কিভাবে সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবেন ( How to live a happy and healthy life )

সুখ ও স্বাস্থ্য পরস্পর নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত । একটি স্বাস্থ্যকর জীবনীই পারে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী জীবন উপহার দিতে । আর যখন আপনি স্বাস্থ্যকর সুখী জীবন যাপন করবেন তখন আপনার আয়ুষ্কাল আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুলো এড়িয়ে চলতে সহায়তা করবে । আমাদের আজকের এই ব্লক এ আপনাকে জানাবো কিভাবে সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা যায় ।

 

সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের উপায়

 

✅ ইতিবাচকতার উপর ফোকাস করুন – জীবনে উন্নতি সাধন করতে গেলে বা কোন কিছু শুরু করতে গেলে প্রধান ও সব থেকে জরুরি বিষয় হল ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া কোন কিছুতেই সুফল মেলে না । তাই সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার উদ্দেশ্যে যদি আপনি মনোনিবেশ করেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ইতিবাচক মনমানসিকতার ধারক ও বাহক হতে হবে । আর ইতিবাচক মানসিকতা একটি সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবন তৈরিতে বড় একটি পদক্ষেপ। তাই যথাসম্ভব নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনার দিকে ধাবিত হওয়ার চেষ্টা করুন । ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ঘুরতে গেলে প্রথমেই আপনাকে যেটি করতে হবে তা হলো সমালোচনা এড়িয়ে চলতে হবে । আর যদি সমালোচনা করতেই হয় তাহলে গঠনমূলক সমালোচনা করার চেষ্টা করুন । কেননা আপনি যখনই কারো সমালোচনা করবেন তখন আপনার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাবে । আর নিজের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করুন । নিজের ভুলগুলো থেকে শিখে পরবর্তীতে সেগুলো শুধরে নিয়ে সামনে এগিয়ে চলুন। আর যদি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা না নিতে পারেন তাহলে আপনি পিছিয়ে থাকবেন । তাই নিজের ভুল ভুলে সামনে এগিয়ে যান । কোন প্রকার আফসোস করবেন না । এতে করে আপনি আরও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বেন ।

 

✅ নিজেকে কখনই অন্য কারো সাথে তুলনা করবেন না – পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষই প্রত্যেকটি মানুষের থেকে আলাদা আলাদা । হতে পারে মানুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কিছু মিল থাকতে পারে । কিন্তু তাই বলে সবাই একই রকম হবে এটাই ভাবা ঠিক নয় । নিজেকে কখনোই অন্য কারো সাথে তুলনা করার মতো ভুল কাজটি করতে যাবেন না । যেমন ধরুন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি নিজের সাথে আপনার সমবয়সী ভাবনার পাশাপাশি কারো তুলনা করতে গেলেন । আপনি ভাবছেন তার ছবিতে আপনার থেকে বেশি লাইক পড়ছে । যদিও বা এ বিষয়টি নিতান্তই ছোট কিন্তু এই ফটো বিষয়ে যদি আপনি অন্য কারো সাথে তুলনা করতে পারেন তাহলে বড় বিষয় তো আপনি তুলনা করবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না । একটা কথা মাথায় রাখবেন প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কিছু ভালো ও খারাপ গুন থাকে । তাই বলে আপনি হুট করেই নিজেকে অন্যের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না বা তুলনা করবেন না । আপনি নিজের দিক থেকে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করুন অন্যের সাথে তুলনা করে সময় নষ্ট করবেন না ।

 

✅ মানসিক চাপ পরিহার করুন – মানসিক চাপঃ আপনার মন ও শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে । মানসিক চাপ রাগ , বিরক্তের পাশাপাশি আপনার মাথা ব্যাথা ক্লান্তি ঘুম ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে । সব সময় একটি কথাই মাথায় রাখবেন মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কোনটাই আপনার সমস্যা সমাধানে কাজ করবে না । বড় সমস্যা আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে । আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যখন আপনি কোন কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন তখন আপনার শরীরে অনেক দুর্বল ও খারাপ অনুভূতি অনুভূত হয় । হঠাৎ আপনি শারীরিক দিক থেকেও অসুস্থ হয়ে পড়েন । ঠিক অনুরূপ আপনি যখন মানসিক চাপ মুক্ত থাকেন তখন আপনার মন ও শরীর দিক থেকে আপনি অনেক চাঙ্গা থাকেন । যা সত্যিই অনেক ভালো । তাই স্বাস্থ্যকর ও সুখী জীবন চাই চাইলে অবশ্যই মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা পরিহার করতে হবে ।

 

✅ বিশ্রাম করুন – বিশ্রাম আমাদের শরীর ও মন দুটির জন্যই ভালো । তাই প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন করুন যে সময়টাতে আপনি বিশ্রাম করতে হবে । শুধু রাতের বেলা ঘুমালেই বিশ্রাম কখনোই পর্যাপ্ত হয় না । আপনি যদি কাজে খুব ব্যাস্ত হয়ে থাকেন তাহলে , কাজের ফাঁকে যেকোনো সময় 20 থেকে 25 মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন । এতে আপনার খানিকটা বিশ্রাম হবে । আপনি চাইলে মেডিটেশন করতে পারেন । আর মেডিটেশন চাপ কমানোর একটি দুর্দান্ত উপায় ।

 

✅ লক্ষ্য নির্ধারণ করুন – যে কোন কিছু শুরু করার আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী । লক্ষ্য ছাড়া আপনি কাঙ্খিত ফলাফল কখনোই পাবেন না । তাই লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনে এগিয়ে চলুন । যখন আপনার লক্ষ্য ঠিক থাকবে তখন আপনি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে ধাবিত হতে পারবেন । আর যখন আপনার লক্ষ্য ঠিক থাকবেনা তখন আপনি শুধু এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করবেন মানসিক প্রশান্তি কখনোই পাবেন না । যেমন ধরুন আপনি নিজের শরীরকে ফিট রাখতে চাচ্ছেন । কিন্তু কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করেননি । আপনি যখন তখন যা খুশি তা খাচ্ছেন যা খুশি তা করছেন যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ঘুমাচ্ছেন মোটকথা যা ইচ্ছা তাই করছে । তাহলে কি কখনোই আপনি নিজের শরীর ফিট রাখতে পারবে । আপনি কখনোই তা পারবেন । তাই সবকিছু শুরু করার আগে নিজের লক্ষ্যগুলো সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট করা জরুরি । আপনার সামনে লক্ষ সেট করা থাকবে একটার পর একটা সেগুলো পূরণ করুন দেখবেন ঠিক নিজের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন । কখনোই একেবারেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন না । তাহলে যা হবে আপনি একেবারে নিচে পড়ে যাবেন যেখানে ছিলেন ঠিক সেখানেই থাকবেন বারবার সেখানেই ফিরে আসবেন ।

 

 নিজের ভাল দিক গুলোকে অ্যাপ্রিশিয়েট করুন – আমাদের মধ্যে ভালো খারাপ দুটি দিঘি বিদ্যমান রয়েছে । তবে নিজের ভাল দিকগুলো জন্য নিজেকে অবশ্যই বাহবা দিতে হবে । আর বলতে হবে বাহ আমি এই জিনিসটা করতে পেরেছি । এমনকি এটা বিশ্বাস করতে হবে যে আপনার মধ্যে বেশকিছু ভালো গুণ রয়েছে । যে গুণগুলো সাহায্য নিয়ে আপনি সামনে এগোতে পারবেন । আর নিজেই নিজেকে যখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এতে আপনার ইতিবাচক চিন্তাভাবনা । আর এই বিষয়টি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ।

 

✅ ডাক্তারের পরামর্শ নিন – আমাদের প্রত্যেকের জীবনে ডাক্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ । আর যখন মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা উঠে আসে তখন ডাক্তার ছাড়া তো চলে না । তাই আপনার প্রয়োজন মত ডাক্তারের পরামর্শ নিন । তাই বলে শুধু পরামর্শ নিয়ে বাসায় চুপ করে বসে থাকলে চলবে না । সেই পরামর্শ মেনে চলতে হবে । কোনভাবেই যেন ডাক্তারের পরামর্শে এদিক ওদিক না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে ।

 

✅ পর্যাপ্ত খাবার খান – আপনার শরীরকে ঠিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার অত্যন্ত জরুরি । কিন্তু তাই বলে যা ইচ্ছা তাই খাবেন এরকমটা নয় । পরিমাণ মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন । আর খাবার খাওয়ার সময় কখনোই তাড়াহুড়ো করবেন না । খাবারের মুহূর্তটি অনুভব করুন খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নেবার চেষ্টা করুন । প্রতিদিন এমন ফল ও সবজি খান যেগুলোতে আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি থাকে যে আপনাকে স্বাস্থ্যকর ও সুখী রাখতে সহায়তা করবে । প্রয়োজনবোধে আপনি কি ডায়েট চার্ট ফলো করতে পারে । যেখানে লিখা থাকবে আপনি প্রতিদিন কি খাবেন এবং কী পরিমাণে খাবেন । এতে করে আপনার শরীরে পুষ্টিগত কোন ঘাটতি দেখা দেবে না । যথাসম্ভব প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলতে হবে । বিভিন্ন ধরনের কোলড্রিংস বার্গার চিপস ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন । এই সকল খাবার গুলোতে প্রায় সেই ক্যালোরিজ সোডিয়াম ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট গুলি বেশি পরিমাণে বিদ্যমান থাকে । আজ আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ।

 

✅ পর্যাপ্ত ঘুমান – ঘুম আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি । আপনার রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ কম হলে আপনার স্মৃতিশক্তি আরো বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বেড়ে যাবে । তাই প্রতিদিন রাতে কমপক্ষে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমাবেন । তবে কখনোই বেশি ঘুমাতে যাবেন না । এতে অনেক সময় আপনার শরীরের ক্ষতি হতে পারে ।

 

✅ ব্যায়াম করুন – প্রতিদিন কমপক্ষে 30 মিনিট ব্যায়াম করুন । নিজেকে ফিট’ সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । সপ্তাহে কমপক্ষে 2-3 বার একটু হার্ড ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন । যেমন ধরুন দৌড়ানো ভারী কিছু কদমতলা সাঁতার কাটা ইত্যাদি । আপনি আবার কিছু করতে না পারলে প্রতিদিন কমপক্ষে 30 মিনিট এর জন্য হাঁটুন । আপনি যদি হতাশ কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করেন তাহলে দ্রুত হাটার চেষ্টা করুন তাহলে দেখবেন দ্রুতই আপনার মেজাজ ঠান্ডা হয়ে যাবে ।

 

✅ পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান – আমরা যখন মানসিক চাপ অনুভব করি তখন পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি । যা আমাদের মানসিক চাপ আরো বাড়িয়ে তোলে । পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আপনি আপনার এই সকল চাপ গুলোর কথা তাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন । এতে করে আপনার চাপ খানিকটা কমে আসবে । এখনকার যুগে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের থেকে দূরে থাকার প্রবণতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে । অধিকাংশ সময়ই আমরা প্রত্যেকেই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি । যা আমাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে । এখনতো এমনটাও লক্ষ্য করা যায় যে কিছু বন্ধু একসঙ্গে বসে থাকলেও প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকছে । যা সত্যি দুঃখজনক ।

 

✅ সাহায্য করুন – যথাসম্ভব মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করবেন । এতে করে সাহায্য গ্রস্থ মানুষটির যেমন উপকার হবে ঠিক তেমনি আপনি মানসিকভাবে শান্তি পাবেন । আপনার পছন্দমত মানুষজনকে সাহায্য ও সমর্থন করুন । আপনি চাইলে স্বেচ্ছাসেবক কোন টিমে যুক্ত হতে পারেন । অনেকেই সাহায্য করা বিষয়টি পছন্দ করেন না বা করে থাকেন না । আসলে তারা জানেনই না যে সাহায্য করে আলাদা একটা মজা আছে । যদি তারা জানত তাহলে অবশ্যই মানুষকে সাহায্য করত । আপনি হয়তো খেয়াল করে দেখবেন আপনি যখন কাউকে সাহায্য করবেন তখন নিজের মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দের তৈরি হয় । যা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো উৎফুল্ল করবে ।

 

✅ খারাপ মানুষ এড়িয়ে চলুন – আমাদের প্রত্যেকের জীবনে খারাপ সময় আসে । আরে খারাপ সময় গুলো তৈরি করার পেছনে কিছু খারাপ মানুষ জড়িত থাকে । তাই এই সকল খারাপ মানুষদের থেকে দূরে থাকা আপনার জন্য জরুরী । কেননা এই সকল মানুষগুলি সবসময় চাইবে আপনাকে বিপদে ফেলতে । আর যখনই আপনি কোন বিপদে পড়বেন তখন আপনি মানসিক চাপ অনুভব করবেন । যা আপনার শরীর ও মন দুটোই জন্যই ক্ষতিকর ।

 

আমাদের আজকের ব্লগটি এ পর্যন্তই । আশা করি আমাদের আজকেই ব্লগ টি আপনার ভালো লেগেছে । ব্ল্যাগ টি ভাল লেগে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ ।

One thought on “কিভাবে সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করবেন ( How to live a happy and healthy life )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *