প্রত্যেকটি মানুষ বাধ্য হয়ে ঘরবন্দি হয়ে থাকছে ।  আর এতে করে যারা ঘরবন্দি হয়ে থাকছেন তাদের মধ্যে অল্পতেই নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার বিষয়টি বৃদ্ধি পাচ্ছে ।   আরে ঘরে থাকার কারণে মানুষের মেজাজ আচার-ব্যবহার একেবারেই খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে ঠিক আমার মতন করে ।  আর এই লক ডাউন এর প্রভাবেই অনেকাংশে পারিবারিক সম্পর্ক বিনষ্ট হচ্ছে আগের সুসম্পর্ক গুলো পরিণত হচ্ছে দু সম্পর্কে । আবার এমন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে নক্ ডাউন এর পূর্বে যাদের সম্পর্ক খারাপ ছিল তাদের মধ্যে নতুন করে আবার সম্পর্ক ভালো হচ্ছে । তবে  এই সংকটের মুহূর্তে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের সাথে আমাদের মিলিয়ে চলা উচিত ।   না হলে আমরা এই সংকটকালে মুহূর্ত থেকে কখনোই বেরিয়ে আসতে পারবো না বরং এর গোলকধাঁধায় আটকে থাকবো ।  

 

করণা কালীন সময়ে পারিবারিক সম্পর্ক

যেভাবে ঠিক রাখবেন

 

এল গোডাউনে ঘরে থাকতে থাকতে মানুষের মাননীয় মানসিক শারীরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটছে ।  আর এ কারণেই বেড়ে গেছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভয় মানসিক চাপ  আর পাশাপাশি কমে গেছে   মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা  । আর উন্নত বিশ্বের নানা গবেষণায় এই তথ্যটি খুব খোলা ভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে যা প্রত্যেকটি দেশের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য  । আর এই মানসিক চাপ এর অন্যতম কারণ হল করণা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ভয় আর সাথে রয়েছে অর্থনীতি দুর্দশা  ।  

প্রত্যেকটি মানুষ সারাদিন ঘর বন্দি হয়ে থাকার কারণে সারাক্ষণ কোন না কোন কিছু নিয়ে তারা তর্কে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে হোক সেটা ছোট বিষয় কিংবা বড় বিষয়  । আর এই ছোট ছোট তর্কবিতর্কের কারণেই বেড়ে যাচ্ছে পারিবারিক কলহ  ।  আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে  ভাইরাসের কারণে নারীদের উপর মানসিক কিংবা শারীরিক নির্যাতন বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে আগের তুলনায়  ।  এর অন্যতম কারণ হলো বাড়ির কর্মঠ ব্যক্তিগণ বাসায় থাকা  ।  কেননা কর্মঠ ব্যক্তিরা বাসায় থেকে নারীদের উপর নানা ধরনের আবদার সবসময় চালিয়ে যাচ্ছে  ।   আর যখন নারী তখন নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে  ।   

 

সমসাময়িক সময়ে  বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে করোনাভাইরাস এর পূর্ববর্তী সময়ের থেকে বর্তমান সময়ে পারিবারিক নির্যাতন বেড়ে গেছে 25 থেকে 50 শতাংশেরও বেশি  । আর এই পরিস্থিতির জন্য সকলেই দায়ী করছেন মানসিক চাপের বিষয়টিকে তবে শুধুমাত্র মানসিক চাপ কমাতে হবে না সাথে সাথে পরিবর্তন করতে হবে আমাদের প্রত্যেকেরই দৃষ্টিভঙ্গি  । আমাদের এই লোকজন কালী মুহূর্তগুলো কাটাতে হবে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আর তা না হলে কলহ বিবাদের বিষয়টি কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়  । এই করনা ভাইরাসের কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেরই পরিবারের প্রিয় জন হারিয়ে যাবে এটা দুঃখজনক হলেও স্বাভাবিক একটি ঘটনা  ।  এই ব্যাপারটি যত তাড়াতাড়ি মেনে নিতে পারবেন ততই ভালো  । নতুবা এর থেকেও খারাপ পরিস্থিতি আসতে পারে তখন হয়তো আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পাবো না তাই সময় থাকতেই  আমাদের সাবধান এবং সচেতন হতে হবে পরিবারের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে । পরিবারের এই সময়গুলোতে পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য কাছে আসার চেষ্টা করতে হবে পরিবারের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে ।  আর তবে এই সংকটকালে মুহূর্ত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব ।  আমাদের আজকের এই ব্লগ থেকে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব যে কিভাবে এই করনা কালীন সংকট মুহূর্তে পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে উন্নত করা যায় । 

 

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন –  এই সংকটকালে মুহূর্ত থেকে বাঁচার জন্য পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি ।  কখনোই এটা ভাববেন না যে এই  লক ডাউন এ আপনি ঘরবন্দি ।  বরং এটা ভাবুন যে আপনি এককালীন একটা ছুটি পেয়েছেন ।  আর এই ছুটিতে আপনাকে কাজে লাগাতে হবে । সারাবছর যেখানে আপনি পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারেন না সেখানে খানিকটা সময় পেয়েছেন পরিবারকে দেওয়ার জন্য ।  সেই সুযোগ নষ্ট বড়  যথাযথভাবে কাজে  লাগান ।  আপনি কি অবস্থায় আছেন তখনই আপনার মানুষের চাপ বহুগুণে বেড়ে যায় । আর আপনি আমি সকলেই জানি যে  ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা আমাদের প্রত্যেকের জন্যই অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ।  আরে সংকটকালীন মুহূর্তে এর বিকল্প কিছু নেই। 

 

সম্মানবোধ – আমরা প্রত্যেকে জানি ভালোবাসার জন্য সম্মানবোধ বিষয়টি সবার আগে চলে ।  একটি ভালোবাসার সম্পর্কে সম্মানবোধ বিষয়টি উপস্থিতির যদি না থাকে সেখানে কলহ-বিবাদ হবে এটাই স্বাভাবিক । আপনি আপনার পরিবারের প্রতি যদি সম্মান প্রদর্শন না করেন তাহলে আপনি কিভাবে তাদের কাছ থেকে সম্মান আশা করব । আপনার আগে থেকে যদি পরিবারের সদস্য গুলোর মধ্যে সম্মান প্রদর্শন বিষয়টি না থাকে তাহলে খুব মুশকিলে পড়ে যাবে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই সম্মানবোধ বিষয়টি একেবারেই অসম্ভব ।  তাই সম্মান করতে না পারলেও অসম্মান করার কথা চিন্তা করবেন না ।  আপনি ভাবতে পারেন বাড়ির নারী সদস্য গুলো বাসায় বসে কিছুই করেন না ।  শুধু শুধু রান্না আর ঘরের কাজ করুন ।  আপনার ধারণা যদি তাই হয় তাহলে আপনাকে বলব আপনি একদিনের জন্য হলেও তাদের কাজগুলো করার চেষ্টা করুন ।  তাহলেই বুঝতে পারবেন যে আপনার পরিবারে তাদেরও কতটা অবদান রয়েছে ।  আর তখন আপনার তাদের সম্মান আপনি আপনাআপনি চলে  আসবে । 

 

সাহায্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধি  করুন –  একটি পরিবার টিকে থাকে পরিবারের সদস্য সাহায্য ও সহযোগিতা দাঁড়া । পরিবারের কোনো সদস্যের একার পক্ষে একটি পরিবার দাঁড় করানো একেবারেই অসম্ভব ।  আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার পরিবারে আপনার অবদান সবচেয়ে বেশি বাকি মানুষগুলোর একেবারেই কম ।  কিন্তু এটা ভাববেন না যে পরিবারের অন্য সদস্য গুলো পরিবারে কোনো অবদান নেই ।  পরিবারের ছোট খাটো কাজগুলোতে নিজের সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধি করুন ।  আপনি হয়তো ভাবতে পারেন ছেলে মানুষের পরিবারের কোন কাজ নেই ।  কিন্তু আমি বলব আপনার এই ধারণা একেবারেই ভুল । আপনি কিছু না পারলেও আপনি চাইলেই পরিবারের ছোট সদস্য গুলো কে সময় দিতে পারেন তাদের সাথে খেলতে পারেন তাদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন । 

 

প্রশংসা করা –  সাংসারিক জীবনে আপনি কখনোই কি পরিবারের অন্য সদস্য গুলো কাজের কোন প্রশংসা করেছেন ।  আপনার উত্তর যদি না হয়ে থাকে তাহলে বলব আপনি অনেক বড় ভুল করেছেন ।  পরিবারের প্রত্যেকটি কাজের জন্য ছোট-খাটো কমপ্লিমেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করে ।  প্রত্যেকটি প্রশংসার যোগ্য । হোক সেটা বড় কিংবা ছোট ।  পরিবারের একজন সদস্য একটা কিছু রান্না করেছে আপনি শুধু খেয়ে সাবাড় করে কোন প্রকার প্রশংসা কিংবা কমপ্লিমেন্ট দিলেন ।  অথচ সেই আপনি যদি সেই রান্নার প্রশংসা করতেন তবে সেই ব্যক্তিটি আরো খুশি হয়ে যেত ।  এতে করে সেই ব্যক্তিটি নতুন করে কাজের উদ্যম ফিরে পেতে ।  আর পরিবারের সদস্যদের প্রতি একটাই অনুরোধ ছেলে সদস্যরা বাসায় বসে আছে বলে তাদের কথায় কথায়   উল্টোপাল্টা কথা শুনিয়ে দেবার কিছু নেই ।  বড় পরিবারের কর্তা ব্যক্তি কে যথাযোগ্য সম্মান এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করুন ।

 

নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন – লকডাউন এর লম্বা সময় অবশ্যই আপনাকে নতুন কিছু চেষ্টা করা দরকার ।  মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সত্তা  বিদ্যমান  ।  আমাদের নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের জন্য এটাই সুবর্ণ সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে । কিছু না কিছু নতুন করার চেষ্টা করি না পারলে বারবার চেষ্টা করে একটা না পারলে আরেকটা চেষ্টা করে চেষ্টা করতে থাকুন ।  এর কোন বিকল্প নেই । আর চেষ্টা করতে করতে আপনি অবশ্যই নতুন কিছু তৈরি করেছেন বলে আমার বিশ্বাস ।  আর না হয় চেষ্টা করলে নতুন কিছু শিখতে পারবে ।  জীবনে শেখার জন্য কোন শেষ নেই ঠিক তেমনি শেখার   মানুষের বয়স নেই ।

 

মোট কথা হল বাসায় সারাক্ষণ বসে শুয়ে থাকবে না । পরিবারের সদস্যদের সাথে ভালো সময় কাটানো চেষ্টা করুন । নিজের মানসিক এবং শারীরিক  স্বাস্থ্যের উপর  খেয়াল রাখুন । সারাক্ষণ মোবাইলের মধ্যে ডুবে না থেকে খানিকটা সময় সকলে মিলে টিভি দেখব ।  দেখতে পারেন এতে করে  সকলেই আনন্দ পাবে । এমন আপনি ইনডোর কিছু গেম ট্রাই করতে পারেন । এই সময়গুলোতে আপনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কাজগুলো করে নিতে পারেন । কেননা ব্যস্ততার কারণে হয়তো আপনি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগই পায় এই সুযোগে স্ত্রীর সঙ্গে বোর্ডে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা দুজনেই তুলে  ধরুন । আর যদি আপনি নিজেই নিজের উপর বিরক্ত হয় তাহলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য ইউগা করতে পারে ।  ঠান্ডা কোন মিউজিক শুনতে পারেন । আপনাদের এই লকডাউন জীবন সুখের এবং সুন্দর হোক আর পরিবারের সঙ্গে হাসিখুশি থাকুন ধন্যবাদ । 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *