কিভাবে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশ করা যায় ( How to improve your personality )

প্রত্যেকটি মানুষের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বিদ্যমান । আর এই ব্যক্তিত্বই একটি মানুষ অপর মানুষের থেকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে । অর্থাৎ প্রত্যেকটি মানুষের আলাদা আলাদা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন । হয়তোবা প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল থাকতে পারে তাই বলে পুরোপুরি ব্যক্তিত্ব মিলে যাবে এরকমটা হতে পারে না । একটি মানুষের ব্যক্তিত্ব দেখেই বোঝা যায় সেই মানুষটি কি রকম । মানুষের ব্যক্তিত্ব মূলত বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি । সেই বৈশিষ্ট্য ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক ও হতে পারে । ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মানুষ সাধারণত ভালো ব্যক্তিত্বের মানুষ হয়ে থাকেন । অপরদিকে নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের মানুষ খারাপ ব্যক্তিত্বের মানুষ হয়ে থাকেন । সময়ের সাথে সাথে আপনার ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করতে হতে পারে । যেমন ধরুন স্কুলের শুরুতেই আপনার ব্যক্তিত্বের খানিকটা পরিবর্তন করতে হবে । কেননা আপনি যখন প্রাইমারি লেভেলে পড়াশোনা করেছেন সেখানে আপনার আচার-আচরণ একরকম ছিল যা স্কুলে এসে বেমানান । স্কুলে এসে আপনার নির্দিষ্ট কিছু আচার ব্যবহারে পরিবর্তন আবশ্যক হয়ে পড়বে । আচ্ছা আপনাকে সময় সাথে অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে । আপনি চাইলে আপনার ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন করতে পারবেন এমনকি আপনার ব্যক্তিত্বের উন্নতি সাধন সম্ভব । এর জন্য চাই নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন । তাই বলে ভালো ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হলে আপনাদেরকে পুরোপুরি অন্য কোনো মানুষকে অনুসরণ করতে হবে এরকম কিছু নয় । আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে সেই মানুষের ভেতরে কিছু গুণাবলী । আর আয়ত্ত করতে হবে নিজের ব্যক্তিত্বের মাঝে । আমাদের আজকের এই ব্লগপোস্ট থেকে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব আপনি আপনার ব্যক্তিত্বের বিকাশ কিভাবে খুব সহজেই করতে পারবেন । চলুন তাহলে দেরি না করে শুরু করা যাক ।

 

ব্যক্তিত্ব বিকাশের সহজ উপায়

 

✅নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হোন – নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হবার কথা শুনেই আপনার হয়তো একটু অন্যরকম লাগতে পারে । আপনার মত মনে হতে পারে এ আর এমন কি । নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার মানে এই নয় যে আপনি শুধু হায় হ্যালো নাম ঠিকানা অথবা পরিচয় করে আলাপচারিতা শেষ করে দেবেন । বরং এমন মানুষদের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন যারা আপনাকে নতুন কিছু শেখাবে আপনাকে সামাজিক কৌশল রপ্ত করতে সহায়তা করবে । তবে নতুন কোন মানুষের সাথে পরিচিত হবার আগে সাবধানতা অবলম্বন করবেন । কেননা এমন কোন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যাবে না যে, যে ব্যক্তিটি আপনার মাঝে খারাপ ব্যক্তিত্বকে জাগিয়ে তুলবে । আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষই আছেন যারা ভালো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে থাকেন । অথচ আমরা সময় করে তাদের সাথে কথা বলো সুযোগ করে নিতে পারে না । তাই সুযোগ করে সেই সকল মানুষগুলোর সাথে মেলামেশা চেষ্টা করুন । তাদের সম্পর্কে জানুন । তাদের আচার-ব্যবহার অনুকরণ করুন । বুঝতে চেষ্টা করুন তাদের মাঝে কি কি ভালো গুণ বিদ্যমান রয়েছে । আর আপনি যদি ওরকম কোন মানুষ আমরা আশেপাশে খুজে না পান তাহলে আপনি চাইলে কোন ক্লাবে জয়েন করতে পারেন । এমনকি সেই ক্লাবে জয়েন করার পর আপনি আপনার পছন্দ মত মানুষদের নিয়ে একটি গ্রুপ বানিয়ে নিতে পারেন । যাদের সাথে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে পারেন ।

 

✅ভালো শ্রোতা হওয়ার চেষ্টা করুন – ভালো ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো ভালো শ্রোতা হওয়া । একটি মানুষ ভালো শ্রোতা না হলে তার ব্যক্তিত্ব কখনোই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় । এক্ষেত্রে আমরা জ্যাকলিন ক্যনিডির নামটি নিতে পারে । তিনি সারা বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব । তার অন্যতম কারণ হলো তিনি একজন ভালো শ্রোতা । আর এই গুণটি সকলের মাঝে দেখা যায় না । আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা মানুষের কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনতে পারেন না । বরং অন্যের কথা শুনলেই বিরক্ত বোধ করি । নিজেকে কোনো না কোনো বাহানায় সেখান থেকে সরিয়ে নেই । একজন মানুষ যখন আপনার সাথে কথা বলবেন অবশ্যই তার কথা আপনাকে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে । তা না হলে সেই মানুষটি আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা করবে । যা আপনার ব্যক্তিত্বে এক ধরনের খারাপ প্রভাব ফেলবে । তাই বলে ভালো শ্রোতা হওয়ার জন্য আপনাকে সারাদিন গল্প-গুজব করতে হবে এরকম কোন কথা নেই । সারাদিন যদি আপনি গল্পগুজবও করেন এটাও আপনার ব্যক্তিত্বের জন্য খারাপ একটি দিক। মোটকথা হলো যখন আপনি কোন মানুষের সাথে কথা বলবেন অবশ্যই তার প্রত্যেকটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং কথার মাঝে কোন কথা বলবেন না । তার কথা শেষ হয়ে গেলে আপনার কিছু বলার থাকলে তা বলে ফেলুন ।

 

✅সুন্দরভাবে কথা বলুন – সুন্দর ভাবে কথা বলা আর ব্যক্তিত্বের মাঝে এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান । আমরা একজনের কথা শুনেই তার ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিতে পারি । যেটা অনেক সময় ভুল হতে পারে । আমরা খেলে সুন্দরভাবে কথা বলা বলতে স্টাইল করে কথা বলা কে বুঝায় নি । আমাদের কন্ঠটা স্রষ্টাপ্রদত্ত । যা আমরা চাইলেও পরিবর্তন করতে পারব । কিন্তু আমরা কি বলছি কথা বলার জন্য কোন শব্দ গুলো ব্যবহার করছি আমরা চাইলেই পরিবর্তন করতে পারি । মূলত সুন্দরভাবে কথা বলা বলতে আমরা এখানে সুন্দর বাচনভঙ্গি এবং সুষ্ঠু শব্দের ব্যবহার বুঝিয়েছি । আপনি যখন কারো সাথে কথা বলবেন তখন আপনার শরীরী ভাষা প্রকাশ করার চেষ্টা করবেন । কথা বলার সময় শরীরী ভাষা আমরা নানাভাবে প্রকাশ করতে পারি । যেমন আলোচনার সাথে সমুদ্র আপনার হাত মুখে ব্যবহার করতে পারেন । এমন কি কথা বলার সময় আপনি যে মানুষটির সাথে কথা বলছেন তার চোখে চোখ রেখে কথা বলার চেষ্টা করুন । আপনাকে অবশ্যই কথা বলার সময় স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষায় কথা বলতে হবে । যেন যার সাথে আপনি কথা বলছেন তার আপনার কথাগুলো বুঝতে কষ্ট না হয় । আপনি যার সাথে কথা বলছেন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি তার কথায় কতটা আগ্রহী । এভাবে যখন আপনি কথা বলবেন অপরপক্ষে মানুষটি আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করবে এবং আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে ফিরে যাবেন । পরে হয়তো সেই ব্যক্তিটি আপনার ব্যক্তিত্বের কথা আরেকজনের কাছে প্রকাশ করবেন । তা আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশে অনেক সহায়তা করবে ।

 

✅পোশাক নির্বাচনে সজাগ থাকুন – ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে পোশাক । আর এর জন্য আপনাকে অবশ্যই সঠিক পোশাক নির্বাচন করতে হবে । কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী । আপনি যেখানেই যান না কেন সেখানে শুরুতেই আপনাকে দেখেই যেন আপনার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে না পারে । এজন্য অবশ্যই আপনাকে ভালো পোশাক পরিধান করতে হবে । তাই বলে ভালো পোশাক মানে আপনাকে দামি পোশাক পরতে হবে এমন কিছু না । বরং এমন পোশাক পরতে হবে সেটা আপনার বয়স সময় স্থান এবং পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ থাকে ।

 

✅অপ্রয়োজনে কথা না বলা – মাত্রা অতিরিক্ত কথাবাত্রা আপনি আমি কেউই পছন্দ করিনা আর এটা স্বাভাবিক একটি বিষয় । আপনি যখনই বেশি করে কথা বলবেন ঠিক তখনই আপনি অপর মানুষটির অপছন্দের তালিকায় পড়ে যেতে পারেন । আর সেই মানুষটি আপনার সম্পর্কে খারাপ ভাবতে শুরু করবে । ফলে আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে । এজন্য চাই প্রয়োজনীয় কথা বলার অভ্যাস ত্যাগ করা । যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই কথা বলুন । অযথাই বকবক না করে একটু ভালো শ্রোতা হওয়ার চেষ্টা করুন । অপর মানুষটিকে কথা বলার সুযোগ করে দিন । তা না করে সারাক্ষণ যদি আপনি কথা বলেই চান সে মানুষটি আপনার সাথে বিরক্ত হয়ে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে ।

 

✅কথা ও কাজে মিল রাখা – একজন ভালো মানুষের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কথা কাজে মিল রাখা । যদিওবা বর্তমানকালে ধরনের বৈশিষ্ট্য মানুষের মাঝে খুব কম দেখা যায় । আপনার ভাল ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অবশ্যই কথা কাজে মিল রাখতে হবে । এমন কোন কথা কখনোই বলবেন না যে আপনি করতে পারবেন না । যেমন ধরুন আপনি কাউকে বলছেন কাল আপনি সকাল আটটার টায় তার সাথে দেখা করবেন । অথচ আপনি আপনার জীবনেও কখনো কোনদিনও সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন নি । কিন্তু সেই লোকটি আপনার কথা বিশ্বাস করে আপনার জন্য সকাল আটটার দিকে অপেক্ষা করবে । আপনি আপনার বদঅভ্যাসের কারণে হয়তো সেদিনও ঘুম থেকে উঠতে দেরি করবে । আর সেই মানুষটিকে যে কথা দিয়েছেন তার খেলাপ করবেন । ফলে সেই লোকটি আপনার সম্পর্কে খারাপ মনোভাব প্রকাশ করবে । এমনকি আপনার এই বদ অভ্যাসের কথা অন্য মানুষের কাছে বলে দিতে পারেন । এখন আপনি অন্যান্য সকলের কাছে খারাপ একটি মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবেন । আপনি যখন আপনার কথা ও কাজে মিলাতে পারবেন তখন আপনার গ্রহণযোগ্যতা সকলের কাছে আকাশচুম্বী হয়ে যাবে । আর অন্য মানুষের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতায় আপনার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ।

 

✅কাজে মনোযোগী হোন – পৃথিবীতে সেই সকল মানুষ গুলোকে কদর করা হয় যারা কাজে খুব বেশি মনোযোগী হয়ে থাকেন । ভাবুন তো আপনি এমন একজন কে চেনেন কিংবা জানেন সে কাজে খুব একটা মনোযোগী নন । আপনাকে যদি বলা হয় সে মানুষ সম্পর্কে কিছু একটা বলব আপনি তখন কি বলবেন ? আপনি তো তখন বলবেন আরে ও তো ভালো না , ঠিকঠাক কাজও করেনা এবং কাজে খুব একটা মনোযোগীও না । আপনিই ছোট-বড় যে কাজই করুন না কেন অবশ্যই সেই কাজে মনোযোগী হবার চেষ্টা করুন । কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মনোযোগ হারিয়ে ফেলবেন না । আপনি যদি একজন মানুষকে একটি কাজ করে দেবেন বলে একদিনের সময় চেয়ে নিয়েছেন । অথচ সেই মানুষটির কাজ পাঁচ দিনেও করতে পারেননি , তাহলে সে মানুষটি আপনার সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ মন্তব্য করবেন এটাই স্বাভাবিক । তাই আপনার ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অবশ্যই আপনাকে কাজে মনোযোগী হতে হবে ।

 

✅আত্মবিশ্বাসী হোন – ব্যক্তিত্ব বিকাশের গুণাবলীর গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আত্মবিশ্বাসী হাওয়া । একজন মানুষ হিসেবে অবশ্যই আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে । আর তা না হলে আপনি অন্যান্য অনেকের থেকে পিছিয়ে পড়বেন । আপনি যা কিছুই করেন না কেন এত বিশ্বাসের সাথে করবার চেষ্টা করুন । ধরুন আপনি আপনার অফিসের বসের সাথে কথা বলছে । অথচ যখন আপনি কথা বলছেন তখন আপনার আত্মবিশ্বাসের কমতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । ঠিক তখন হয়তো আপনার বস আপনার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন । যা আপনার খারাপ লাগবে এটাই স্বাভাবিক । অপরদিকে আপনি যদি আপনার বসের সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলেন তাহলে আপনার বস আপনার উপর আরো বেশি আস্থা রাখবেন । আপনার পরবর্তীতে যে কোন কাজেই আপনাকে উৎফুল্ল রাখতে সাহায্য করবে । জীবনের প্রতিটি কাজ আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে করার চেষ্টা করবেন । তাহলে আপনি হয়তো বহুদূর যেতে পারবেন ।

 

আশা করি আপনি আপনার জীবনে ভালো ও সু-সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে পারবেন । আরে জন্য আপনাকে অবশ্যই উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখতে হবে । আর তা না হলে হয়তো আপনি আপনার লক্ষ্যে নাও পৌঁছাতে পারে । আপনার জীবন সুখের এবং সুন্দর হোক এই আশা করি । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *