সম্পর্ক বিচ্ছেদ কিংবা ব্রেকআপের পর নিজের রাগ বা ক্রোধ কে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন ( How to control your anger after breakup )

রাগ বা ক্রোধ একটি সাধারন আবেগ যা আপনি আপনার ব্রেকআপের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই অনুভব করতে । তবে মানুষ ভেবে এরপর দিও ব্যাতিক্রম হতে পারে । যেমন ধরুন এক্ষেত্রে কিছু মানুষের খুব বেশি রাগ হতে পারে আবার অনেক মানুষই রয়েছে যারা এ বিষয়টিকে একটু স্বাভাবিক ভাবে দেখে থাকে । তবে আপনার এই ব্রেক-আপের পরে রাগ বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু কৌশল রয়েছে । এক্ষেত্রে আপনার অনুভূতিগুলো আপনি কিভাবে অনুভব করছেন এবং এর বিপরীতে কিভাবে রিএক্ট করছেন তা নির্ধারণ করুন । তারপর সামগ্রিকভাবে নিজেকে শান্ত সুস্থ করে রাখার জন্য আপনি কি কি করতে পারেন তার সন্ধান করতে হবে । আপনার মনের কথাগুলো বলার জন্য কোন ভালো বন্ধু কিংবা অন্য কারো সহায়তা নিতে হবে ।

 

ব্রেকআপের পর রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়

 

✅আপনার রাগের অনুভূতিগুলোকে গ্রহণ করতে শিখুন – এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের রাগ কিংবা অনুভূতির বিষয় গুলো , সঠিকভাবে স্বীকার করতে পারেন । অর্থাৎ তাড়াতাড়ি তাদের রাগকে মেনে নিতে পারেন না । কেননা তাদের রাগ একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ‌। এক্ষেত্রে আপনার রাগ উচ্চস্বরে বলার থেকেও সে সম্পর্কে লিখতে পারেন ।
*আপনার অনুভূতি সম্পর্কে একটি জানালে লেখার চেষ্টা করু । কিংবা আপনার প্রাক্তন থেকে যে কথাগুলো বলতে চেয়ে ছিলেন তারা চিঠি আকারে লিপিবদ্ধ রাখতে পারেন ।
*আপনি যতক্ষণ না নিজেকে বা অন্য কিছুকে আঘাত করছেন ততক্ষণ আপনি নিজের আবেগ গুলো প্রকাশ করতে পারবেন না ।

 

✅আপনার প্রাক্তন কে ক্ষমা করে দিন এতে করে আপনার এগিয়ে যাওয়া আরো সহজ হবে – ক্ষমা অসম্ভব ভালো একটি গুন । যা প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে বিরাজমান । আপনার প্রাক্তন কে তার ভুলের জন্য ক্ষমা না করে বরং আপনার ভালোর জন্যই তাকে ক্ষমা করে দিন । আপনি যদি আপনার প্রাক্তন এর উপর নিজের ক্ষোভ প্রকাশের ব্যস্ত থাকেন কিংবা বিরক্ত প্রকাশ করেন তাহলে আপনার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাবে । যা কিছুই ঘটে যাক না কেন, এই অনুভূতি গুলো কে ভুলে যাওয়ার জন্য কিছুক্ষণ সময় নেই এবং আপনার প্রাক্তন কে ক্ষমা করুন ।

 

✅আপনার বিরক্তির কারণগুলো নির্বাচন করুন এবং এগুলো এড়িয়ে চলুন – আপনি যদি মনে করেন বা চিন্তা করে থাকেন কিছু মানুষ আপনার প্রাক্তন সম্পর্কে আপনার রাগ জাগ্রত করতে পারে তাহলে আপনি সেই সকল মানুষগুলো থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকুন । হতে পারে আপনি এখনও আপনার প্রাক্তন এর সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় কানেক্টেড । আর তাই তার পোস্ট গুলো বারবার আপনার সামনে এসে আপনাকে বিরক্ত করে তুলছে । আর এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আপনি আপনার প্রাক্তন কে ব্লক করে দিতে পারেন বা আনফ্রেন্ড করে দিতে পারেন কিংবা তার পোস্টগুলো হাইড করে দিতে পারেন ।

 

✅আপনার যে কোন দোষ ছিলনা এটি মনে করতে থাকুন – রিলেশনে থাকাকালীন সময়ে আপনার দশ কিংবা ত্রুটি থাকতে পারে । কিন্তু তাই বলে যে রিলেশন ব্রেকআপ হয়েছে শুধু আপনারই কারণে এই বিষয়টি ভাবার কোন দরকার নেই । বরং আপনি মনে করতে থাকুন যে রিলেশন ব্রেকআপ এ আপনার কোন হাত ছিল না । তাহলেই এই বিষয়টিকে মেনে নিতে আপনার জন্য অনেক সহজ হবে ।

 

✅নিজেকে স্বাভাবিক রাখার জন্য কিছুক্ষণ সময় দিন – সাম্প্রতি যদি আপনাদের ব্রেকআপ হয়ে থাকে , তাহলে পরিবর্তনের জন্য বড় কোনো ডিসিশন হুট করে নিবেন না । এতে করে আপনার ভালোর থেকে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি । তাই নিজেকে সময় দিন । আপনার বিচ্ছেদের কষ্টকে অনুভবের জন্য অন্তত কয়েকটা দিন সময় দিন । তারপর আপনার লক্ষ গুলোর দিকে মনোনিবেশ করুন ।
*আপনি চাইলে আপনার পছন্দের সিং সিনেমা গুলো দেখতে পারেন এমনকি গান শুনতে পারেন যা আপনাকে শান্ত এবং সান্ত্বনা দুটি দেবে ।

 

✅ব্যায়াম করুন – রাগ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ব্যায়াম করা । আপনার বিচ্ছেদের ব্যথা কে ভুলতে সপ্তাহে অন্তত 5 দিন 30 মিনিট করে ব্যায়াম করুন । নিয়মিত ব্যায়াম করা আপনার রাগ মুক্ত করতে এবং আপনার মেজাজ কে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে ।

 

✅ইয়োগা বা যোগ-ব্যায়াম করুন – আপনার ক্রোধকে প্রশমিত করতে এবং চাপ পরিচালনা করতে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী । দিনে কমপক্ষে 15 মিনিট সময় রেখে দিন যাতে করে ধ্যান করার জন্য যোগ ব্যায়াম করার জন্য বা নিজের স্বাসপ্রস্বাস কে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভুলে না যান । শান্তর সংগীত শোনাও কিংবা প্রিয় শখ এর সাথে জড়িয়ে থাকার মত সাধারন কার্যকলাপ গুলো আপনাকে শান্ত রাখতে পারে । তবে আপনার রাগকে নিয়ন্ত্রণ এর জন্য সঠিকভাবে কোনটি বেশি কার্যকর তার সন্ধান করুন এবং সেটি কি আপনার প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করুন ।

 

✅সযত্নের অনুশীলন করুন – ভালো স্বজনের মধ্যে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি থেকে শুরু করে সঠিকভাবে খাওয়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে ঘুমানো থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু জড়িত । আপনার উন্নতি হতে পারে এমন কিছু আছে কিনা তা নির্ধারণ করে স্বযত্নে রেখে দিন । আর এই বিষয়টি ছোট হতে পারে কিংবা বড় হতে পারে । যেমন ধরুন ছোট বিষয়ের মধ্যে জল পান করা আবার বড় বিষয় মধ্যে ডায়েট করা ।

 


✅নিজেকে প্রশ্ন করুন – আপনি যদি নিজে নেতিবাচক কিংবা খারাপ চিন্তার মধ্যে আটকে থাকেন তবে নিজের চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে নিজে প্রশ্ন করে এর থেকে মুক্ত হতে পারেন । আপনার চিন্তা গুলোর সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাস করুন । আপনার চিন্তা ভাবনা গুলো সম্পর্কে বাস্তববাদী চিন্তা করুন। আর যুক্তিযুক্তভাবে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনার খারাপ দিকগুলো থেকে বিরত থাকুন ।


✅আপনার অনুভূতির কথা শেয়ার করুন – আপনার কোন বিশ্বস্ত বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাথে আপনার অনুভূতির কথা গুলো বলতে পারেন । আপনার ভেতরের কথাগুলো একেবারেই গোপন না রেখে আপনি বিশ্বাস করেন এমন কাউকে বেছে নিন। যিনি আপনার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শুনবেন এবং আপনাকে সহায়তা করবে । আপনার প্রাক্তন এর সাথে যোগাযোগ রয়েছে এমন কোন বন্ধুর সাথে আপনার যোগাযোগ না রাখাই ভালো । সঠিক ব্যক্তির সাথে কথা বললে আপনার অনুভূতি কিংবা আপনার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাকে তিনি সাহায্য করতে পারেন ।

 

✅’আমি পারবোই’এই কথাটি নিজের মধ্যে ধারণ করুন -কোন কিছু থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আপনাকে প্রথমে এটা বিশ্বাস করতে হবে যে আপনি অবশ্যই তা করতে পারবেন । আর তাহলেই দেখবেন আপনার মধ্যে সেই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে । হতে পারে আপনার ব্রেকআপের পর আপনার প্রাক্তন এর সাথে আপনার কথা বলার ইচ্ছা জাগতে পারে । কিন্তু তাই বলে তাকে বারবার ফোন দেয়ার কোন দরকার নেই। বরং এটা ভাবতে শুরু করুন যে আপনি তার সাথে কথা না বলেই থাকতে পারবেন । আর যদি আপনি এ বিষয়টি না মানতে পারেন বারবার আপনার প্রাক্তন কে ফোন দেন আর সে যদি আপনার ফোনে কোন রেসপন্স না করে তাহলে আপনি আরও বেশি রাগান্বিত হতে পারেন । এতে করে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা আপনার রাগ বহুগুণে বেড়ে যাবে । তাই আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনি পারবেন এই বিষয়টি নিজের মধ্যে ধারণ করুন ।

 

✅কোন একটি গ্রুপ কিংবা অনলাইন ফোরামে যোগদান করুন – আপনার নিজের অনুভূতি শেয়ার করার জন্য যদি আপনি সামাজিক বৃত্তের মধ্যে কাউকে খুঁজে না পান কিংবা বিশ্বাসযোগ্য মনে না করেন তাহলে আপনি অনলাইনে সাহায্য নিতে পারেন । বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গ্রুপ কিংবা ফোরামে গিয়ে নিজের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করতে পারেন । এতে করে আপনি অন্য লোকদের সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়ে যাবেন এবং নিজের অনুভূতির দিকগুলো ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারবেন ।

 

✅চিকিৎসকের পরামর্শ নিন – আপনি যদি মনে করেন আপনার রাগ আপনি কোন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না । কিংবা আপনার প্রাক্তন কে ভুলে যাওয়ার কষ্ট কে আপনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাহলে ভালো কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন । আর আপনি যদি তা না করেন আর দিনের পর দিন যদি এভাবেই চলতে থাকেন তাহলে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাহত হতে পারে । রাগ যদি আপনার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে বা কিংবা 23 সপ্তাহ ধরে আপনি এই বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি আপসেট । তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বা পেশাদার কারো কাছ থেকে সহায়তা পান এমন কাউকে খুঁজে বের করুন । যেমন ধরুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত থেরাপিস্ট বা পরামর্শদাতা । থেরাপিস্টের সাথে সাক্ষাৎ করে আপনার অনুভূতি গুলো থেকে বের হয়ে আসার দিক নির্ণয় করুন এবং পরবর্তীতে আপনার জীবনে কিভাবে এগিয়ে যেতে পারেন তার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন । আপনি চাইলে আপনার পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাহায্য নিতে পারেন তারা ভালো কোনো চিকিৎসককে জানেন কিংবা চিনেন কিনা তা জিজ্ঞেস করুন । মনে রাখবেন এ ধরনের অবস্থায় আপনার কোন রেফারেল এর প্রয়োজন হতে পারে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *