বিবাহিত জীবনে সুখি হবার উপায় ( How to be happy in married life )

একটি ছেলে ও মেয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি হল বিবাহ । বিবাহ-বহির্ভূত একটি ছেলে মেয়ের সম্পর্ক বর্তমান সমাজে কখনোই গ্রহণযোগ্যতা পায় না । সেটার সঠিক কিংবা ভুল এর ব্যাখ্যায় জেতে চাই না । আদিকাল থেকে বিবাহ বিষয়টি মানুষের জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত । এর ব্যতিক্রম অত তো কখনো হয়নি বর্তমানেও হবে না । বিবাহ একটি চলমান প্রক্রিয়া । বিবাহিত জীবনের সুখ সকলেরই কাম্য । কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই বিবাহিত জীবনে সুখি হবার ইচ্ছা অনেকের ইচ্ছায় থেকে যায় । বিবাহিত জীবনের শুরুতে সব কিছু মিষ্টি মনে হল আস্তে আস্তে তা একসময় তিতা এ পরিণত হয় । বিবাহিত জীবন অসুখী হওয়ার পেছনে একটি ছেলে মেয়ে উভয়েই দায়ী হতে পারে । ঠিক তেমনি ভাবে একটি বিবাহিত জীবনে সুখী হতে হলে ছেলে মেয়ে উভয়েই কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে । আর তা না হলে বৈবাহিক জীবন কখনোই সুখের হতে পারে না । সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের সঙ্গ প্রয়োজন হবে এটাই স্বাভাবিক । আর সেই সঙ্গে প্রয়োজন মেটাতে আদিকাল থেকেই বিবাহ বিষয়টি প্রচলিত হয়ে আসছে । সঙ্গপ্রিয় মানুষের সাথে যখন একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা একসাথে বসবাস করতে শুরু করেন ঠিক তখনই সেই জীবনের নামকরণ করা হয় দাম্পত্য জীবন । আরে দাম্পত্য জীবন কে না বৈবাহিক জীবনকে সুখী রাখতে হলে কিছু বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতেই হবে । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্ট থেকে আপনার জানার চেষ্টা করব কিভাবে আপনি আপনার বৈবাহিক কিংবা দাম্পত্য জীবনকে সুখী করবেন । ঘৃণা করে শুরু করা যাক ।

 

বিবাহিত জীবনে কিভাবে সুখী  হওয়া যায়

 

✅সত্যতা প্রকাশ – কখনোই একটি সম্পর্ক মিথ্যা ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনা । মিথ্যার উপর আপনার সম্পর্ক শুরু হলো তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না এটাই স্বাভাবিক । যেখানে কোন সম্পর্কে মিথ্যার উপর টিকে থাকে না সেখানে বৈবাহিক সম্পর্ক তো অনেক দূরের কথা ।আমাদের জীবনে নানা সম্পর্ক থাকতে পারে । এমন অনেক সময় দেখা যায় আমরা প্রেমের সম্পর্কে নানা ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে । কিন্তু সে প্রেমের সম্পর্ক আবার যখন বিবাহ রূপান্তর হয় তখন তা বিপদের কারণ হতে পারে । কেননা আপনার প্রেমের সম্পর্কে কিছু মিথ্যা ছিল । এরকম ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত বিবাহের পূর্বে সব ধরনের সততা প্রকাশ করা । আর তা না হলে একসময় এমন সময় আসবে যে আপনার মিথ্যা কথা আপনার সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনী জেনে যেতে পারে । আর তখনই নানা ধরনের অশান্তি দেখা দেবে । তাই ওর সাথে এড়িয়ে চলতে অবশ্যই আপনাকে আপনার সমস্ত সত্য প্রকাশ করা অতীব জরুরী । মিথ্যা কারণে আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে ।

 

✅সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা – দাম্পত্য জীবনের অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হলো সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে । যার কারনেই দুজনের মতের অমিল দেখা যায় প্রায়ই । আর এই মতোভেদ ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে একসময় বিবাহ-বিচ্ছেদ দেখা দিতে পারে ‌ । স্বামী বা স্ত্রী দুজনকে একে অপরকে শ্রদ্ধা করতে হবে । আপনি যদি নিজেই আপনার স্ত্রীকে শ্রদ্ধা না করেন তাহলে সে কখনোই আপনাকে শ্রদ্ধা কিংবা সম্মান কোনটাই করবে না । সম্মান পেতে চাইলে অবশ্যই আপনার সঙ্গে কে সম্মান প্রদর্শন করুন তা না হলে সম্মান কখনো আশাও করবেন না । সম্মান কিংবা শ্রদ্ধাবোধ সম্পর্কের অন্যতম একটি স্তম্ভ । আর এই স্তম্ভ ভেঙ্গে গেলে একটি সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে । তাই বলে জীবন শক্ত ও মজবুত করার জন্য এই স্তম্ভ মজুদ রাখা জরুরি । একটি কথা মাথায় রাখবেন আপনার নিজের মধ্যে যেমন নিজের আত্মসম্মান করতেই রয়েছে ঠিক তেমনি আপনার সঙ্গীর মধ্যে কি বিষয় থাকবে এটা স্বাভাবিক । তাই স্বামী স্ত্রী দুজন দুজনকে শ্রদ্ধাবোধ না করলে কখনো দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না ।

 

✅প্রশংসা করা – বিয়ের আগে হয়তো দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসতেন । সে সময় সারাক্ষণ হয়তো একজন আরেকজনকে প্রশংসা করতেন । যা হয়তো দুজনেরই ভালো লাগতো । আপনি একটু ভেবে দেখবেন তো বিয়ের পর এই প্রশংসা করার বিষয়টি কমে গিয়েছে কিনা । আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি বিয়ের পর প্রত্যেকেরই প্রশংসা করার অভ্যাসটি কমে যায় । দুজন মানুষ একসাথে দিনের পর দিন থাকতে থাকতে প্রথম প্রশংসা করার বিষয়টি মাথা থেকে একেবারে বেরিয়ে যায় । তাই বৈবাহিক জীবনে অনেক ক্ষেত্রেই কলহ দেখা দেয় পরোক্ষভাবে । আপনি এত ভাবতে পারেন প্রশংসা করার কি আছে কিংবা প্রশংসা করে কি লাভ । আমি বলব আপনাকে ধারণা একেবারেই ভুল । আপনার যখন একে অন্যকে প্রশংসা করবেন তখন আপনাদের ভালোবাসার বন্ধন আরো সতেজ ও সুন্দর হবে । এতে করে আপনার বৈবাহিক জীবন সুখের হবে । ধরুন আপনার স্ত্রী কিছু রান্না করছে আপনার জন্য । আপনি তার স্বামী হয় শুধু তার রান্না করা খাবার খেয়ে উঠে গেলেন । কিছুই তাকে বলেন না । এতে করে আপনার স্ত্রী মন খারাপ করতে পারেন । তাই কষ্ট করে হলেও একটি বারের জন্য হলেও তার রান্নার প্রশংসা করুক । আর স্ত্রী হিসেবে আপনার উচিত আপনার স্বামীর প্রশংসা করা । আপনি হয়তো ভাবছেন আর দশজন মানুষের মতো আপনার স্বামী সাধারণ একটি কাজ করছে । এ আর এমন কি । এরকম ভাবনা কখনোই কোন স্ত্রীর মনে আসা উচিত নয় । যার যার কাজের অবস্থান তার তার কাছে অনেক উপরে এবং অনেক কঠিন । তাই স্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব আপনার স্বামীর কাজের প্রশংসা করুন হোক তা ছোট কিংবা বড় ।

 

✅বন্ধুসুলভ আচরণ করুন – আমরা হয়তো অনেকেই বলে থাকি আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বন্ধু অনেক ভালো বন্ধু । কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এর গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই নেই । মুখে বন্ধু বললেও একে অপরকে কখনোই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি । শুধুমাত্র বিয়ে হবার কারণেই দুজন একসাথে রয়েছেন । এ বিষয়টি খুবই মারাত্মক একটি বিষয় । দুজনের সাথে থাকার জন্য শুধু বিয়েটাই জরুরী নয় হয়েছে শ্রদ্ধাবোধ ভালোবাসা । আর তাহে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুসুলভ আচরণ অত্যন্ত জরুরী । বৈবাহিক জীবনের শুরু থেকেই নিজেদের মধ্যে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করুন । আর দুজন দুজনের মনের কথা প্রতিনিয়ত ও শেয়ার করবেন । নিজের মনের কথা মনের মধ্যে চেপে রাখবেন না তা আপনার এবং আপনার স্ত্রী দুজনের জন্যই হুমকিস্বরূপ । একজন বন্ধু আপনাকে যতটা বুঝতে পারবে তা পৃথিবীর আর কেউ বুঝতে পারবে না । তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনের উচিত দুজনের মধ্যে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে নিজেদের ভালোলাগা মন্দলাগা মান-অভিমান ভয় আশা প্রত্যাশা সমস্যা তাদের কথা নির্বিঘ্নে শেয়ার করা ।

 

✅সন্দেহ না করা – সম্পর্ক বিচ্ছেদের অন্যতম একটি কারণ হলো সন্দেহ করা । প্রেমের সম্পর্কের পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের নানা ধরনের সন্দেহের উৎপত্তি লক্ষ করা যায় না । আরে সন্দেহের কারণে প্রতি বছর শত শত বিবাহবিচ্ছেদ দেখা যায় । সন্দেহ বিষয়টি বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য ক্যান্সারের মতো একটি মারাত্মক ব্যাধি । আর এই ভাবেই একবার আক্রমণ করলে একেবারে নিঃশেষ না করে দেয়া পর্যন্ত থামবে না । তাই সন্দেহ নামক এইমাত্র প্রতিটি সংক্রমনের আগেই গলা টিপে মেরে ফেলা উচিত । স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকলে তা সরাসরি প্রকাশ করুন এবং সরাসরি উত্তর প্রদানেরও সাহস রাখুন ।
আর যদি আপনাদের মধ্যে সন্দেহ ঢুকে যায় তাহলে তা নিয়ে দুজনে মিলে খোলাখুলি আলোচনা করুন । যথাসম্ভব সন্দেহ দূর করে নতুন করে ভালো থাকার চেষ্টা করুন । আর যদি আপনি সন্দেহ দূর না করে মনের মধ্যে পুষে রাখেন তাহলে আপনার বৈবাহিক জীবন কখনোই সুখের হবে না ।

 

✅সাহায্য সহযোগিতা বৃদ্ধি – মানুষের সাথে কোন মানুষই পারফেক্ট কিংবা উৎকৃষ্ট নয় । আর তাই প্রত্যেকটি মানুষের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন রয়েছে । হোক তা ছোট কিংবা বড় । আপনার বাসায় আপনার স্ত্রী সারাদিন কাজকর্ম করেন আপনার সংসারের জন্য । আপনি হয়তো কাজের অভাবে তাকে সাহায্য করতে পারছেন । কিন্তু সারাদিন কাজ করে যখন আপনি রাতে বাসায় ফেরেন তখন দুজনে মিলে একসাথে খেতে বসেন । ঠিক সেসময়ই যদি আপনি পানির যোগাড় করে দিতে পারেন । আর এভাবেও আপনার স্ত্রীকে আপনি সাহায্য করতে পারেন । এমনকি রাতে ঘুমানোর আগে বিছানা ঠিকঠাক রেখেও আপনি আপনার স্ত্রীকে সহযোগিতা করতে ।

 

✅ত্যাগ করার মন-মানসিকতা তৈরি করুন – বৈবাহিক জীবনে আমরা প্রত্যেকেই নানা ধরনের ত্যাগ করে থাকি । যে সম্পর্কে ত্যাগ থাকবে না সে সম্পর্কে কখনোই দীর্ঘ মেয়াদী হতে পারে না । দীর্ঘমেয়াদী বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য অবশ্যই নিজের মধ্যে ত্যাগ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে । বৈবাহিক জীবনে আপনাকে অবশ্যই ছোটখাটো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে । না হলে আপনি কখনোই সুখী হতে পারবেন না । তাই নিজেদের মনের মধ্যে আজ থেকে ত্যাগ করার মন মানসিকতা তৈরি করতে শুরু করুন ।

 

✅নতুনত্ব কিছু করুন – বৈবাহিক জীবন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকে তা আমরা প্রত্যেকে জানি । আরে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে দিনের পর দিন যখন একজন স্বামী স্ত্রী দুজনেই একই ধরনের কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে তখনই নিজেদের মধ্যে আত্মতৃপ্তির ব্যাপারটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে । এভাবে আস্তে আস্তে ভালোবাসা কমে যাবে তৈরি হবে দূরত্ব । দীর্ঘমেয়াদী বৈবাহিক জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে অবশ্যই নতুনত্ব কিছু করুন । যেমন ধরুন আপনার স্ত্রী কিংবা স্বামীকে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো সারপ্রাইজ দিতে হয় । আবার দুজনে মিলে বাহিরে কোথাও বেড়াইতে যাইতে পারেন ‌। এতে করে আপনাদের দুজনেরই একঘেয়েমি ভাবটা কেটে যাবে । আর দুজনেই নতুন করে দুজনার প্রেমে পড়বেন ।

 

প্রত্যেক বৈবাহিক জীবনে উপরোক্ত বিষয়গুলো খুবই গুরুত্ব বহন করে থাকে । তাই প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর উচিত উপরোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রেখে বৈবাহিক জীবন পরিচালনা করা । আর তা না হলে ঘটে যেতে পারে নানা ধরনের দুর্ঘটনা । আশাকরি আমাদের আজকে ব্লগ পোস্ট আপনাদের ভাল লেগেছে । আমাদের ব্লক পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *