কিভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করা যায় ( How to improve your health )

সুখী-সমৃদ্ধ শিয়াল জীবনযাপনের জন্য সুস্থ থাকাটাই মূল উপাদান । মানসিক কিংবা শারীরিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখাটা কঠিন একটি কাজ । তবে সুখী থাকতে চাইলে সুস্বাস্থ্যের কোন বিকল্প নেই । ধরুন আপনার অনেক টাকা আছে, আপনার বাড়ি আছে, আপনার গাড়ি আছে । কিন্তু দিন দিন আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে । কি করবেন সে টাকা সে বাড়ি কিংবা সেই গাড়ি দিয়া । আপনার যদি স্বাস্থ্যই ঠিক না থাকে তাহলে এগুলো ভোগ করবেন কি করে । তাই সর্বদা স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়ার চেষ্টা কর । আপনার শারীরিক কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে সেগুলো উন্নত করার চেষ্টা করুন । আপনার শারীরিক কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির জন্য সর্বোত্তম উপায় হলো আপনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এমন কিছু পরিবর্তন সাধন করা যেগুলো আপনার স্বাস্থ্য উন্নতিতে কাজ করবে । সময়ের সাথে সাথে নিজেকে পরিবর্তন করুন আর নিজেকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করুন । তবে কোন কিছু শুরু করতে গেলে একসাথেই অনেক বিষয় পরিবর্তন করতে যাবেন না । তাহলে সবকিছু গরমিল বাঁধবে । তাই আস্তে আস্তে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন । একটি একটি বিষয় নিয়ে সামনে এগুতে থাকুন । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা আপনাকে জানাতে চেষ্টা করব আপনি কি করে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করবেন ।

 

স্বাস্থ্যের উন্নতি করার উপায়

 

স্বাস্থ্যকর ডায়েট প্লান অনুসরন করা – উচ্চ আঁশযুক্ত স্বাস্থ্যকর চর্বি কম চিনি কম লবণ ইত্যাদি খাবার গুলো গ্রহণের চেষ্টা করুন । মোটকথা পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুক । পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য গ্রহণের জন্য আপনার নির্দিষ্ট একটা প্ল্যান থাকা । আর তাই আপনাকে অবশ্যই একটি ডায়েট প্লান অনুসরন করতে হবে । এক্ষেত্রে আপনি চাইলে বিশেষজ্ঞ কারো পরামর্শ নিতে পারেন । একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট প্ল্যান আপনার শক্তি-সামর্থ্য দৃষ্টিভঙ্গি মন-মেজাজ কে উন্নত করতে সক্ষম । হাই ফাইবার যুক্ত খাবার আপনাকে নিয়মিত সচল রাখতে এবং হৃদরোগ স্ট্রোক ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে । তবে মাত্রা অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন । অতিরিক্ত লবণ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ । কম চিনি খাওয়ার চেষ্টা করুন প্রয়োজনবোধে মধু খান । মাত্রা অতিরিক্ত চিনি আপনার ডায়াবেটিসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আপনি চাইলে খেতে পারে যেমন ধরুন মাছ, বাদাম ও এভোকাডোস ইত্যাদি । এই খাবার গুলোতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পাওয়া যায় । স্বাস্থ্যকর প্লানে কথা বলছি কিন্তু সবুজ শাকসবজি কথা বলবো না এটা হতে পারে । স্বাস্থ্যকর ডায়েট প্ল্যানে অবশ্যই সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন । মনে রাখবেন সবুজ শাকসবজি আপনার দায়িত্ব নেয়ার জন্য অত্যাবশ্যক । প্রচুর সবুজ শাকসবজি খান । বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে । আপনার দিনটি একটি উচ্চ প্রোটিন সম্পন্ন খাবার দিয়ে শুরু করার চেষ্টা করবেন কিংবা উচ্চ ফাইবার রয়েছে এমন খাবার খাবেন । এসব খাবার আপনাকে পুরো সকাল জুড়ে চলতে প্রচুর পরিমাণে এনার্জি জোগাবে । আপনি প্রচুর পরিমাণে জল পান করার চেষ্টা করবে ।

 

আপনি প্রতিদিন যা খাচ্ছেন তা লিপিবদ্ধ করুন – হতে পারে আপনি প্রতিদিন অনেক কিছুই থাকছে ডায়েট চাট এর বাইরে খাচ্ছেন কিংবা ভেতরেও খাচ্ছেন । তাতে সমস্যার কিছু নেই কিন্তু সেই খাবারগুলো লিপিবদ্ধ করার অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে তুলুন । আপনি যদি প্রতিদিন যা খাবেন তা লিপিবদ্ধ করতে পারেন তাহলে আপনার সুস্বাস্থ্য গঠনে আপনি একধাপ এগিয়ে যাবেন । যেমন ধরুন আপনি সারাদিন অনেক কিছু লিখেছেন তার সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ক্যান্ডী খেয়েছেন । আপনি সে কথাটি ভুলে যেতেই পারেন যে চকলেট আপনার জন্য ক্ষতিকর । যখন আপনি এই চকলেটের কথাটিও লিপিবদ্ধ করে ফেলবেন । তখন আপনার মনে হবে যে আপনার সেই খাবারটি খাওয়া ঠিক হয়নি । তাই পরবর্তীতে সে খাবারটি খেতে গেলে আপনার চ্যাটের কথা মনে পড়বে । আর আপনি সেই খাবার থেকে বিরত থাকবেন । আপনি প্রতিদিন যে পরিমাণ স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন সেগুলো লিপিবদ্ধ করুন । সঙ্গে সঙ্গে এটা লক্ষ্য করুন যে আপনার খাবারে কোন ঘাটতি নেই তো । প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দু বার আপনার সেই চারটি পর্যবেক্ষণ করুন । আর প্রয়োজন অনুসারে খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন । তবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বচ্ছতা অবলম্বন করুন । না হলে নিজের ফাঁদে নিজেই পড়ে যাবেন ।

 

খাবারের প্রোডাক্ট লেভেল ভালো করে পড়ুন – প্রত্যেকটি খাবারের উপর প্যাকেজিং করা থাকে । আসিফ প্যাকেজিং এর উপর প্রডাক্ট লাবেল দেয়া থাকে । আমাদের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যারা প্রডাক্ট লেভেল পুরোপুরি লক্ষ্য করে । তবে সাধারণত আমরা প্রডাক্ট লেভেলে শুধু এক্সপায়ার ডেট দেখে থাকি । শুধু এক্সপায়ার ডেট দেখলেই হবে না এর পাশাপাশি প্রোডাক্ট লেভেলের অন্যান্য বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে । আপনি যে প্রোডাক্টটি কিনছেন খাবার জন্য সেই প্রোডাক্টে কোন কোন উপাদান কি পরিমান আছে তা লক্ষ্য করো । আমি নিজের ডায়েট চার্টের সাথে মেলানোর চেষ্টা করুন । আপনি যদি সময় নিয়ে প্রডাক্ট লেভেল এর উপাদান গুলোর তালিকা অপুষ্টির তথ্যাবলী পড়ে নেন তাহলে আপনি কী খাচ্ছেন সে সম্পর্কে আপনি জানতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সচেতন হতে পারবেন । যথাসম্ভব চিনি ও সোডিয়াম যুক্ত খাবার গুলো এড়িয়ে চলুন । লেভের পড়ার সময় অবশ্যই দেখে নিবেন প্রোডাক্টটি কোন ভালো কোম্পানির কিনা ।

 

সময় করে ফল ও শাকসবজি কাটুন – আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন ফল শাকসবজি কেনার পর সেগুলো না খেয়ে নষ্ট করে ফেলেন । যা সত্যি খুব খারাপ একটি অভ্যাস । তাই সময় পেলেই ফল ও শাকসবজি কাটুন এবং খাবার চেষ্টা করুন । আপনি যে ফলগুলো খেতে ভালোবাসেন সেগুলো সময় করে কাটুন যেন সময় পেলেই সেগুলো খেতে পারেন । যথাসম্ভব রেফ্রিজারেটর এগিয়ে চলো । তবে রেফ্রিজারেটরে কিছু ভাল দিকও রয়েছে । যেমন আপনার হঠাৎ ক্ষুধা লাগতে পারে । আপনি সে সময় বাহিরে জিনিস খেতে চাইতে পারেন । তখন বাইরের খাবার না খেয়ে চট করে রেফ্রিজারেটর খুলে দেখতে পারেন, আপনার খাবার কিছু আছে কিনা ? এছাড়া রেফ্রিজারেটর আপনার খাবার নষ্ট কমিয়ে আনবে ।

 

অনলাইনে খাবার কেনার অভ্যাস তৈরি করুন – যদিও বা আমাদের সকলের অনলাইনে খাবার কেনার সুযোগ-সুবিধা থাকে না । তারপরও অনলাইনে খাবার কেনা বেশ সুবিধা রয়েছে । যেমন ধরুন আপনি মরে দোকানে কিছু কিনতে গেছেন আপনার অজান্তেই এমন কিছু খাবার মুদি দোকান দিয়ে ফেলল আপনি জানতে পারলেন না সেগুলোর মধ্যে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে । এক্ষেত্রে আপনি যদি অনলাইনে ওটাতো করতেন তাহলে প্রত্যেকটি প্রোডাক্টের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সেখানে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া থাকে ।

 

অনুশীলন কিংবা ব্যায়াম করুন – স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য অনুশীলন খুবই জরুরী একটি মাধ্যম । নিয়মিত অনুশীলন ছাড়া আপনি কখনোই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারবেন না । আর স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তো অনুশীলন আপনার করতেই হবে । সপ্তাহে পাঁচ দিনের জন্য দিনে কমপক্ষে 30 মিনিট করে ব্যায়াম করুন । ব্যায়ামের জন্য আপনি নির্দিষ্ট ফর্মুলা অবলম্বন করুন । আপনার শরীর সহ্য করতে পারে এ রকম ব্যায়াম করুন । কখন এই আপনার শরীর সহ্য করতে পারে না এরকম ব্যায়াম করার চেষ্টা করবেন না । এতে আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটবে । তাই আপনি প্রথমবারের মতো যদি ব্যায়াম করেন সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট বিষয় দিয়ে শুরু করতে পারেন । যেমন ধরুন নিয়মিত হাঁটা বা দৌড়ানো । আপনি চাইলে সাঁতারও কাটতে পারেন । সাঁতার আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো । আপনি যখন নিয়মিত অনুশীলন করবেন তখন আস্তে আস্তে ওয়েট লিফটিং শুরু করতে পারেন । নিয়মিত পুশ আপ সিট আপ বা জগিং করার চেষ্টা করুন । আপনি চাইলে ফোনে কথা বলার সময় হেঁটে হেঁটে জগিং করতে পারেন । এক্ষেত্রে আপনি বুঝতেই পারবেন না আপনি হাঁটছেন নাকি অন্য কিছু করছেন ।

 

আপনার হাত ধুয়ে নিন – আমাদের শরীরের সমস্ত প্রকার রোগ জীবাণু মূলত আমাদের হাতেই আমাদের শরীরে প্রবেশ । তাই মাঝেমধ্যেই হাত ধোয়ার অভ্যাস টি তৈরি করুন । এতে করে অল্প কষ্টের মাঝেই আপনি নানা ধরনের রোগ থেকে বাঁচতে পারবেন । খাবার আগে এবং পরে কমপক্ষে 20 সেকেন্ডের জন্য গরম জল কিংবা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন এবং পরে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে এটিকে শুকিয়ে ফেলুন । আপনি যদি জল কিংবা সাবান ব্যবহার করতে না চান সে ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন । আপনি চাইলেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিজের কাছে রাখতে পারেন ।

 

ধূমপান এড়িয়ে চলুন – ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা আমরা সকলেই জানি । কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যারা এ বিষয়টি জানার পরও ধূমপান ত্যাগ করতে পারেন না । কেননা এ বিষয়টি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । তারা বুঝতেই পারছে না যে ধূমপানের ফলে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে । তারা ভাবেন তাড়াতাড়ি ইন্সটেন্টলি তো ক্ষতি হচ্ছে না । আই তারা ধুম পান করা অব্যাহত রাখেন । আপনার জানার জন্য বলছি আপনি যদি ধূমপান করেন কখনোই আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করা সম্ভব নয় । কেননা ধূমপান আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ একটি বিষয় ‌ । আপনি যদি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চান তাহলে ধূমপান একেবারে ছাড়তে হবে । অন্যথায় আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয় ।

 

ইতিবাচক চিন্তা করুন – আপনি কি ঘুম স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইবেন তখন আপনার অবশ্যই ইতিবাচক চিন্তা মাথায় রাখতে । কখনোই নেতিবাচক চিন্তা করবেন না এতে আপনি পিছিয়ে পড়বে । স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চাইলে শুরুতেই এটা ভাবতে শুরু করুন আপনি অবশ্যই নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারবেন । আপনি কখনোই হারবেন না আর মানবেন না ।

 

মেডিটেশন করুন – নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করার চেষ্টা করুন । নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার মানসিক চাপ অনেকাংশেই কমে যাবে । আর আপনি যখন মানসিক চাপ মুক্ত থাকবেন তখন আপনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে । সময় না পেলে ও প্রতিদিন কমপক্ষে 10 মিনিটের মত মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন । চোখ বন্ধ করে সোজা হয়ে বসুন নিজের মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন আর আপনার ইতিবাচক দিক গুলি মনে করার চেষ্টা করুন গভীরভাবে শ্বাস নিন ।

 

পর্যাপ্ত ঘুমান – আপনার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের জন্য কিংবা স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরী । পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া আপনি কখনোই আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারবেন না । প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন । অনেকেই রাত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে পারেন । তাই তাদের মধ্যে অকালে উচ্চ রক্তচাপ মানসিক চাপ কিংবা বেশি বয়স ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় । আপনার শোবার ঘরটি আরামদায়ক ও শীতল ও তাপমাত্রা রাখার চেষ্টা করুন । শুধুমাত্র সবার জন্যই শোবার ঘরটি ব্যবহার করুন । অন্যথায় অন্য কোন কাজে শোবার ঘরটি ব্যবহার করবেন না । তাহলেই দেখবেন আপনার ঘুমাতে খানিকটা ইচ্ছে করছে ।