বাসায় শারীরিকভাবে ফিট থাকার উপায় ( Ways to stay physically fit at home )

বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যই সম্পদ । কিন্তু এই সংকটকালীন মুহূর্তে আমাদের অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন । এর অন্যতম কারণ হলো ঠিকঠাক শরীরের যত্ন না নেয়া কিংবা ব্যায়াম না করা অথবা ফিটনেসসেন্টার গুলো বন্ধ থাকা ।আবার আমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা ফিটনেস সেন্টারে গিয়ে শরীর ফিট রাখবেন এমন অর্থ কিংবা খরচের ব্যয় বহন করতে চান । কিন্তু তাই বলে কি সেই সকল মানুষগুলো শারীরিকভাবে আনফিট থাকবেন । না একেবারেই না তাদের জন্য রয়েছে বিকল্প পদ্ধতি । আপনি বাসায় নানাভাবে আপনার শরীরকে ফিট রাখতে পারেন । এর জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে না কোনো অর্থ কিংবা যেতে হবে না আপনার বাসার বাহিরে । আপনি বাসা থেকে নিজের শরীরের যত্ন নিতে পারেন এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকতে পারেন । আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্ট থেকে আমি আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব, আপনি বাসা থেকে আপনার শরীরকে কিভাবে ফিট রাখবেন চলুন তাহলে দেরি না করে শুরু করা যায় ।

 

কিভাবে বাসায় নিজেকে ফিট  রাখবেন

 

✅দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন – আমাদের কোন কিছু পরিবর্তনের জন্য শুরুতেই যে বিষয়টি জরুরি তা হল আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা । আমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব বিস্তার করে । আর তাই আমাদের কোন কিছুর পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি আমরা করতে পারি না । পরিবর্তন-এ থাকে বাঁধা থাকে নানা ধরনের বিপত্তি । আপনি যদি আপনার শারীরিক কোনোোো পরিবর্তন চান তাহলে আপনাকেেে শুরুতেই আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতেে হবে । দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া আপনি কখনোই আপনার শারীরিক কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন । তাই আপনার শারীরিক কোনো উন্নতির জন্য প্রথমে আপনাকে মনস্থির করতে হবে যে আপনি আপনার শারীরিক উন্নতি করতে পারেন । কখনোই হতাশ হবেন না । আপনি বাসায় দু’একদিন ট্রাই করে হাল ছেড়ে দেবেন । এতে আপনার মনোবল ভেঙ্গে যাবে এবং আপনি পিছিয়ে যাবে । আর তাছাড়া শারীরিক পরিবর্তন দু’একদিনে দিনে কখনোই সম্ভব নয় । আপনাকে এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে ।

 

✅পরিকল্পনা করা – কোন কিছুতে পরিকল্পনা ব্যতীত কোন অর্জন সম্ভব নয় । আর তাই আপনাকে অবশ্যই কিছু করার জন্য পরিকল্পনা করতে হবে সুষ্ঠু হবে । পরিকল্পনায় কোনরকম গরমিল থাকা যাবেনা । আপনার শারীরিক উন্নতির জন্য আপনাকে এক ধরনের পরিকল্পনা করতে হবে । তবে আপনি যদি আপনার শারীরিক উন্নতির জন্য পরিকল্পনা করতে না পারেন অর্থাৎ কিভাবে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পরিকল্পনা করবেন তার না জানেন তাহলে আপনি চাইলেই অন্য কারো পরামর্শ নিতে পারেন । অথবা আপনি নিজে পরিকল্পনা করে কাউকে দেখাতে পারেন যে আপনার পরিকল্পনাটি ঠিক হয়েছে কিনা । কিন্তু অবশ্যই তাকে দেখাবেন সে তা সম্পর্কে জ্ঞান আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখবেন । পরবর্তীতে আপনাকে অবশ্যই পরিকল্পনা করে বসে থাকলে চলবে না আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনাকে কাজ করে যেতে হবে আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে আপনাকে সময় দিতে হবে ।

 

✅রুটিন তৈরি করা – স্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য কিংবা বাসায় আপনার শারীরিক ভাবে সুস্থতার জন্য অবশ্যই অবশ্যই রুটিন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি । রুটিন ছাড়া কোনভাবেই আপনি বাসায় শারীরিকভাবে ফিট থাকতে পারবেন না । যেমন ধরুন আপনি রুটিন ছাড়া সারা দিনরাত ঘুমাচ্ছেন অথবা বেশি বেশি খেয়ে ফেলছেন । আপনি জানেনই না এই বিষয়গুলো আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর । তাই অবশ্যই আপনাকে রুটিন তৈরি করতে হবে । আপনি কতটুকু সময় খাবেন কতটুকু সময় ঘুমাবেন এবং কতটুকু বিশ্রাম নেবেন কিংবা ব্যায়াম করবেন ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনার রুটিনে লিপিবদ্ধ থাকবে । আর যখন আপনি কোন রুটিন এর আওতায় চলে আসবেন আপনাকে আপনার মধ্যে একটা পরিবর্তন চলে আসবে আপনি বুঝতেই পারবেন না কীভাবে আপনি নিজেকে পরিবর্তন করেছেন ।

 

✅পোশাক পরিবর্তন – আমাদের বাসায় অনেকেরই নানা ধরনের পোশাক রয়েছে পরিধানের জন্য । আমরা সাধারণত বাসায় চেষ্টা করি সাধারণ কাপড় পড়ে আরামদায়ক কোন অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য । আমরা অবশ্যই তা খেয়াল রাখি যে আমাকে না আরাম পাই । আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে বাসায় এমন কাপড় পড়ে যে আমাদের কষ্টের কারণ হয় । কিন্তু আপনি বাসায় যে কাপড় পড়ে থাকে সে কাপড় পড়ে আপনি ব্যায়াম করতে পারলেও তা পরিবর্তন করা উচিত । কেননা আপনি বাসায় যে কাপড় পরিধান করে আছেন তা পড়ে থাকলে আপনার ব্যায়াম করার মন-মানসিকতা নিজের মধ্যে তরি নাও হতে পারে । কিন্তু তাই বলে আমি আপনাদের নতুন কাপড় ক্রয় করতে বলছি না । জাস্ট একটা পরিবর্তিত পোশাক যা শুধুমাত্র আপনার ব্যায়ামের কাজেই ব্যবহৃত হবে । যে কাপড় পড়লে আপনি নিজেকে ব্যায়াম করার উপযুক্ত বলে মনে করবেন । এছাড়া আপনি বাসায় যে সকল কাপড়গুলো পরিধান করেন সে সকল কাপড় গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করবেন । একই কাপড় বারবার পরিধান করবেন না এতে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আপনি পড়তে পারেন । আর এইদিকে আপনার বিশেষ লক্ষ্য দেয়া উচিত ।

 

✅খাবারের পরিবর্তন – লক টাউনের এই সময়ে আমাদের অনেকেই রয়েছেন যারা খুব বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলছি । যা আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে । আমাদের কোনক্রমেই খুব বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলা উচিত নয় । আমরা যদি নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট রাখতে চায় তাহলে অবশ্যই আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার খেতে হবে ‌। আর খেয়াল রাখতে হবে আমরা যে সকল খাবার খাচ্ছি তা কোনোভাবেই আমাদের শরীরের ক্ষতি করছে কিনা । আর আমরা যে খাবারগুলো খাচ্ছি তা আমাদের শরীরের জন্য যথেষ্ট কিনা অর্থাৎ যা খাচ্ছি তা পুষ্টিগুণসম্পন্ন কিনা তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ।

 

✅ব্যায়াম করার জন্য নিজেকে তৈরী করুন – আমরা বাঙালি জাতি সত্যিই অলস একটি জাতি । এ কথাটি শুনতে খারাপ লাগলেও এ কথাটি সত্যি তা আপনি আমি সকলে জানি । আমরা পরিশ্রম করতে একদমই পছন্দ করিনা তবে পছন্দ করি আরাম করতে । আর তাইতো ব্যায়ামের কথা শুনলেই আমাদের অভক্তি এবং অরুচি চলে আসে । আমরা ভাবি যে, যে সময়টুকু আমরা ব্যায়াম করব সে সময়টুকু আরাম করলে আমাদের জন্য ভাল । এ ধারণা আমাদের একদমই ভুল । আর এধরনের কাজ আমাদের করাটা একেবারেই উচিত নয় । আপনি যখন বাসায় সারাক্ষণ শুধু বসে থাকবে তখন আপনার মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিবে এটাই স্বাভাবিক । এছাড়া আপনার খাবার দাবার হজমের জন্য আপনি নানা ধরনের ব্যায়াম করতে পারেন । প্রেম মানে আমি জিমে ভারী কোন ব্যায়াম এর কথা বলছি না । আপনি বাসায় সাধারণ ব্যায়াম করে নিজেকে ফিট রাখতে পারে । যেমন ধরুন ওঠাবসা করা হাঁটাহাঁটি করা বা ইন্টারনেটের নানা ধরনের হোম ওয়ার্কআউট গুলো আপনি করতে পারেন । তবে অবশ্যই আপনি যে ব্যায়াম করুন না কেন তা নিয়মিত ভাবে আপনাকে করে যেতে হবে । বাদ দিলে চলবে না । বরং বাদ দিলেই আবার আপনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

 

পরিশেষে একটি কথাই বলবো যে আমাদের অবশ্যই নিজের শরীরের যত্ন যথাযথভাবে নেয়া প্রয়োজন । না হলে আমরা অল্প বয়সেই অসুস্থ হয়ে পড়বো । তাই শারীরিক সুস্থতার জন্য হলো আমাদের শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে । আর যখন আমরা শারীরিকভাবে ফিট থাকব তখন আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে আমাদের মনবল উপরে উঠবে এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠব । তাই বলছি চলুন আজ থেকে শুরু হয়ে যায় আপনার শরীরকে ফিট রাখার অভিযোগ ।আমাদের আজকের এই ব্লগ পোস্টে যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ ।

One thought on “বাসায় শারীরিকভাবে ফিট থাকার উপায় ( Ways to stay physically fit at home )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *