কিভাবে বাবাকে খুশি করা যায়

আমাদের প্রত্যেকেরই বাবা-মার সাথে আমাদের খুব ভালো একটা সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে । প্রত্যেকের সন্তান বাবা-মার কাছে খুবই আপন । বিশেষ করে মেয়ের সাথে তার বাবার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট হয়ে থাকে । কিন্তু তাই বলে যে ছেলেদের সঙ্গে খারাপ হয় এরকমটা নয় । প্রত্যেকেই তাদের বাবার সাথে একটি ভালো সম্পর্ক বা বন্ধন তৈরি করতে চায় । কেননা বাবা এমনই এক ব্যক্তি তিনি পরিবার প্রধান অর্থাৎ কর্তা ব্যক্তি তিনি । এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে বাবাকে সন্তুষ্ট করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে । অথচ সেই সময়টায় আপনার বাবাকে খুশি করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে । সামান্য কিছু বিষয় মাথায় রাখলেই আপনার বাবার সাথে আপনার সম্পর্ক অনেক ভালো হবে । আমাদের আজকের এই ব্লগে বাবাকে কিভাবে সুখী করা যায় তা নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করব ।

 

বাবাকে খুশি করার উপায়

 

সময় কাটান – যেকোনো মানুষের সাথে সম্পর্ক উন্নতি করতে গেলে যতটা পারা যায় তার সাথে সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি । কেবলমাত্র একটি মানুষের সাথে বেশি বেশি সময় কাটালেই তার সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা যায় । অন্যথায় এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয় । সময় কাটানোর একটা সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরী । এমন অনেকেই আছেন যারা কম বাবার সাথে সময় কাটাতে অস্বস্তিবোধ করেন । আবার এমন অনেকেই আছেন যারা ইচ্ছে হলেও বাবার সাথে সময় কাটাতে পারেন না । যেমন ধরুন স্কুলের দিনগুলোতে আপনার সময়সূচী অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে এবং আপনার বাবার ও অফিস বা কাজ থাকতে পারে । তবে যে করেই হোক এই দিনগুলোতে বাবার সাথে খানিকটা সময় কাটানোর চেষ্টা করতে হবে । আরে অতিরিক্ত প্রচেষ্টা আপনার আর আপনার বাবার বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে । আর কিছু না হোক প্রতিদিন তার সাথে একসাথে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন । এতে করে খাবার টেবিলে বসে তার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন । আপনি চাইলে ছুটির দিনগুলোতে আপনার বাবা-মা সহ ফ্যামিলির অন্যান্য সদস্যদের সাথে বিশেষ সময় কাটাতে পারেন । যেমন ধরুন বাহিরে ঘুরতে যাওয়া সিনেমা দেখা শপিং করা বাসায় বসে আড্ডা বাজি ইত্যাদি । আর বন্ধের দিন আলোচনা করার জন্য একটি দুর্দান্ত সময় হতে পারে । এই এই সময় গুলোতে আপনার বাবার সুবিধা অসুবিধার কথা বলে জানুন, আপনার বাবা কি বলতে চান তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন । এটা দেখবেন আপনার বাবা অনেক খুশি হবেন ।

 

যুক্তি এড়িয়ে চলুন – আপনার বাবার সাথে কখনো তর্ক বা যুক্তিতে জড়াবেন না । এতে আপনার বাবার অনেক মন খারাপ হতে পারে । তাছাড়া বড়দের সাথে তর্ক বা যুক্তি কোনোটি ভালো ফল বয়ে আনে না । এমন অনেক সময় আসতে পারে যেখানে আপনি আপনার বাবার সাথে একমত নাও হতে পারে, কিন্তু তাই বলে সঙ্গে সঙ্গে আপনার বাবার সাথে তর্কে জড়িয়ে যাবে বা নিজের মতামত জাহির করার চেষ্টা করবেন । যেকোন আলোচনার সময় নিজের মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা । কখনই উত্তেজিত হবেন না । আরো কিছু তো হঠাৎ আপনার নিজের শরীরের জন্য ক্ষতিকর । আপনি যদি কখনো রাগান্বিত বোধ করে নিজেকে তাহলে নিজের মনকে শান্ত করার জন্য আস্তে আস্তে শ্বাস নিন । আপনি চাইলে ঠান্ডা পানীয় পান করতে পারেন । এটা আপনাকে শান্ত হতে সাহায্য করবে । যথাসম্ভব আপনার বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়গুলো বিবেচনা করার চেষ্টা করুন । আপনাকে কিছু করতে না দিলে সঙ্গে সঙ্গে শেখাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার দরকার নেই । বরং এটা ভাবুন যে আপনাকে বারণ করার পেছনে অবশ্যই আপনার নিজেরই ভালো লুকিয়ে আছে । কেননা কোন বাবা মা চান না যে তার সন্তান কষ্ট পাক ।

 

পরামর্শ করুন – বাবা হচ্ছে প্রত্যেক পরিবারের মস্তিষ্ক স্বরূপ । যে কোন পরামর্শের জন্য তাকে জিজ্ঞেস করুন । এতে যেমন তাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাবে , ঠিক তেমনি আপনি নিজেও ভালো একটি সিদ্ধান্ত পাবেন । বাবার সাথে যে কোন বিষয়ে পরামর্শ করুন সেটা হতে পারে স্কুল কলেজ বন্ধু-বান্ধব টাকা-পয়সা ফ্যামিলিগত বা অন্য কিছু । এটা মনে রাখবেন আপনার বাবা সে বিষয়ে বা পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি কোনোভাবেই আপনাকে ভুল ডিসিশন পরামর্শ দেবেন না । তিনি সবসময় এটা চিন্তা করবেন যে আপনি কিভাবে এগিয়ে যাবেন

 

ভালোবাসা প্রদর্শন করুন – শুধু ভালোবাসলেই হয় না ভালোবাসা প্রকাশ করাটাও অনেকাংশে জরুরি । আপনি আপনার বাবাকে যে কতটা ভালোবাসেন তা মাঝে মাঝে নানাভাবে প্রকাশ করুন । এতে আপনার বাবা অনেক খুশি হবেন । আর আপনার সাথে আপনার বাবার সম্পর্ক আরো মজবুত হবে । যেমন ধরুন তার সথে নিচু স্বরে কথা বলা নম্র আচরণ করা জড়িয়ে ধরা কিংবা মাঝে মাঝে চুম্বন করা । অনেক বাবাই আছেন যারা এগুলো পছন্দ নাও করতে পারে , কাদের সাথে সরিরী ভাষায় না বলে মানসিক ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করুন । আপনার বাবা যদি জড়িয়ে ধরা বিষয়টি পছন্দ না করেন তাহলে জোর করে জড়িয়ে ধরতে যাবেন না এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে ।

 

বাবাকে মূল্যায়ন করুন – সর্বদা বাবার মূল্যায়ন করার চেষ্টা করুণ । আপনার বাবা কি কি পছন্দ করেন কি কি পছন্দ করেন না প্রয়োজনবোধে তার একটি লিস্ট তৈরি করুন । আর সেই ভাবে আপনার বাবার সাথে আচরণ করুন ‌। আপনার বাবা কিভাবে কথা বললে রাগ করেন না কি বললে খুশি হন তা জানার চেষ্টা করুন । আমার মনে হয় প্রত্যেকের বাবাই চান যে তার সন্তান সর্বদা সত্য কথা বলুক । আর প্রত্যেক বাবাই চান তার ছেলে বা মেয়ে ঠিক একই গুণের অধিকারী । বাবার সাথে তাই সাধ্যমত সত্য কথা বলার চেষ্টা ।

 

পারিবারিক দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করা – যদি বা পারিবারিক দায়িত্ব ছিল তার মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়টিও জড়িত । কিন্তু তাই বলে আমি আপনাকে অর্থনৈতিক বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে বাবাকে হেল্প করার কথা বলছি না । শুধু টাকা দিলেই দায়িত্বশীলতা মিটে যায় না । এমন অনেক পারিবারিক বিষয় আছে যেগুলো টাকা-পয়সার বাহিরেও থেকে যায় ।যেমন ধরুন আপনি যদি টাকা দিয়ে বলেন বাবা যাও বাজার করে নিয়ে আসো । এতে কি আপনার বাবা খুশি হবেন না কষ্ট পাবেন । অবশ্যই কষ্ট পাবেন । এ বিষয়টি যদি আপনি আপনার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজে বাজার করতে যান , তাতে আপনার বাবা বেশি খুশি হয় । বাজার ঘাট থেকে শুরু করে ফ্যামিলিগত যেকোনো ধরনের ক্রাইসিসে আপনার বাবার পাশে থাকার চেষ্টা করুন । চেষ্টা করুন কথাটা বললে ভুল হবে অবশ্যই পাশে থাকুন । পরিপূর্ণভাবে আপনার বাবাকে সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন ‌। আপনি চাইলে নিজের ক্ষতি নিজে পরিষ্কার করুন । নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে আনন্দ ও তৃপ্তি পাওয়া যায় । আপনার বাবা যখন দেখবেন আপনি নিজের ঘরের কাজ নিজেই করছেন তাহলে আপনার বাবা খুশি হবেন । মাঝে মাঝে বাথরুম পরিষ্কার করুন লন্ড্রি করুন কাপড় ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করুন ।

 

মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট দায়িত্বভার সাথে ব্যবহার করুন – বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মোবাইল ও ইন্টারনেট ছাড়া একেবারেই অচল । আমাদের মধ্যে এমন অনেকেরই বাবা আমার আছেন যারা মোবাইল বিষয়টি খুব ভালোভাবে মেনে নিতে । কিন্তু তাই বলে তাদের সাথে রাগ করা যাবে না বরং তাদেরকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বলতে হবে । আপনি চাইলে তাদের সামনে মোবাইল ভাই ইন্টারনেট কম ব্যবহার করতে পারেন । এতে তাদের প্রতি আপনার প্রাধান্য প্রকাশ পাবে । আবার আপনি মাঝে মাঝে আপনার মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার বাসার বিদ্যুৎ বিল গ্যাস বিল বা অন্যান্য দিতে পারেন । এতে আপনার বাবা খুশিই হবেন । আপনার মোবাইল ফোনে এমন কিছুই রাখবেন না যা হঠাৎ আপনার বা আমার সামনে চলে আসলে তার আপনার উপর রাগ করে বসে ।

 

আপনার ভাই বোনদের যত্ন নিন – আপনার বাবা যখন সারাদিন কাজ করে বাসায় ফিরে আসবে তখন তাকে শান্তিপূর্ণ আরামদায়ক একটি পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করো । তাই আপনার বাবা যখন বাসায় ফিরে আসবে অযথাই আপনার ছোট ভাই বোনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবেন না বা বকবক করবেন না । এতে আপনার বাবা আপনার প্রতি বিরক্ত হবেন । আপনি চাইলে আপনার ছোট ভাইবোনদের হোমওয়ার্ক করে দিতে পারেন । যখন আপনার বাবা বাসায় এসে দেখবে আপনি আপনার ছোট ভাইবোনদের হোমওয়ার্ক করে দিয়েছেন তখন তিনি অনেক খুশি হবেন ।

 

ভালো পড়াশোনা করুন – প্রত্যেকের বাড়ি চান তার সন্তান ভালো কিছু করুক, ভালো পড়াশোনা করুক, ভালো চাকরি বাকরি করুক । আপনি যখন আপনার স্কুল কলেজ বা আপনার ব্যক্তিগত লাইফে ভালো পারফরম্যান্স করে সফল হবেন তখন দেখবেন আপনার বাবা-মা দুজনেই অনেক খুশি হবেন । আর ঠিক তখন আপনি নিজেও তাদের খুশির মধ্যে নিজের সফলতা সার্থকতা খুঁজে পাবেন ।

 

ভালো বন্ধু তৈরি করুন – ব্যক্তিগত জীবনে ভালো বন্ধু অত্যন্ত জরুরি । আর তাই ভালো বন্ধু খুঁজে পাওয়াটা খুবই দরকার । এটা মনে রাখবেন আপনি কখনোই কোনো খারাপ বন্ধু কিংবা মানুষের সংস্পর্শে যাবেন না । এ বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবেন না । আপনার বাবা যখন দেখবেন আপনি ভালো বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মেলামেশা করছেন, তখন তিনি অনেকটাই নিশ্চিন্ত মনে থাকতে পারবেন । আবার যখন দেখবেন আপনি খারাপ বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করছেন তখন তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকবেন এবং মনে মনে অনেক কষ্ট পাবেন । তাই বাবাকে খুশি করতে চাইলে অবশ্যই ভালো বন্ধু তৈরি করুন ‌।

আমাদের আজকের ব্লগটি এ পর্যন্ত ই । এই পোষ্টটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন । ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *