কিভাবে নতুন প্রেমিকাকে আপনার অতীত সম্পর্কে জানাবেন

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে একটা অতীত থাকে । সেটা হতে পারে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক । তবে সেই অতীত কোনভাবেই ভোলা বা অ্যাভোয়েড করা ঠিক নয় । একটা নতুন দম্পতির জন্য তাদের অতীতের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় দিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আর যখন আপনি আপনার অপেক্ষায় পরকে পুরোপুরি জানাবেন তখন আপনার সম্পর্কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাবে । আর যদি আপনি তা না করেন তাহলে যেকোনো মুহূর্তে আপনার সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে । ধরুন আপনার কোন একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্ত রয়েছে যা আপনি আপনার নতুন প্রেমিক কে জানান নি । অথচ আপনার প্রেমিক কোনো না কোনো সূত্রে সে কথাটি জেনে গেছে । তখন আপনার ফ্যামিলি কষ্ট পাবে আর আপনাকে ভুল বুঝবে । আপনি নিজেই যদি আপনার অতীত সম্পর্কে আপনার প্রেমিকাকে জানাতেন তাহলে এই ধরনের সিচুয়েশন তৈরি হবে না । আপনার অতীত সম্পর্কে আপনার নতুন প্রেমিকাকে বলতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে পারেন । আর আমাদের আজকের এই ব্লগে সেগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব ।

 

নতুন প্রেমিককে অতীত সম্পর্কে জানানোর উপায়

 

আপনার সম্পর্ক সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করুন – প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের সম্পর্ক একরকম থাকে না । কারো সম্পর্ক মধুর হয় আবার কারো সম্পর্ক ঠিক নিম পাতার মত তিতে হয় । আপনার সম্পর্ক ঠিক কি অবস্থায় আছে কি রকম চলছে এবং আপনি আপনার সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে কি ভাবছেন তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ কর বা ভাবুন । আপনি চাইলে আপনার সম্পর্কের অবস্থানকে বিভিন্ন রেটিং দিতে পারেন । যেমন 1 থেকে 10 । যেখানে হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ এবং 10 হচ্ছে দুর্দান্ত সম্পর্ক । আপনার বর্তমান সম্পর্কের রিটিং রেটিং দিন এবং ভাবুন । আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে কথাটা গভীরভাবে ভালোবাসেন কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কথাটা দায়িত্বশীল তা দেখুন । এমনকি আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে কতটা ভালোবাসেন তা জানার এবং বুঝার চেষ্টা করুন । আপনি নিশ্চয়ই আপনার প্রেমিকার আচরণের লক্ষ্য করেছেন যে, আপনার সাথে সে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারে কিনা । ভালোবাসার মানুষটি যদি ব্রডব্যান্ডের হয়ে থাকে , এক্ষেত্রে আরো অনেক সুবিধা রয়েছে । তাহলে তাহলে আপনি আপনার পাস্ট সম্পর্কে তাকে অনায়াসেই যানাতে পারেন ।

 

আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোভাবে জানুন – আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষের সাথে বেশি বেশি সময় কাটান তার প্রত্যেকটি গতিবিধির উপর ভালভাবে নজর রাখুন এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করুন । আপনার ভালোবাসার মানুষটি ঠিক কোন প্রকৃতির তা আপনাকে জানতে হবে যদি আপনি তাকে আপনার অতীত সম্পর্কে জানতে চান । আপনি এটা নির্ণয় করুন যে আপনার পাস সম্পর্কে বলার জন্য আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে সত্যি প্রস্তুত নাকি সে মোটেও আপনার পাস্ট মেনে নেবে না । আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে কতটা পজেটিভ তা জানার চেষ্টা করুন । ভবিষ্যতে সে কি সত্যিই আমার সাথে থাকতে চায় কিনা তা নিশ্চিত হোন । পুরুষরা সাধারণত খুব বেশি রাগী হয়ে থাকে । তাই তাদের কিছু বলার আগে পরিস্থিতি বুঝে বলার চেষ্টা করুন । আপনি যখন আপনার অতীত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করবেন তখন সম্পর্কে এক ধরনের ঝড় বয়ে যেতে পারে । কিন্তু তখন আমরা দুজন দুজনকে যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকেন তাহলে আবার একত্রে হবেন এটাই স্বাভাবিক । আর যদি তা না হয় আপনাদের সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে । আর যে সম্পর্ক ভেঙে যায় সে সম্পর্ক কোন সম্পর্কে নয় । তবে সঠিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেকের অতীত সঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত ।

 

বিশ্বাস নিশ্চিত করুন – আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষ একে অপরের উপর কতটুকু নির্ভরশীল তা বুঝার চেষ্টা করুন । সম্পর্ক সুস্থ সমৃদ্ধশীল এবং ভালোবাসাময় গড়ে তোলার জন্য বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যা না হলে কোন সম্পর্ক টিকে থাকে না । ভালোবাসায় একে অন্যের উপর বিশ্বাস থাকলে যেকোনো ধরনের অথিতি মেনে নেয়া সম্ভব । আপনি আপনার অতীতে মাঝেমধ্যে হারিয়ে যেতে পারেন আপনার অতীত আপনাকে কষ্ট দিতে পারে , আর এ বিষয়টি নিয়ে আপনার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আপনার ঝামেলা হতে পারে । তাই অতি দাবিগুলোর মধ্যে ডুবে না গিয়ে সঠিক ভাবে আপনার অতীত সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করো । এতে করে আপনি যেমন ভালো থাকবেন ঠিক তেমনি আপনাদের সম্পর্ক সুস্থ থাকবে । আপনি যখন আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে আপনাকে বলতে যাবেন তখন তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করো সে যদি কিছু বলে তা মনোযোগ দিয়ে সমস্ত চেষ্টা করুন উলটো আপনিও তাকে হারানোর চেষ্টাকরবেন না ।

 

অতীতকে ভুলার চেষ্টা করুন – অনেক মানুষই আছেন যারা নিজের অতীত ভুলতে পারবেন না । আবার নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যান । যা সত্যি নতুন সম্পর্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয় । আপনি যদি আপনার উপর সম্পর্কে না বলতে পারেন তাহলে বলব আপনার নতুন সম্পর্কে জড়ানো ঠিক হয়নি । আপনি কখনোই হতে সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরে নতুন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবেন । আপনার অতীত ঘটনাগুলো যদি আপনার জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাহলে নতুন সম্পর্কে কেন যাবেন আপনি । তাই নিজের অতীতকে ভুলে নিজের অতীতের সমস্ত কথা নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে জানিয়ে নিজের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। এমনও হতে পারে আপনার কষ্টের অতীত আপনার নতুন ভালোবাসার মানুষটির শুনে আপনার একটা কষ্ট লাঘব করতে পারে । তাই ভয় না পেয়ে নিজের কষ্টের অতীত সম্পর্কে জানাতে দ্বিধা করবেন না । আর কথা সম্পর্কে জানানোর পর সে অতীত সম্পূর্ণরূপে ভুলে যাবেন । আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে আপনার পুরনো অতীত যেন আর সামনে না আসে ।

 

আপনি কাকে কি বলতে চান তা লিখুন – আপনি যদি মনে করেন আপনার কথাগুলো আপনি সামনাসামনি বলতে পারবেন না তাহলে অবশ্যই আপনার কথাগুলো খাতায় লিখতে পারেন ‌ । এবং বারবার কথাগুলো বলা প্র্যাকটিস করতে পারবে । আপনি চাইলেই কথাগুলো লিখে আপনাকে চিঠি আকারে দিতে পারেন । প্রয়োজনীয় পয়েন্টগুলো লিখতে ভুলবেন না অবশ্যই সেগুলো সংযত করুন । বিশদভাবে লেখার চেষ্টা করো যেন কোন কিছুই বাদ না যায় । প্রজন্ম থেকে আমাদের সম্পর্কে ভাবার জন্য সময় নিয়ে ভাবো । আপনি চাইলে চুপচাপ কোন শান্ত স্থানে গিয়ে বসে ভাবতে পারেন । হতে পারে সেটা কোন পার্ক লাইব্রেরী কিংবা কোন রেস্টুরেন্ট । এসব কিছু হয়ে গেলে সত্যিকার অর্থে আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে কি বলতে চান তা অনুশীলন । যখন আপনি কথাগুলো বারবার বলার চেষ্টা করবেন তখন কথাগুলো আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে এবং গুছিয়ে বলতে পারবেন । আপনি যা বলতে চান সবগুলো পয়েন্ট ভালোভাবে বলতে না পারা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করুন নিজেকে সংশোধন করুন । আর অনুশীলন করার একটি দুর্দান্ত জায়গা হলো আয়নার সামনে । আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সামনাসামনি চোখে চোখ রেখে প্রত্যেকটি কথা বারবার বলার চেষ্টা করুন । প্রয়োজনবোধে প্রথম অবস্থায় দেখে দেখে পড়ুন ।

 

আত্মবিশ্বাসী হন – আপনার ভালবাসার মানুষের সঙ্গে যখন কথা বলবেন তখন অবশ্যই আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন । এটা মনে রাখবেন কখনোই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন না । তাহলে সব কথাগুলি আপনি ভালো হবে বলতে পারেন না । আপনার জয়েন করার শব্দগুলো অবশ্যই পরিষ্কার এবং সাবলীল ও নির্ভুল হতে হবে । আপনার কথাগুলো যেন শুনতে ভালো সবাই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । মনে রাখবেন আপনার সব কথাগুলো আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে বুঝিয়ে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে হবে ।

 

আপনার গল্পগুলো বলুন – ভালোবাসার মানুষটির সাথে নানা রকম গল্প সকলেরই হয়ে থাকে । আপনি যখন যেকোনো ধরনের গল্প করবেন সেগুলো দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করুন । এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনার প্রতি কতটা আগ্রহী এবং আপনার কথা কতটুকু মনোযোগ সহকারে শোনে । মোটকথা এটা নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছেন কি না ? আপনার কথাগুলো শোনার পর তার মানসিক প্রতিক্রিয়া কি তা বোঝার চেষ্টা করুন । তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন কথায় আপনার প্রিয় মানুষটি কি রকম আচরণ বা রিয়্যাক্ট করে । আর কথা বলার সময় অবশ্যই আপনার বয়ফ্রেন্ডের চোখে চোখ রেখে কথা বল এটা সবচেয়ে ভালো একটি প্রক্রিয়া যাতে করে আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ডের মানসিক বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া জানতে পারবেন ।

 

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কথা বলুন – যেহেতু আপনি আপনার অতীত সম্পর্কে আপনার প্রিয় মানুষটিকে বলতে চান সে তো আপনার অংশ সম্পর্কেও কথা বলা জরুরী । আপনার কাছে এবং আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে আপনাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কি তা নিশ্চিত করতে হবে । আপনারা দুজনই আপনাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার অতীতের কথাগুলি বলতে হবে । তারপর ধারাবাহিকভাবে আপনার প্রিয় মানুষটিকে মনে করিয়ে দিন যে আপনার অতীত সম্পর্কে কথা বলাটা আপনার পক্ষে কতটা গুরুত্বপূর্ণ । আপনার অতীত সম্পর্কে বলার আগে তার কাছে অনুমতি নেই জানো সে পথে চলতে আগ্রহী কিনা । আপনার অতীতের সমস্ত কথা শেষ করে আপনারা দুজন মিলে আপনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবতে পারেন ।

 

স্পষ্টবাদী হওয়ার চেষ্টা করুন – যে কোন কথা বলার জন্য স্পষ্টবাদী হওয়া টা খুবই জরুরী । আপনি স্পষ্ট ভাবে তাকে বলুন যে তাপসী সম্পর্কে কথা বলা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । অনেক সময়ে প্রিয় মানুষটি আবেগ নিয়ে পড়ার কথা নাও শুনতে পারেন । তাই সময় বুঝছি স্পষ্ট ভাবে সব কথাগুলো তাকে জানান । কথা বলার সময় কোন দেশে দিয়ে ঘুরিয়ে বলার চেষ্টা করবেন না । যা বলবেন একদম সহজ এবং সাবলীল ভাষায় বলার চেষ্টা করবেন । তবে সব কথাগুলো যেন শেষ করেন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ।

 

প্রিয় মানুষটি সম্পর্কে জানুন – যদিও বা যে কেউ রিলেশন করার আগে তার প্রিয় মানুষটির সম্পর্কে জেনে রিলেশন শুরু করে । তারপরও রিলেশন শুরুর আগে এমন অনেক কিছুই অজানা থাকে যা রিলেশন হওয়ার পর আস্তে আস্তে সেগুলো পরিষ্কার হয় । তাই সময় নিয়ে প্রিয় মানুষটির সম্পর্কে যথাযথভাবে জানার চেষ্টা করুন । প্রিয় মানুষটি কি চায় কথা বোঝার চেষ্টা করো । আপনি অযথাই নিজের মত করে সবকিছু করতে যাবে না । আপনি যা করতেছেন বা যা করছেন তা আপনার ভালোবাসার মানুষটি পছন্দ নাও হতে পারে । সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে । আপনি হয়তো ভাবছেন আপনি যা করছেন তা ঠিক করছেন । বিষয়টি আপনার জন্য ঠিক হলেও আপনার ভালোবাসার মানুষটির জন্য ঠিক না হতে হয় । তাই অবশ্যই খুব ভালোভাবে বিবেচনা করে সব কিছু বলার চেষ্টা করুন । আপনার প্রিয় মানুষটি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসে কিনা কিংবা সে অন্য কোন কারো সাথে রিলেশন আছে কিনা সেগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন । বর্তমান যুগে একটি মানুষ একাধিক রিলেশনে জড়িয়ে যাচ্ছে । আর যদি তাই হয় তাহলে সেই মানুষটিকে অবশ্যই আপনার অতীত সম্পর্কে জানিয়ে কোন লাভ নেই । বরং তার সাথে রিলেশন শেষ করে দেয়াটাই ভালো । আর যদি সবকিছু জেনে বুঝে এই সিদ্ধান্তে আসতে পারেন যে আপনার ভালোবাসার মানুষটি সত্যিই সেই মানুষ যে মানুষ আপনার অতীত সম্পর্কে জেনেও আপনাকে ছেড়ে যাবে না । বড় সব বিষয়গুলো ভালো ভাবে মেনে নিতে পারবে , কেবল তখনই আপনার মত সম্পর্কে তাকে জানান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *