কিভাবে খারাপ মানুষ থেকে দূরে থাকা যায় ( How to stay away from bad people )

মনে করুন আপনি অনেক ভাল মুডে আছেন । এবং আপনার দিনটি অনেক ভালো কেটেছে । ঠিক সেই মুহূর্তে যদি সেই ব্যক্তিটি হাজির হয় । তথা খারাপ মানুষটি হাজির হয় , তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে আপনার সারাদিনের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে । সেই খারাপ ব্যক্তিটি এমন হতে পারে যাকে দেখলে আপনি খানিকটা নার্ভাস রাগান্বিত কিংবা অসুস্থি বোধ করেন । আজকে আমি আপনাদের খারাপ মানুষ থেকে দূরে থাকার কিছু উপায় সম্পর্কে বল চলুন দেরি না করে ব্লগঠি শুরু করা যাক ।

 

খারাপ মানুষের থেকে দূরে থাকার উপায়

 

কাছে যাওয়া লাগে নির্ণয় করুন মানুষটিকে – আমাদের দিন যেমনই কাটুক না কেন, যদি সারাদিনের কোন এক সময় আমরা সেই খারাপ মানুষটি সংস্পর্শে চলে আসি তাহলে কোন না কোন ঝামেলার মধ্যে পড়ে তাই । আর একটা খারাপ মানুষ সবসময়ই চাইবে আপনাকে তার মত করে তুলতে । তাই খারাপ মানুষ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকাই ভালো । আপনি যদি রাগ দুঃখ হিংসা আবেগ-অনুভূতি ছাড়া কোনো মানুষ দেখেন তাহলে সেই সেই ব্যক্তির সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া ভালো । যেমন ধরুন ক্রমাগত হাহাকার, অভিযোগ, নিষ্ঠুরতা, নির্ভরতা, সমালোচনা করা, নেতিবাচক চিন্তা ইত্যাদি । যাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য গুলো দেখতে পারবেন তাদের থেকে দূরে থাকা অনেক ভালো ।

 

বিরক্ত এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের নিজের জায়গা তৈরি করুন – মনে করেন আপনি কোন একটি দোকানে গেছেন । দোকানে গিয়ে কিছু কেনাকাটা করলে । এমন হতে পারে সে দোকানে আপনি আগেও গিয়েছেন । সে দোকানের লোকটির আচরণ আপনি বুঝতে পেরেছেন । হঠাৎ আজকে বুঝতে পেরে গেছে যে সেই দোকানের লোকটি একজন রাজিব । ঠিক একইভাবে যখন আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব পরিচিতদের সাথে মেলামেশা করবেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কে কিরকম । তাই খারাপ অসস্তিকর জায়গা গুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন তাহলেই দেখবে সেই মানুষগুলো আপনার কাছেই আসতে পারবেন না ।

 

আচার-ব্যবহার ও কন্ঠে মনোযোগ দিন – যখন আপনি কোন মানুষের সাথে কথা বলবেন তখন তার শরীরী ভাষা এবং কন্ঠে খুব মনোযোগ দিন । কেননা মানুষের শরীরে ভাষায় অনেক কিছুই প্রকাশ পায় । হোক সেটা ভালো কিংবা খারাপ । অনেক মানুষই আছেন যারা হেসে এসে অনেক খারাপ কথা বলে থাকে । যা আপনার জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে । এমনকি যখন আপনি মানুষের সাথে কথা বলবেন তখন তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করি । এতে করে তার কথার সত্যতা খুঁজে পাবেন । আচার-ব্যবহার কন্ঠ শরীরী ভাষায় ইত্যাদির উপর উপলব্ধি করেন আপনি খারাপ ভালো বিবেচনা করুন ।

 

আপনার চোখ কান খোলা রাখুন – রাগ চিৎকার করা নেতিবাচক সমালোচনা করা ইত্যাদি খারাপ ব্যক্তিত্বের প্রধান লক্ষণ । এসব লোকরা আপনার কাছে যে কোন সময় সাহায্য চাইতে পারেন , আর আপনি যদি তা না পূরণ করতে পারেন তাহলে তার আপনার উপর অনেক রাগ করবে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে । সেটা আপনার পক্ষে দেয়া সম্ভব কিংবা না সেগুলি তারা বিচার করবে না, তারা শুধু তাদের চাহিদার কথাই আপনাকে জানাবে । এই সকল লোকগুলি নিজের আবেগ কখনোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না । এমন অনেক সময় দেখা যায় এই সকল মানুষ ভিতরে চুপচাপ থাকে এবং মনের মধ্যে ক্ষোভ পুষে রাখে । আর সুযোগ পেলেই সেই ক্ষোভ আপনার উপরে ঝেড়ে ফেলে । এমন যদি হয় কোন এক জায়গায় এরকম কোন মানুষের সঙ্গে আপনার দেখা হয়ে গেল । সে আপনার উপর অনেক রাগারাগি করছে । তাহলে আপনার করণীয় একটাই হবে যে আপনি সে লোকের সাথে তর্ক বিতর্কে না জড়িয়ে সোজাসুজি সেখান থেকে বেরিয়ে আসা । পরবর্তীতে প্রয়োজনমতো সেই লোকের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত থাকা ।

 

ছদ্দবেশী মানুষ থেকে দূরে থাকুন – ছদ্দবেশী মানুষ তথা মুখোশধারী মানুষ আপনার আমার সবার জন্যেই ক্ষতিকর । ছদ্মবেশে মানুষ আমরা তাকেই বলছি যারা ভিতরে বাহিরে অন্যরকম । আপনি কি এমন কাউকে চেনেন যে কিনা সব কিছুতেই দোষ খুঁজে বেড়ায় । কোন কিছুতে ভালো চিন্তা করার আগে খারাপ চিন্তা করে বসে । তাহলে বলছি সে ব্যক্তি থেকে এখনই সাবধান হয়ে যান । এসকল মানুষের সংস্পর্শে আসলে আপনি নিজেও নেতিবাচক চিন্তাধারার অধিকারী হতে পারেন । তাই নিজের ভালো কথা চিন্তা করি ছদ্দবেশী মানুষ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন ।

 

সমালোচনা এড়িয়ে চলুন – সমালোচনা আমাদের প্রত্যেকেরই স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য । তবে কেউ খারাপ সমালোচনা করে কেউ ভালো সমালোচনা করে । তবে আমাদের প্রত্যেকেরই গঠনমূলক সমালোচনা কাম্য । এমন অনেক ছেলেমেয়েরাই আছে যারা সব সময় অন্যের সমালোচনা মগ্ন থাকে । এরা প্রত্যেকের জন্যই ভয়ংকর রোগ যেকোনো সময় ধারণ করতে পারে । এরা পারেনা মানুষকে সমর্থন করতে । গসিপ আপনার কাছে অনেক সময় রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে । তবে মনে রাখবেন আপনি আজকে তাদের সাথে অন্যের সমালোচনা করলেন , ঠিক তারাই সেই ব্যক্তিটি কে নিয়ে আপনার সমালোচনা করবে । তাই বলছি সমালোচনা যথা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন ।

 

নিজেকে জিজ্ঞেস করুন – আমরা প্রত্যেকেই নিজের কাছে পরিষ্কার । আমরা খুব ভালো করেই জানি আমাদের ঠিক কোন মানুষগুলির সঙ্গে পরিচয় । তারা ভালো নাকি খারাপ । তার আপনার বিপদের কারণ হবে কিনা এটিও অনেক সময় জানা যায় । তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন আজ আপনি যাকে বন্ধু বলছেন দুদিন পর সে আপনার শত্রু হবার কোন কারণ নেই তো । সেই ব্যক্তিটি বন্ধুত্ব ভেঙ্গে দিতে এতোটুকু কি দ্বিধা বোধ করে । বলা হয়ে থাকে নোংরা পরিস্কার করতে গেলে আপনি নিজেই নোংরা হয়ে যাবেন । তাই নোংরা পরিষ্কার না করে নোংরা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন । সবাই বন্ধু হতে পারেনা । কিছু মানুষ আছে যারা বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে শুধুই মজা করবে ।

 

খারাপ সম্পর্ক গুলো একেবারেই শেষ করুন – এমন কোন সম্পর্ক আছে যা আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক স্বাস্থ্য দুধু কি প্রভাব বিস্তার করছে । তাহলে আপনার সেই খারাপ সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসা অত্যন্ত জরুরী । তাই বলছি বিষাক্ত সম্পর্কগুলি সম্পূর্ণরূপে শেষ করুন । আপনি খারাপ সম্পর্কে জড়িয়ে থাকলে তা আপনার ধীরে ধীরে অনেক বড় ক্ষতি করবে । তাই খারাপ সম্পর্ক একেবারেই শেষ করে দিলে তা অল্প কষ্টে শেষ হয়ে যাবে । না হলে সারা জীবন আপনাকে সে খারাপ সম্পর্ক বহন করতে হবে ।

 

নিজেকে প্রাধান্য দিন – আপনার চাহিদা এবং মনের বাসনা গুলো সবার আগে স্থান দিন । আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি ? আপনি আপনার জীবন থেকে ঠিক চান ? অন্য মানুষ কি চিন্তা করবে সে গুলোকে মাথায় না রেখে আপনি ঠিক কী চান তার পক্ষে নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন । আপনার সবকিছু মেনে নিয়ে যে মানুষগুলো আপনার সাথে থাকবে মনে রাখবেন সেই মানুষগুলোই আপনার প্রকৃত বন্ধু, আর যারা আপনার ভাল দিক গুলো মেনে নিতে পারবে না তাহলে মনে রাখবে সেই মানুষগুলোই আপনার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে

 

নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিজ – বলা হয়ে থাকে নিজের বুদ্ধিতে ফকির হওয়া অনেক ভালো । খুব কম মানুষই আছেন যারা আপনার ভালো চাইতে পারে । তাই খুব কাছের মানুষ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে অন্য কারো পরামর্শ নেবেন না । কেননা এতে আপনার ভালো থেকে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । আচ্ছা ধরুন তো আপনাকে যদি বলা হয় আপনার জীবন এমন জায়গায় পৌঁছে যান অন্য কেউ চেয়েছে । তাহলে এই বিষয়টিকে আপনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারব । আমি জানি আপনি তা পারবেন না । তাই বলছি যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করুন ।

 

ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন – ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকলে আপনি নিজেও ভালো হবেন । বলা হয়ে থাকে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ । সেই সকল মানুষগুলির সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন যারা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা অধিকারী যারা সবসময় হাসিখুশি থাকে এবং ভালো কাজ কর্মে নিজেকে জড়িয়ে রাখে । এ সকল মানুষ বলেই তারা আপনি নতুন কিছু শিখতে পারবেন এবং জানতে পারবেন । এই সকল মানুষগুলি কখনোই কারো ক্ষতি করতে পারে না ।

 

ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করুন – ইতিবাচক প্রত্যেকের চরিত্রে থাকেনা । এই বিষয়টি অর্জন করতে হয় । এমন অনেক মানুষ ই আছেন নেতিবাচক চিন্তা করতে করতে তাদের জীবন নেতিবাচকে তলিয়ে যায় । তাই নেতিবাচকতা পরিহার করুন । আর নিজের মধ্যেই ইতিবাচকতা ধারণ করুন । সব সময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন । মানুষের প্রশংসা করুন মানুষকে ধন্যবাদ বলার বিষয়টি নিজের মধ্যে ধারণ করুন । ভালো মানুষ হওয়া খুব কঠিন কিছু নয় , বরং খারাপ হতে আপনাকে অনেক অনেক খারাপ কিছু করতে হয় । আর ভালো হওয়ার জন্য খারাপ দিক গুলো পরিহার করলেই চলে ।

 

পরিবারকে সময় দিন – বর্তমান যুগে পরিবারকে সময় না দেয় এটা ট্রেডিশনে পরিণত হয়েছে ।
আরে পরিবারকে সময় না দেয়ার কারণে অনেক সামাজিক অপরাধ বেড়ে গেছে । এমন কি সামাজিক দায়বদ্ধতা গুলো মানুষ ভুলে গেছে । আপনি যত পরিবারের সময় দিবেন আপনার বাহিরে বের হওয়ার প্রবণতা ততটাই লোপ পাবে । ফলে আপনি তত খারাপ মানুষের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকবেন । এমনকি পরিবারের সময় দেয়ার ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন । যা আপনার পরবর্তীতে কাজে লাগবে । তাই বলছি যতটা পারেন পরিবারকে বেশি বেশি সময় দেয়ার চেষ্টা করবেন

আশা করি আমাদের আজকের এই ব্লগ থেকে আপনি খানিকটা উপকৃত হবেন । আপনি যদি মনে করেন আপনি কিছুটা উপকৃত হয়েছেন তাহলে আপনার পরিবার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করুন । ধন্যবাদ

3 thoughts on “কিভাবে খারাপ মানুষ থেকে দূরে থাকা যায় ( How to stay away from bad people )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *