মন খারাপ হলে কি করা উচিত ( how to make the mind better )

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে মন খারাপ হওয়াটায় সাধারণ একটি ঘটনা । মন খারাপ হয় না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর । মানুষ তো দূরের কথা বিভিন্ন ধরনের পশু পাখি রয়েছে যাদের ও দুঃখ কিংবা মন খারাপ বিদ্যমান । মন খারাপ হয় বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে । সেটা অনেক সময় খুবই সামান্য আবার সময় বেঁধে সেটা হয়ে যায় অনেক বড় । বড় ছোট সে যাই হোক মন খারাপ  তো বসে থাকা যায়না । আপনি যখন মন খারাপ নিয়ে বসে থাকবেন তখন আপনার কাজকর্ম কোনোটাতেই মন বসবে না । তখন আপনি আশেপাশের প্রত্যেকটি মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করবেন । চারদিকে সবকিছুই তখন আপনার অসহ্য লাগবে এটাই স্বাভাবিক । আর তাই আমি আপনাদের এই মন খারাপের বিষয়টি থেকে বাঁচার জন্য একটি বিশেষ হাতিয়ার এর কথা জানাবো । চলুন তাহলে দেরি না করে জানা যায় আপনি কিভাবে খুব সহজেই আপনার মন খারাপ থেকে মন ভালো করবেন ।

 

মন খারাপ হলে মন ভালো করার উপায়

 

কিছুদিন আগেই আমি আমার এক বন্ধুর বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে যাই । যেহেতু বাড়ির ভেতরে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তাই সকলে মিলে বাহিরে তাদের জুতা খুলে বাসার ভিতরে প্রবেশ করছেন । কিন্তু এ বিষয়টি আমার একেবারেই অজানা ছিল । বিয়ের সেদিন আমি গিয়েছিলাম আমার এক নতুন জুতা পরে । যে জুতাটি আমি কিনেছিলাম মাত্র 25 দিন আগে । জুতোটা এত দামী আর খুব আরামদায়ক হওয়ার কারণে জুতোটা আমার পছন্দের তালিকায় উঠে আসে । মোটকথা ওই জুতো পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে । তাই কতগুলো জুতোর মাঝখানে আমার জুতোটা রাখার সময় আমার বারবার মনে হচ্ছিল আমার জুতোটা হারিয়ে যাবে না তো । এটা ভেবেই মনের ভেতর কেমন যেন হচ্ছে । তাই একটু সাইডে জুতো রেখে আমি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করি । তারপর ভেতরে গিয়ে বিয়ের জম্পেশ খাওয়া খেলে পেট ভরে । এবার বাড়ি যাওয়ার পালা । তাই বাসা থেকে বাহিরে যাবার জন্য বের হয়ে দেখি আমার জুতোটা আর নেই । যে ভয়টা পেয়েছিলাম ঠিক যেন সেটাই হল। আমার জুতোটা হারিয়ে গেল । হয়তো কোন একজন ব্যক্তি আমার জুতোটা নিজের মনে করে পায়ে দিয়ে চলে গেছে । আর সাথে সাথেই আমার মমতা একেবারেই খারাপ হয়ে গেল । ভাবতে লাগলাম আমার পছন্দের জুতা হারিয়ে গেল ? আর এজন্য একদিকে আবার লজিক্যাল বুদ্ধি বলছে একটা জুতো হারিয়ে গেছে তাতে কি , অপরদিকে আমার মানসিক বুদ্ধি বলছেজুতোটা না হারালো পারত আমার নিজের দোষ এই জুতোটা মেয়ে হারিয়েছে । আর এভাবেই মানসিক বুদ্ধি একের পর এক নেতিবাচক চিন্তা মাথায় ঘুরছিল । যেমন ধরুন – এতদিন পর একটা জুতো ভালো লাগলো আর সেটাই হারিয়ে গেল, এতগুলো জুতোর মাঝ থেকে আমার জুতোটাই কি হারানোর দরকার ছিল ? আর কেনইবা আমি একটু সাবধানতা অবলম্বন করলাম । আর এভাবে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা আমার মনটাকে আরো খারাপ করে দিতে লাগলো । আমার লজিক্যাল ব্রেন মাঝে মাঝে বলতে লাগলো একটা জুতোর জন্য এত মন খারাপ করার কি আছে ? আর মন খারাপ করলে কি জুতোটা ফেরত পাওয়া যাবে কখনোই না ? আর এভাবে লজিক্যাল বুদ্ধি এবং মানুষের বুদ্ধির মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চলছে । এর মধ্যেই ভাবতে লাগলাম একটু ইতিবাচক চিন্তা করলে কেমন হয় ।

 

তখন আমি ভাবতে লাগলাম আমার মাথায় যা চলছিল তার মূলই হলো ” ইস আমার জুতোটা হারিয়ে গেল মনটা বড্ড খারাপ লাগছে ” । আর তাই আমি এর বিপরীত ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা টা বারবার মনে করতে শুরু করলাম । আর তা হল ” বাহ আমার জুতোটা হারিয়ে গেল ভালোই হয়েছে নতুন একটা জুতো কিনতে পারব ” । আর ঠিক তখন মানসিক বুদ্ধি চিৎকার করে বলতে লাগল ” কি হয়েছে তো পাগল হয়ে গেছিস নাকি , জুতো হারিয়ে গেছে আর তুই বলছিস ভালোই হয়েছে, কিসের জন্য তুই এত খুশি ? “। আর এই ” কিসের জন্য কি এত খুশি ? ” এই প্রশ্নটিই যেন আমার নতুন ভাবনার জন্ম দিয়েছে । আর তা হল আমি এতক্ষণ ধরে জুতোটা হারানোর শুধুমাত্র নেগেটিভ দিক খুজছিলাম । আর এই প্রশ্ন দাঁড়ায় আমার জুতোটা হারানোর ইতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে । জুতো হারানোর ইতিবাচক দিক গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো – নতুন একটা জুতো কিনে পড়তে পারবো , তাছাড়া আমার জুতোটা বেল্ট দেওয়া ছিল না যার কারণে পা থেকে যতটা বারবার খুলে আসছিল , এবার না হয় নতুন বেল্ট যুক্ত জুতো কিনবো যাতে করে খুলে আসার যন্ত্রণাটা আর ফিরে না আসে , আর জুতোটা যে নিয়েছে তার নিশ্চয়ই আমার জুতোটা খুব পছন্দ হয়েছে , আর এই কারনেই কাউকে না কাউকে তো তার নিজের পছন্দের একটা জিনিস গিফট করতে পারলাম । আর এভাবে একের পর এক পজিটিভ চিন্তা মাথায় আসার পর এতক্ষণ ধরে যেখানে আমার মন খারাপ হচ্ছিল , সেখানে যেন আস্তে আস্তে খুশির অনুভূতি তৈরি হতে লাগল । সত্যি যেন বাস্তবতাটা আস্তে আস্তে পাল্টাতে শুরু করলো ।

 

আপনার জীবনেও যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমার কথাগুলোর সাথে নিশ্চয়ই আপনি আপনার জীবনের সেই ঘটনার সংমিশ্রণ ঘটাতে পারবেন । আমাদের প্রত্যেকেরই ছোটখাট জিনিস হারানোর ফলে আমাদের মন খারাপ হয়ে যায় আর এ কারণে অনেক কষ্ট পেয়ে থাকি । এক কথায় বলতে গেলে যখনি আমাদের সাথে এরকম কিছু ঘটে , যেটা আমরা চাইনা আমাদের সাথে ঘটুক আর তখনই আমাদের মন খুব খারাপ হয়ে যায় । আর এর অন্যতম কারণ হলো ঘটনার সাথে সম্পর্কিত সব ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমাদের মাথায় এসে আঘাত হানতে শুরু করে । ফলে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা সমস্ত দিক ভেঙে চুরে যায় । আর এই নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকতে হলে আপনাকে সবচেয়ে সাহায্য করবে তিনটি শব্দের এই কথাটি আর তা হল – ” আমি খুব খুশি ” ।

 

একদিনে শিশু বাচ্চার মা তার ছেলেকে বলেন – শোনো বাবা জীবনে তুমি যা খুশি করো না কেন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবনে খুশি থাকা । আর সেই বাচ্চাটি যখন পরদিন সকালে স্কুলে যায় তখন সেই স্কুলের এক শিক্ষিকা সব স্টুডেন্ট কে একটা প্রশ্ন করেন । শিক্ষিকা প্রশ্ন করেন শোনো বাবুরা তোমরা বড় হয়ে কে কি হতে চাও আমাকে জানা ? উত্তরের জবাবে অনেক বাচ্চারাই বলল আমি ডাক্তার হতে চাই কেউবা বলল আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই কে বলল আমি পাইলট হতে চায় । আর সে মুহূর্তে সে বাচ্চাটি বলল আমি বড় হয়ে খুশি হতে চাই । সেই উত্তর শুনে শিক্ষিকা তাকে বলল , না বাবা তুমি আমার প্রশ্নটা হয়তো ঠিকঠাক বুঝতে পারোনি । আর তখন সেই বাচ্চা ছেলেটি তার টিচারকে বলে , না ম্যাডাম আপনি জীবনটাকে বুঝতে পারেন নি ।

 

আমরা জীবনে যা কিছুই করি না কেন ভালো-খারাপ সে যাই হোক না কেন তার মূল উদ্দেশ্যই থাকে খুশি থাকা । কিন্তু আপনি জীবনে যা চাইছেন তা সব সময় নাও পেতে পারেন । আর তাই এই না পাওয়ার বেদনার সাথে লড়াই করার জন্য একটা হাতিয়ার তৈরি রাখা অত্যন্ত জরুরী । আর সেই হাতিয়ার টাই হলো ” আমি খুব খুশি ” । এবার পরবর্তীতে আপনার যখন এই ছোটখাটো বিষয়ে আপনার মন খারাপ হয়ে যাবে । যেটা আপনি লজিক্যালি জানেন এইটুকুর জন্য এতটা মন খারাপ করা উচিত না । আর সে মুহূর্তে একবারের জন্য হলেও এই হাতিয়ার টা ব্যবহার করবেন । আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এ ব্যাপারটি আপনার অনেক কাজে আসবে । একথাটি যখন আপনি মনে মনে ধারন করার চেষ্টা করবেন তখন অন্য সকল ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আপনার মাথায় ঢোকার জায়গা পাবে না । আর এভাবেই আপনি ইতিবাচক চিন্তা মনের মধ্যে ধারণ করে আপনার মন খারাপের বিষয়টি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেন । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *